মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘সচেতনতার মাধ্যমেই স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব’

অক্টোবর ২৫, ২০১৯ | ২:৩৬ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।

‘অন্যান্য রোগের মতো স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার সুযোগও এদেশে অনেক বেড়েছে। কিন্তু অধিকাংশ নারী তা জানেন না। ফলে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিতে পারেন না।’

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর ) ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি’র (ডিআরইউ) উদ্যোগে আয়োজিত ক্যান্সার জিজ্ঞাসা ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্য়োগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা পেশার ৩৫ বছরের জীবনে আমি অনেক স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীর হাহাকার দেখেছি। অধিকাংশ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এমন সময় চিকিৎসকের কাছে আসেন যখন আর করার কিছু থাকে না। আমাদের দেশে এই রোগের চিকিৎসার সুযোগ বেড়েছে। তাই কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা গেলে মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শতকরা ১৯ ভাগই স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাই স্তন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। তিনি বলেন, প্রতিবছর ১২ হাজার ৭০০ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত শতকরা ৫০ ভাগ নারী মারা যান। সরকারী উদ্যোগে দেশে এখন প্রায় ৪০০ টি স্তন ক্যান্সার ও জরায়ু ক্যান্সার পরীক্ষা কেন্দ্র আছে। এগুলোর কথা দেশের বেশিরভাগ নারী জানেন না। ফলে তারা সঠিক চিকিৎসা নিতে পারেন না। এক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতি বড় সমস্যা তৈরি করছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমরা এই ঘাটতি দূর করার চেষ্টা করছি। এজন্য গ্রামে গ্রামে নারীদের মধ্যে ক্যান্সার সচেতনতা বাড়াতে হবে। ঘরে বসেই স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং করার শিক্ষা দিতে হবে তাদের।

ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকির কয়েকটি কারণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, লিঙ্গ বা জেন্ডার এক্ষেত্রে একটি বড় কারণ। মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ছেলেদের তুলনায় ১০০ গুণ বেশি। এই রোগের আরেকটি কারণ হলো বয়স। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তবে অজানা কারণে আমাদের দেশে ৪০ এর পরেই স্তন ক্যান্সার আক্রান্তদের দেখা যায় বেশি। তিনি বলেন, জিনগত কারণেও স্তন ক্যান্সার হতে পারে। বিআরসিএ ১ ও ২ নামের জিনের অস্বাভাবিক মিউটেশন ৫ থেকে ১০ শতাংশ দায়ী স্তন ক্যান্সারের জন্য। কারও পরিবারের কোন নিকট আত্মীয় যেমন মা, খালা, বড় বোন বা মেয়ে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকলে তার স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া যেসব নারীর ১২ বছর বয়সের আগে পিরিয়ড শুরু এবং ৫০ বছর বয়সের পর পিরিয়ড বন্ধ হয় তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকীন বলেন, কিছু সচেতনার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা যায়। যেমন- অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না, শাক-সবজি ও ফলমূল বেশি খেতে হবে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে এবং সন্তানকে ব্রেস্ট ফিডিং করাতে হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় দুটি উপায়ে স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা করা যায়। কোন লক্ষণ টের পেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া। আবার যাদের লক্ষণ নেই, কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন, তাদেরও ক্যান্সার স্ত্রিনিং করা উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, স্তন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। নিয়মিত চেকআপের মধ্যে থাকলে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান, স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞগণ, নার্স ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিসি/

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন