বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

শিশু-কিশোরদের সততা নিয়ে বেড়ে ওঠার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর ১৮, ২০১৯ | ৮:০৪ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: শিশু-কিশোরদের সততার সঙ্গে জীবনযাপন করে নিজেকে গড়ে তোলার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সততার সঙ্গে জীবনযাপন করলে সবসময় নিজের ভিতরে একটি শক্তি সঞ্চার হয়। কারও কাছে কখনও মাথা নত করে চলতে হয় না। কার একটা বড় গাড়ি আছে, কার বেশি দামি কাপড় আছে, তা দেখে আমারও লাগবে, এই চিন্তাটা যেন কখনও মনে না আসে। নিজেকে কখনও ছোট মনে করবে না। এটা আমার একটা অনুরোধ।’

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৮অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশু-কিশোরদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এরপর দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চর সামনে আসনে বসে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখেন।

সারাদেশে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিযোগিতায় যে শিশুরা পুরস্কার পেয়েছে তাদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন তথা মুজিব বর্ষ উদযাপন করার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের প্রতিটি শিশু লেখাপড়া শিখবে, উন্নত জীবন পাবে, সুন্দর জীবন পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি চাইব, খেলাধূলা সংস্কৃতি চর্চা সর্বক্ষেত্রে আামাদের শিশুরা অংশগ্রহণ করবে আর সমাজের যে খারাপ দিকটা সেদিক থেকে তারা দূরে থাকবে।

শিশু-কিশোরদের মাদক, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।’

তিনি শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, ‘আর একটা বিষয় হচ্ছে সততার সঙ্গে জীবনযাপন করা, কার একটা বড় গাড়ি আছে দেখে আমারও লাগবে। কার একটা বেশি দামি কাপড় আছে, তা দেখে আমারও লাগবে, এই চিন্তাটা যেন কখনও মনে না আসে। নিজেকে কখনও ছোট মনে করবে না। এটি আমার একটা অনুরোধ থাকবে। কেউ কখনও নিজেকে ছোট মনে করবে না।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, সব শিশুর ভেতরে একটা সুপ্ত চেতনা রয়েছে, মনন রয়েছে, শক্তি রয়েছে, এবং সেটি বিকশিত করতে হবে। তুমি নিজেকে কতটুকু পারদর্শী করে গড়ে তুলতে পার। লেখাপড়া, খেলাধুলা বা সংস্কৃতি চর্চা সব কিছুতে নিজেকে কতটা গড়ে তুলতে পার, নিজেকে বিকশিত করতে পার কতটা তুমি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পার, সেটাই হচ্ছে সব থেকে বড় অলংকার, সেটিই হচ্ছে, সব থেকে বড় শক্তি।’

‘আর সততার সাথে জীবন যাপন করলে সব সময় নিজের ভিতরে এমনিতেই একটা কিন্তু শক্তি সঞ্চার হয়। কারও কাছে কখনও মাথা নত করে চলতে হয় না।’

‘আমি চাই আমাদের এই সংগঠনের প্রত্যেকটা ছেলেমেয়ে এই কথাটাই মনে রেখে নিজেকে তৈরি করবে। শুধু আমি নিজে পাবো, নিজে খাবো, নিজে করব, সেটা না। কতটুকু আমার আশেপাশের শিশুদের দিতে পারি, কতটুকু তাদের জন্য করতে পারি, কতটুকু তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি, দরকার হলে নিজের খাবার ভাগ করে খাব। কারণ এটা কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব করতেন। তিনি একটা দরিদ্র মানুষ দেখলে দরিদ্র শিশু হলে, নিজের খাবারও ভাগ করে খেতেন, বই খাতা দিয়ে দিতেন, কাপড়চোপড় দিয়ে দিতেন। তিনি কিন্তু সবসময় করতেন। আমার দাদি কিন্তু কোনোদিন এ ব্যাপারে কখনও নিষেধ করেননি। ঠিক সেই গুণটি রাসেলের মধ্যেও ছিল। কারণ গ্রামে গেলে ওই দরিদ্র শিশুদের যে কিছু দিতে হবে, এটা সে সব সময় চিন্তা করত।’

‘আমি এটা চাই যে, রাসেল নামের সংগঠনের সকল শিশুরা তাদের মধ্যে এই চিন্তাটা থাকতে হবে। সেই ১৯৮৯ সালে গড়ে ওটা সংগঠনে সেই তখনকার শিশুরা আজকে বড় হয়েছে, সমাজে বিভিন্ন জায়গায় তারা আছে। তারা তাদের দক্ষতা এবং কর্মক্ষমতা প্রমাণ করছে। সঙ্গে সঙ্গে এ শিক্ষাটাও তাদের নিতে হবে। তাদেরও এই সমাজের জন্য কিছু করার আছে বা অন্য দরিদ্র শিশু যারা তাদের জন্য কিছু করার আছে।’

‘ইনশাল্লাহ, বাংলাদেশ আর দারিদ্র্য থাকবে না। বাংলাদেশের সব মানুষেই উন্নত জীবন পাবে। সুন্দর জীবন পাবে।’

আমরা দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দিয়েছি, পুষ্টি নিশ্চয়তা দিচ্ছি। আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থা করছি। মাতৃমৃত্যু হার কমিয়েছি, শিশু মৃত্যু হার কমিয়েছি এবং সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছি এবং আমাদের এই পরিকল্পনা একেবারে শত বছর পর্যন্ত বলেও জানান সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।

আজকের শিশুরা হয়ত ২০৪১ সালে যখন বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হবে, সেই দেশের কর্ণধার হবে। ২০৭১ সালে আমরা আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করব। কাজেই আগামী দিনের প্রজন্ম অর্থ্যাৎ প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন একটা সুন্দর জীবন পায়, সেটা মাথায় রেখে আমরা ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ পরিকল্পনা নিয়েছি। আগামী শত বছরে বাংলাদেশ কিভাবে উন্নত সমৃদ্ধ হবে। সেটা আমরা করে যাচ্ছি। কিন্তু এটাকে ধরে রাখতে হবে। আমাদের আজকের যারা মেধাবী শিশু আগামীতে তারাই তো এগিয়ে নিয়ে যাবে। তোমরা ছোট্ট সোনামণিরা তোমরাই এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শেখ রাসেলের বড় বোন শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে রাসেল আমাদের মাঝে নেই। আমি রাসেলকে হারিয়েছি। কিন্তু এই রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের মাধ্যমে আমি হাজার হাজার লাখো রাসেলকে পেয়েছি। আমার দোয়া, আমার আর্শীবাদ সবসময় তোমাদের সাথে থাকবে। তোমরা ভাল থাক। সুন্দর জীবনযাপন পাও। উন্নত জীবন পাও। সেটাই আমরা চাই।’

শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সভাপতি রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন