বুধবার ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সিকিম-দার্জিলিং সরাসরি বাস চলাচল নভেম্বরে

অক্টোবর ২০, ২০১৯ | ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিম। পূর্ব হিমালয় পর্বতশ্রেণির শিবালিক পর্বতে ১ হাজার ৪৩৭ মিটার উচ্চতায় হিম বরফে মোড়া শহর। ছবি দেখলেই মনে হয়, ইউরোপের কোনো বরফাচ্ছাদিত স্থান এটি। সিকিমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর হিমালয় পর্বতমালার সুউচ্চ শিখরগুলোর আঁকাবাঁকা পথের সৌন্দর্য পর্যটকদের দারুণ পছন্দ। বলতে গেলে প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গ। তবে গেল বছর পর্যন্ত সেখানে নিষিদ্ধ ছিল বাংলাদেশি পর্যটক। কিন্তু এবার গ্যাংটকের দুয়ার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত করেছে ভারত।

বিজ্ঞাপন

সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রথম সিকিম-দার্জিলিং বাস চলাচল শুরু হচ্ছে নভেম্বরে। ঢাকা থেকে দুটি বাস সরাসরি ভারতের শিলিগুড়ির ভেতর দিয়ে হিমালয় পর্বতশ্রেণিতে ঢুকে যাবে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে। সিকিমের পর ওই একই বাস যাবে দার্জিলিংয়ে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসুদের সরাসরি বাসে সিকিম-দার্জিলিং যাত্রা উন্মুক্ত হবে।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে নভেম্বরের শুরু অথবা মাঝামাঝি সময়ে বাসযাত্রার সম্ভ্যাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিআরটিসি চেয়ারম্যান এহছানে এলাহী জানান, মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, নভেম্বরে সিকিম-দার্জিলিং বাস চলাচল শুরু হবে। এখন ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে একটি বৈঠক হবে এবং তা খুব শিগগিরই। ওই বৈঠকেই যাত্রার তারিখ চূড়ান্ত হবে। তবে প্রস্তাব অনুযায়ী এটা প্রথম ও অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহ অর্থাৎ মধ্য নভেম্বরে হতে পারে।

চেয়ারম্যান আরও জানান, নভেম্বরের বাসযাত্রা হবে ট্রায়াল রান। এরপর পর উভয় দেশের সম্মতিতে ঢাকা থেকে সিকিম ও দার্জিলিং সরাসরি বাস চালানো হবে।

এহছানে এলাহী বলেন, ‘প্রথমে ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি হয়ে সিকিম। এরপর সিকিম থেকে আবার শিলিগুড়ি ফিরে সেখান থেকে দার্জিলিং। এই রুটগুলোর ব্যাপারে এরই মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।’

ঢাকা থেকে শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস-এর দুটি ব্রান্ড নিউ হুন্দাই বাস যাবে ট্রায়াল রানে। এর আগে গত বছর ওই একই কোম্পানির বাস দিয়ে ঢাকা-কাঠমান্ডু ট্রায়াল রান হয়েছে। এছাড়া বিআরটিসির থেকে দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে ভারতের ৪টি রুটে চলছে শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস-এর বাস।

শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শুভেঙ্কর ঘোষ রাকেশ সারাবাংলাকে জানান, বিআরটিসি চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা বাস নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রচুর পর্যটক সরাসরি বাসে সিকিম যেতে চাচ্ছেন। ট্রায়াল রানের পর ‍পর্যটকদের যাতায়াতে যাতে দ্রুত সরাসরি বাস চালু হয় সে চেষ্টা করব। এটি দেশের পরিবহন খাতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।’একই সঙ্গে ভারত থেকে পর্যটক বাংলাদেশে আসবে বলেও জানান বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শুভেঙ্কর ঘোষ রাকেশ।

সম্প্রতি এই সড়ক ঘুরে এসে দেখা গেছে, শিলিগুড়ি শহর থেকে ২০ কিলোমিটার পেরিয়ে গেলেই বাকিটা পথ পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে। এরককম পাহাড়ি পথযাত্রা প্রায় ১১৯ কিলোমিটার। উঁচু পাহাড়ের কোমর কেটে তৈরি করা রাস্তা ধরে বাংলাদেশের শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস-এর হুন্দাই বাস পৌঁছে যাবে সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে।

এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সরকারি পরিবহন সংস্থা এবং ভারতের পরিবহন সংস্থার লোকজন থাকবেন ঢাকা-সিকিম দার্জিলিং ট্রায়াল রানের বাস। এছাড়া থাকবে কারিগরি একটি টিম। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বহর।

বিআরটিসি চেয়ারম্যান এহছানে এলাহী সারাবাংলাকে জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পাঁচটি রুটে দুই দেশের মধ্যে বাস চলাচল করে। এবার সেগুলোর সঙ্গে যোগ হবে আরও একটি রুট— সিকিম। বাংলাবান্ধা হয়ে শিলিগুড়ি দিয়ে সিকিম পৌঁছবে বাংলাদেশের বাস।

বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শুভেঙ্কর ঘোষ রাকেশ সারাবাংলাকে বলেন, ‘সরকারকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ রুটে শ্যামলী পরিবহনের বাস চলে। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক নতুন রুটেও শ্যামলী পরিবহন যাত্রীদেরকে উন্নত সেবা দিতে প্রস্তুত।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএ/পিটিএম

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন