সোমবার ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বাফুফে বসকে যে নির্দেশনা দিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট

অক্টোবর ১৭, ২০১৯ | ১০:৩১ অপরাহ্ণ

জাহিদ-ই-হাসান, স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একদিনের সৌজন্য সফর বাংলাদেশে। এ নিয়ে পুরো দেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে একটুতো কৌতুহল। ফিফা বসের এই সংক্ষিপ্ত সফরকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছেন। দেশের ফুটবল নিয়ে আশাবাদী ইনফান্তিনো ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও ঘণ্টাখানেক আলোচনা করেছেন। সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিজ্ঞাপন

তাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দেশের ফুটবল। এ সফর থেকে কী আদায় করে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ।

একদিকে ফিফা প্রেসিডেন্ট নিজেই বাংলাদেশ ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যত দেখছেন। সঙ্গে ভবিষ্যতটা উজ্জ্বল করতে কিছু নির্দেশনাও দিয়ে গেছেন দেশের সর্বোচ্চ ফুটবল অভিভাবককে। বাফুফে বস ও সাফের প্রেসিডেন্ট কাজী সালাউদ্দীনকে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- দেশের ফুটবল উন্নয়নে কর্ম-পরিকল্পনা করে সেগুলো জমা দিতে বলেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট। বয়সভিত্তিক থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল নিয়ে কাজ করতে বলেছেন। ফিফার কাছে সেগুলো পাঠানোর নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। দেশের জনগণের মধ্যে তিনি যে উন্মাদনা দেখেছেন সেই জায়গা থেকে উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করে কোথায় কাজ করতে হবে সেটাও বাতলে দিয়েছেন ফিফার প্রেসিডেন্ট।

বিজ্ঞাপন

তবে এটা যে সৌজন্য সাক্ষাত সেটাই আগেই বলে দিয়েছে বাফুফে। এখান থেকে লাভ-ক্ষতির চেয়ে আতিথীয়তার দিকেই নজর ছিল দেশের সর্বোচ্চ অভিভাবকদের। অবশ্য ফিফা প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা নিয়ে সবাই একসাথে কাজ করার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন কাজী সালাউদ্দীন, ‘আমাকে বলে নাই যে ফেডারেশনের উন্নয়ন করতে হবে। আমাকে বলেছেন
বলেছেন পরিকল্পনা করতে। এগুলো নিয়ে কাজ করতে। তখন ফিফা-সাফ এবং বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

সঙ্গে বাফুফে বস এও জানালেন তার অবশিষ্ট মেয়াদে এই পরিকল্পনাগুলো নিয়ে কাজ করা অসম্ভব, ‘আমার যে সময় বাকী আছে সভাপতি হিসেবে সেই সময়ের মধ্যে এগুলো নিয়ে কাজ করা কোনভাবেই সম্ভব না।’

সম্প্রতি দেশের বয়সভিত্তিক দলগুলো সাফল্য পাচ্ছে। জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আশার আলো দেখাচ্ছে। দেশের এই সাফল্যে রোমাঞ্চিত ফিফা প্রেসিডেন্ট। সাফল্যের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে তৃণমূল নয় বরং জাতীয় দলে বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী সালাউদ্দীন জানালেন, ‘আপনি কিন্তু আগেও দেখেছেন বাফুফের সভাপতি হিসেবে আমি জাতীয় দলের জন্য বেশি খরচ করেছি। তখন আপনারা পছন্দ করেন নাই। ওই বিনিয়োগ করেছি বলেই আজকে রেজাল্ট আসছে। শুধু ন্যাশনাল টিমে করলে হবে না, জুনিয়রে করলে হবে না। এটা যৌথভাবে হতে হবে।’

দেশের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সাম্প্রতিক সফলতা সম্পর্কে আগেই খোঁজ পেয়েছেন ফিফার কার্যনির্বাহী কমিটি সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণের কল্যাণে। বয়সভিত্তিক ও মেয়েদের ফুটবলে উন্নয়নে জোর দেয়ার কথা জোর দিয়ে বললেন ইনফান্তিনো, ‘মেয়েদের ফুটবলে বিনিয়োগ করতে আমি উৎসাহিত করি। কেননা, মেয়েদের ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা এখনও অতটা কঠিন নয়। ইউরোপে ছেলেদের ফুটবল যতটা কাঠামোবদ্ধ, মেয়েদের ফুটবল ততটা নয়। তাই মেয়েদের ফুটবলে তুলনামূলক দ্রুত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছানোর সুযোগ আছে। আর আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ তা পারবে।’

দেশের ফুটবলের ভবিষ্যত দেখছেন ইনফান্তিনো। দেখছেন অপার সম্ভাবনা। ভূয়সী প্রশংসার পাশাপাশি কীভাবে ভবিষ্যত বদলাতে হবে সেটাও জানিয়ে দিলেন। হাত দিতে হবে দেশের ফুটবলের তৃণমূল পর্যায়ে। কাজ করতে হবে বয়সভিত্তিক ফুটবলে।

বাংলাদেশ থেকে যেতে যেতে তিনি বলে গেলেন- ‘এখানে আমি যে উন্মাদনা দেখলাম, তাতে আমি মনে করি ফুটবলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।’

ভবিষ্যত উজ্জ্বল করতে তৃণমূলে কাজ করাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি এটা সবসময় বলে আসছেন দেশের ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন