শুক্রবার ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সিনেমায় এক হবে দুই বাংলা, আশাবাদী দুই বাংলার তারকারা

অক্টোবর ১৯, ২০১৯ | ২:০১ অপরাহ্ণ

এন্টারটেইনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট

কাঁটাতার দুই বাংলাকে আলাদা করে রাখছে ঠিকই। কিন্তু সেই কাঁটাতার ডিঙিয়ে একমাত্র সিনেমাই পারে দুই বাংলাকে এক করতে। এমনটাই মনে করেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীরা।

বিজ্ঞাপন

ভারত বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড (বিবিএফএ) সামনে রেখে শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) কলকাতার একটি পাঁচতারকা হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে উপস্থিত ছিলেন আলমগীর এবং কলকাতা থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, তনুশ্রী চক্রবর্তী।


আরও পড়ুনঃ  হাসপাতাল ছেড়েছেন অমিতাভ


এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া’র সাধারণ সম্পাদক ফিরদাউসুল হাসান। ভারতীয় অংশের জুরি বোর্ডের সদস্য অরোরা ফিল্মসের কর্ণধার অঞ্জন বসু।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে আলমাগীর বলেন, এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটি নিয়ে যখন আমার সাথে কথা বলা হয়, তখন এই অ্যাওয়ার্ডের নাম ছিল ‘ভারত বাংলা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’। আমি বললাম ‘বাংলা’র সাথে ‘দেশ’টা নিয়ে নেন। তারপর থেকে এটির নামকরণ করা হয় ‘ভারত বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড’।

এসময় তিনি আফসোস করে বলেন, মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রি বিদেশে গিয়ে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান করে। তখন আমার দেখে কষ্ট হয়। আফসোস হয়, আমরা বাঙালিরা কেনো পিছিয়ে আছি? আমরা কেনো কিছু করতে পারছি না? এখন তো আমাদের হাতে বুম্বা (প্রসেনজিৎ), জিৎ, ঋতুপর্ণা, ঢাকার শাকিব খান আছেন; আমাদের কিসে কম ওদের থেকে! আমরা কোনো অংশে কম নই। শুধু আমাদের একটি সমস্যা; মানসিকতা নেই। আমরা বাঙালিরা যদি এক হই তাহলে ওদের ছাড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখি।

 

আলমগীর জানান, এবার ভারত বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড (বিবিএফ) বাংলাদেশে হলেও আগামী বছর লন্ডনে হবে। সিঙ্গাপুরও প্রস্তাব দিচ্ছে।

দুই বাংলাকে এক হয়ে সিনেমায় কাজ করতে বলেন আলমগীর। তিনি বলেন, দু’দেশ মিলে যদি আমরা সিনেমা চলতে পারি, তাহলে ক্ষতিটা কোথায়? এতে করে লাভ দুই দেশেরই হবে। নব্বই দশকে কলকাতায় সিনেমা কম নির্মিত হতো। আমরা তখন বাংলাদেশ থেকে এসে কাজ  করেছি। এতে কিন্তু কলাকাতর উপকার হয়েছে। আমি ঢাকায় বলেছি, কলকাতার আর্টিস্ট বাংলাদেশে এসে অভিনয় করলে আপত্তি থাকার কথা নয়। আমি মনে করে, ঢাকার সিনেমার যা অবস্থা তাতে কলকাতার আর্টিস্টরা যদি ঢাকায় অভিনয় করেন তাহলে তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে।

প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী বলেন, আমি মনেপ্রাণে চাইবো ২১ অক্টোবর রাতটি যেন ঐতিহাসিক দিন হয়ে থাকে। কারণ, এর পেছনে আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। এই আয়োজনটি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য হলেও সফল হওয়া দরকার। আমাদের দুই বাংলার সিনেমা হলগুলো ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। তাই দুই বাংলাকে এক হয়ে সিনেমা হল বাঁচাতে হবে। যেদিন দুই বাংলা এক হয়ে যাবে সেদিন আমরা ‘বাহুবলি’ বানিয়ে ফেলব।

জিৎ বলেন, আমাদের দুই বাংলার মধ্যে যোগাযোগ থাকা দরকার। আমাদের দুই বাংলার মধ্যে অনেক কিছু অমিল থাকলেও আমরা উভয়ই বাংলা ভাষায় কথা বলি। এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটি সফলের মধ্য দিয়ে দুই বাংলার সিনেমার বাজার খুলবে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে অনেক সিনেমা আদান প্রদান হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। আমাদের উচিত এমন কিছু করা যেন উভয় পক্ষই লাভবান হই।

সংবাদ সম্মেলনে বিবিএফএ অ্যাওয়ার্ডের ট্রফি উন্মোচন করা হয়। আগামী সোমবার (২১ অক্টোবর) ‘ভারত বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানের প্রথম আসর বসবে বসুন্ধরার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে (নবরাত্রি হল–৪) ।

এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া। বাংলাদেশ থেকে সহ আয়োজক হিসেবে আছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এছাড়া এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের টাইটেল স্পন্সর টিএম ফিল্মস।


আরও পড়ুনঃ  রাকেশ রোশানই পরিচালনা করবেন ‘কৃশ ৪’


 

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরএসও/পিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন