বিজ্ঞাপন

ক্যাসিনো সেলিম ও ২ সহযোগী তৃতীয় দফায় রিমান্ডে

October 18, 2019 | 5:56 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর গুলশান থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনোর মূল হোতা সেলিম প্রধান ও তার দুই সহযোগীর ফের তিন দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার এ রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডের আওতায় বাকি দুই আসামি হলেন— আক্তারুজ্জামান ও রোমান।

এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১-এর ‍উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হারুন আর রশিদ মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করেন। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ফের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন: অনলাইন ক্যাসিনো থেকে মাসে সেলিম প্রধানের আয় ৯ কোটি টাকা

এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবী ইয়াসমিন জাহান নিশাত ও ইয়াসিন আরাফাত ভূইয়াসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষের সহাকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।

বিজ্ঞাপন

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিদের দখল থেকে ২৩ আইটেমের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪০ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। আসামিরা আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি দলের সক্রিয় সদস্য, প্রশাসনের চোক ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সময় বিদেশ ভ্রমণ করেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কৌশলে দেশে-বিদেশে মাদকদ্রব্য আনা নেওয়া করেন। এ মাদক সিন্ডিকেটের কার্যকারিতা নির্মূলের স্বার্থে ও তাদের বাকি সহযোগী পৃষ্ঠপোষকদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করতে ফের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: মাফিয়াদেরও মাফিয়া ছিলেন ‘ক্যাসিনো সেলিম’

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে রিমান্ড বাতিল ও জামিন প্রার্থনার শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, মাদক মামলায় এর আগে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। মাত্র ৪০ বোতল মদ পাওয়া গেছে। ফের রিমান্ড চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। দ্বিতীয় দফায় ৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল আসামিদের। তাদের আর নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ বা উদ্ধারের কিছু নেই। তাছাড়া আসামি সেলিম শারীরিকভাবে অসুস্থ। তার হৃদযন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। রিমান্ডে গেলে তিনি আর বাঁচবেন না। প্রয়োজন হলে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। তাই রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা জানাচ্ছি।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন বিচারক।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ৩ অক্টোবর মাদক আইনের মামলায় চার দিন ও ১৩ অক্টোবর মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন আদালত।

এর আগে, সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের টিজি ৩২২ নম্বর ফ্লাইট থেকে সেলিম প্রধানকে নামিয়ে এনে আটক করে র‌্যাব। ওই দিন রাত ১০টায় তার গুলশানের বাসায় অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ১৮ ঘণ্টার সেই অভিযান শেষ হয় পরদিন মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায়। তার বাসা থেকে বাংলাদেশি ৭ লাখ টাকা, ২৩ দেশের ৭৭ লাখ টাকা সমমূল্যের মুদ্রা, ৮ কোটি টাকার চেক, দুইটি হরিণের চামড়া ও বেশ কয়েক বোতল বিদেশি মদ জব্দ করে র‌্যাব

এছাড়া হরিণের চামড়া রাখার অপরাধে ১ অক্টোবর তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় ২ অক্টোবর গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও মানিলন্ডারিং আইনে পৃথক দু’টি মামলা করে র‌্যাব।

সারাবাংলা/এআই/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন