সোমবার ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘২০২১ সালের মধ্যে বিপিও খাতে আরও ৫০ হাজার কর্মসংস্থান’

অক্টোবর ১৮, ২০১৯ | ২:১০ অপরাহ্ণ

রাজনীন ফারজানা

তানজিরুল বাশার, মাই আউটসোর্সিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (BACCO) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) খাতের যাত্রার শুরু থেকেই আছেন এই খাতের সঙ্গে। রয়েছে এই খাতে প্রায় ১৯ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা। যুক্তরাজ্য থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে বাংলাদেশে কাজ শুরু করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে প্রথম মোবাইল ইন্টারনেট wap (wireless application protocol) প্রজেক্টেও কাজ করেছেন তানজিরুল বাশার। ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম ওয়েব পোর্টাল বাংলাদেশ ইনফো ডটকমের সঙ্গেও যুক্ত। ২০০৯ সাল থেকে বিটিআরসি কল সেন্টারের লাইসেন্স দেওয়া শুরু করলে তিনি আইটি এনাবলড সার্ভিস, সল্যুশনস ও সার্ভেইল্যান্স নিয়ে কাজ শুরু করেন। এরপর ২০১২ মাই গ্রুপে সহপ্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু করেন মাই আউটসোর্সিং লিমিটেডের যাত্রা। দেশের বিভিন্ন খাতের বড় বড় কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার ও ব্যাক অফিস সার্ভিস দিয়ে চলেছেন তারা। দেশের মধ্যে শতাধিক, আর দেশের বাইরে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে তার মাই আউটসোর্সিং। তারা জাতীয় কল সেন্টার ৯৯৯ প্রকল্পেরও সল্যুশন পার্টনার।

সারাবাংলার সঙ্গে এক একান্ত আড্ডায় তানজিরুল বাশার বলেন, ‘আমরা অনেকটা গর্বের সঙ্গেই বলতে চাই, বাংলাদেশের অনেক নামি-দামি প্রতিষ্ঠানের ব্যাক অফিসগুলো হ্যান্ডল করছি আমরা। তাদের তৈরি সল্যুশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানিকে হোস্টেড বেসিস সার্ভিস দিচ্ছি। বাংলাদেশের অনেক নামি হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডেস্ক ও কাস্টমার সার্ভিসের জন্য মাই আউটসোর্সিংয়ের ডেভেলপ করা সল্যুশন ব্যবহার করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের কাস্টমাইজড অ্যাপস ও ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ভ্যাস) দিয়ে থাকে মাই আউটসোর্সিং। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে স্নাতক উত্তীর্ণ তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিতে এসআইপি বা সিপ নামের প্রকল্পও তারাই পরিচালনা করে আসছেন। শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়াই নয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা সহায়তা করছেন।

বিপিও নিয়ে কাজ শুরু করার পেছনের গল্পটা বলছিলেন তানজিরুল বাশার। শুরু থেকেই আইটি রিলেটেড সার্ভিস, নতুন নতুন প্রযুক্তি অনেক আকর্ষণ করত তাকে। তাছাড়া এই খাতের বিপুল সম্ভাবনার কথাও মাথায় ছিল তার। বাশার বলেন, ‘প্রতিবছর যে পরিমাণ গ্র্যাজুয়েট বের হয়, তাদের সবার কর্মসংস্থান সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব না। তাই বেসরকারিভাবে অনেককেই এগিয়ে আসতে হবে। সেই জায়গা থেকেই বিপিও নিয়ে কাজ শুরু করি। শুরুর দিকে ভাবনা ছিল এক বা দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারলেও তাতে করে এক বা দুই হাজার পরিবারের জন্য সাপোর্ট তৈরি হবে।’

তবে সেই ভাবনা থেমে থাকেনি দুয়েক হাজারের গণ্ডিতে। বাশার বলেন, ‘এমনকি আমার এখানে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আরও নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। এটি একটি চেইন ইফেক্ট, যা অর্থনীতিতে বেশ বড় একটা অবদান রাখছে।’

মাই আউটসোর্সিংয়ের যাত্রা

তিন জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু মাই আউটসোর্সিংয়ের। এখন কর্মীর সংখ্যা প্রায় চারশ। এখানে নানারকম দক্ষতাসম্পন্ন তরুণরা কাজ করছেন। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য কাজের একটা সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়। এভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ জন ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড তরুণ কাজের সুযোগ পেয়েছেন এখানে। বর্তমানে বিশেষভাবে সক্ষম কর্মী আছেন পাঁচ জন— কাস্টমার কেয়ার, ডেটা এন্ট্রি, ব্যাক অফিস সাপোর্টে কাজ করছে তারা।

মাই আউটসোর্সিংয়ের কর্মীরা চার ধরনের সার্ভিস প্রোভাইড করে থাকেন— ভয়েস, নন-ভয়েস (ডেটা অ্যানালাইসিস, সার্ভে, অ্যানালিটিকস ইত্যাদি), বিভিন্ন কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার (ব্যাক অফিস সাপোর্ট) ও হেলথ কেয়ার সার্ভিস (চিকিৎসক, সাইকোলজিস্ট, নিউট্রশনিস্টদের একটি টিম) এবং রিমোট সার্ভেইল্যান্স মনিটরিং।

বাশার জানান, তার প্রতিষ্ঠানের ৬০ শতাংশ কর্মীই নারী, বাকি ৪০ শতাংশ পুরুষ। তবে তাদের কেউই বিশেষ কোনো বিবেচনায় নয়, বরং নিজ নিজ যোগ্যতাতেই কাজ করছেন। বাশার বলেন, ‘এটি ইচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। আমরা কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতাকে প্রাধান্য দেই। তিন ধাপের পরীক্ষা দিয়ে তবেই একজন কর্মী নিয়োগ পায়। লিখিত ও মৌখিক সাক্ষাৎকারের পর ভয়েস টেস্ট থাকে। সব ধাপ পেরিয়ে যারা উত্তীর্ণ হন, তারাই কাজের সুযোগ পান। এখানে নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ আমরা করি না।’

বিপিও খাত ও বাংলাদেশ

খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তি। আর গোটা বিশ্বেই এখন বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও ইন্ডাস্ট্রি ছড়িয়ে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো অনেকটাই এগিয়ে আছে। বাশার বলছিলেন, বৈশ্বিক বিপিও খাতের বাজার প্রায় ৫৫০ বিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যে ভারত একাই প্রায় ১০৮ বিলিয়ন ডলারের বাজার দখল করে রেখেছে। এছাড়া ফিলিপাইনের দখলে রয়েছে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলারের বাজার। শ্রীলঙ্কাও প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের কাজ ধরে রেখেছে। সেখানে আমরা মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের কাজ করতে পারছি। তবে সঠিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারলে বিপিও খাত থেকে বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স দেশে নিয়ে আসা সম্ভব।

দুই বছরে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান

তানজিরুল বাশার জানান, ভয়েস ছাড়াও ব্যাক অফিস সাপোর্ট বা ডেটা প্রসেসিংসহ নন-ভয়েসের বড় বাজার রয়েছে। গত কয়েক বছরে এরই মধ্যে এসব কাজে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে বিপিও খাত যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে ২০২১ সালের মধ্যে, অর্থাৎ আগামী দুই বছরে আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তারা তৈরি করতে পারবেন। এই হিসাবটাও শুধু দেশের বর্তমান বাজার বিবেচনায়। সঠিক কৌশল নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে পারলে কর্মসংস্থানের পরিমাণ যে আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে, তাতে সন্দেহ নেই তানজিরুল বাশারের।

কিন্তু দেশের বাইরের বিশাল বাজার ধরতে কি আমরা প্রস্তুত— এমন প্রশ্নের জবাবে বাশারের উত্তর, বিপিও ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে সরকারের দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন শহরে হাইটেক পার্ক তৈরি হচ্ছে। এরই মধ্যে যশোরে শেখ হাসিনা হাইটেক পার্ক তৈরি করা হয়েছে। এই হাইটেক পার্কের পরিকল্পনা সফল হলে অনেক তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করি।

হাইটেক পার্ক তো দেশের ভেতরের বিষয়, আন্তর্জাতিকভাবে বিপিও খাতে সক্ষম দেশ হিসেবে ব্র্যান্ডিং বড় সুযোগ এনে দিতে পারে বলেই মত বাশারের। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা ইন্ডাস্ট্রি লিডার আছি, তারা বিভিন্ন আন্তার্জাতিক মেলায় অংশ নিয়ে আমাদের দক্ষতা, অবকাঠামো, সামর্থ্য ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছি। নানারকম ওয়ার্কশপ, সেমিনার আয়োজন করছি। এমনকি কয়েক বছর ধরে বিপিও সামিট হচ্ছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক তরুণ অংশ নিচ্ছেন। এখানে দেশি-বিদেশি ক্লায়েন্টারা আসছেন, বিপিও নিয়ে কাজ করছেন এমন বিশেষজ্ঞরা আসছেন। দেশের বাইরেও বিপিও নিয়ে বড় বড় সম্মেলনে যদি বাংলাদেশকে সঠিকভাবে তুলে ধরা যায়, সেটা আমাদের বাজার ধরতে সুবিধা করে দেবে। এর জন্য সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে।

যেখানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

এই খাতে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার কারণ তুলে ধরে বাশার বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো যেখানে আশির দশকে কাজ শুরু করেছে। তাদের প্রায় দুই দশক পরে আমরা এই খাতে প্রবেশ করেছি। এটি একটি বড় কারণ। এছাড়া আমাদের নানা ধরনের অবকাঠামোগত দুর্বলতাও রয়েছে। যেমন— সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হতে আমরা দেরি করেছি, যা আমাদের অন্য দেশগুলোর তুলনায় অন্তত ১০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে বাশার বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও বিপিও খাতের উপযোগী নয়। এখানে দক্ষতা উন্নয়ন বা সমৃদ্ধির সুযোগ নেই। ভারত কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে, প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করে আজ ১০৮ বিলিয়ন ডলার বাজার ধরার অবস্থানে পৌঁছেছে। আবার ফিলিপাইনের যে ২৬ বিলয়ন ডলারের বাজার, এর প্রধান অংশই ভয়েস মার্কেটের। এর কারণ, তাদের শিক্ষাব্যবস্থায় হাই স্কুল থেকেই আইটি-বিপিও নামের একটি বিষয় পড়তে হয়। এভাবে ৫ থেকে ৬ বছরের ট্রেনিং শেষে কে ভয়েসে ভালো আর কে নন-ভয়েসে ভালো, সেই অনুযায়ী তাদের চাকরির সুযোগ তৈরি হয়। শ্রীলঙ্কা আবার নন-ভয়েস ও অ্যাকাউন্টিংয়ে কেপিও বা নলেজ বেজড আউটসোর্সিংয়ে এগিয়ে রয়েছে অনেকটাই। এমনকি তাদের যখন গৃহযুদ্ধ চলছে, তখনো তরুণরা ঘরে বসেই এসিসিএ, অ্যাকাউন্টিং ইত্যাদি পরীক্ষা দিয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করেছে। এভাবেই তারা ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে কর্মী নিয়োগের আগে তার প্রশিক্ষণের জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। তিন-চার থেকে ছয়-সাত মাস পর্যন্ত সময় দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে একজন দক্ষ কর্মীকে ধরে রাখাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

নারী-পুরুষ সমতা না থাকার বিষয়টিকেও বিপিও খাতে পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ মনে করেন বাশার। তিনি বলেন, ভারতে একটি শহরে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সাড়ে তিন লাখ ব্যক্তি কাজ করছেন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু বাংলাদেশে আমাদের ছেলে-মেয়েদের সক্ষমতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ও সামাজিক ইস্যুতে পিছিয়ে পড়ছি আমরা। এখানে প্রতিষ্ঠান যেমন নারীদের রাতে কাজ করার উপযোগী নিরাপত্তা দিতে পারছে না, তেমনি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব না নেওয়ার কারণে পরিবার থেকেও সমর্থন মিলছে না। এটাও কিন্তু আমাদের পিছিয়ে পড়ার একটি কারণ। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রথম পরিবর্তনটা আনতে হবে মানসিকতায়— এমনটিই মনে করেন এই আইটি উদ্যোক্তা।

শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে বিপিও

তানজিরুল বাশার মনে করেন, বিপিও খাতে এগিয়ে যেতে হলে বিপিও’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে শিক্ষাক্রমে যুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা আইসিটি ডিভিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছি, শিক্ষা ব্যবস্থায় যেন আইটি এনাবলড বা বিপিও সংশ্লিস্ট বিষয় যুক্ত করা হয়। যারা এসব বিষয় পড়ে আসবে, তারা স্নাতক হতে হতেই বিপিও মার্কেটের জন্য কর্মী হিসেবে তৈরি হয়ে যাবে, সরাসরি জব মার্কেটে ঢুকতে পারবে।’

বাশার বলছিলেন, ‘বিপিও ইন্ডাস্ট্রিতে দুই ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে— ভয়েস আর নন-ভয়েস। ভয়েস মার্কেট মূলত ডমিনেট করছে ফিলিপাইন, নন-ভয়েসে শ্রীলঙ্কা ও ভারত। আমরা নন-ভয়েসে শুরু করেছিলাম। ভয়েসের জন্য যেটুকু ভাষাগত দক্ষতার প্রয়োজন, সেখানেও আমরা পিছিয়ে পড়েছি শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটির কারণে। আমাদের এখানে ইংরেজিটা গ্রামার-নির্ভর। তাছাড়া ইংরেজি বলার চর্চা বা সুযোগ একেবারেই নেই। কিন্তু যারা শুদ্ধভাবে ইংরেজি বলতে পারে, তাদের জন্য বিপিওতে বড় বাজার রয়েছে। তাই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় যদি স্পোকেন ইংলিশের কোর্সও থাকে, আমরা এই ভয়েস মার্কেটের জন্য ভালো কর্মী তৈরি করতে পারি। আমার অভিজ্ঞতা বলে, ভারত কিংবা ফিলিপিনের তুলনায় আমাদের দেশের ইংলিশ স্পিকিং ব্যক্তিদের উচ্চারণ আন্তর্জাতিকভাবে অনেকটাই বেশি গ্রহণযোগ্য।

বিকেন্দ্রীকরণে সম্ভাবনা

দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণদের কর্মসংস্থান ঢাকাকেন্দ্রিক না হয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বাশার। বিপিও ইন্ডাস্ট্রি সারাদেশের বিভাগীয় বা জেলা শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় তরুণদের লেখাপড়া শেষ করে আর চাকরির জন্য ঢাকা আসতে হবে না।

তানজিরুল বলছিলেন, আমরাও ঢাকার বাইরে যেতে চাই। কারণ, ঢাকা অনেক বেশি ব্যয়বহুল। স্থানীয় পর্যায়ে যেমন— যশোরেও যদি আমি অফিস করি, তাহলে তাকে ঢাকার চেয়ে কম বেতনে নিয়োগ দিতে পারব। কারণ, সেখানে ঢাকার তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় কম। এতে প্রতিষ্ঠান ও কর্মী দু’পক্ষই লাভবান হয়। আবার ক্লায়েন্টদের আরও কম খরচে সার্ভিস দেওয়া সম্ভব।

তবে চাইলেই তানজিরুল বাশার বা তার মতো উদ্যোক্তারা ঢাকার বাইরে যেতে পারছেন না এখনই। বাশার বলেন, যেতে পারছি না, কারণ সেখানে আমি যথেষ্ট পরিমাণ দক্ষ লোক পাচ্ছি না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যত বেশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে উঠবে, তত বেশি আমাদের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অফিস শিফট করা সহজ হবে। এটা সার্বিকভাবে আমাদের বিপিও খাতের জন্যও বড় সম্ভাবনা তৈরি করবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরএফ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন