বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ফুটপাতের ব্যবসা থেকে সফল উদ্যোক্তা

অক্টোবর ২৮, ২০১৯ | ১২:৪০ অপরাহ্ণ

ইসমাইল হোসেন স্বপন, ইতালি থেকে

ইতালি: ডিগ্রি পাশ করে মাস্টার্স শেষ করার আগেই সৌদি আরবে পাড়ি দেন সাইদুর রহমান। সেখানে কিছুদিন থাকার পর আরও উন্নত জীবনের আশায় ছুটে যান ইউরোপের দেশ ইতালিতে। দুচোখে স্বপ্ন, বুকভরা আশা ভালো একটি অফিসিয়াল জব করবেন।

বিজ্ঞাপন

ইতালিতে যাওয়ার পর সাইদুর রহমানের বুঝতে বাকি থাকে না, তিনি যে আশায় সেখানে গেছেন তা সেখানে মোটেও সম্ভব নয়। তবে স্বপ্নকে শেষ হতে দেননি, লালন করে রেখেছেন সে স্বপ্ন।

ইতালি থেকে সাইদুর রহমান যখন বুঝতে পারলেন ফুটপাতে দোকানদারি ছাড়া কোনো উপায় নেই। তখন তিনি দেরি না করে তাই শুরু করলেন। তখনও বিশ্বাস করতেন কিছুদিন হলো এসেছি, কাগজপত্র ঠিক হয়ে গেলেই ভালো একটি চাকরি পেয়ে যাবেন।

এরপর ইতালির রিমিনি শহরে একটি পর্যটন এলাকায় ফুটপাতে একটি কার্টনের ওপর মেয়েদের কানের দুল, চুরি, ফিতা ইত্যাদি বিক্রি শুরু করলেন। ফুটপাতে বিজনেস অন্যান্য দেশের মতো ইতালিতেও নিষিদ্ধ। পুলিশ ধাওয়া করলে সব মালামাল কার্টনে নিয়ে দৌড়ে পালাতে হয়। এভাবেই চলে সাইদুর রহমানের ফুটপাতের ব্যবসা।

বিজ্ঞাপন

কিছুদিন চলার পর সাইদুর খেয়াল করেন তার পাশেই একজন চীনা নাগরিক বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করলেও পুলিশ তাকে ধাওয়া করে না। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, লোকটি এক ধরনের তার দিয়ে তৈরি পুতুল, ঘোড়া ও ঘড়িসহ হাতে তৈরি বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে বিক্রি করে। এ ধরনের পণ্য বিক্রি করলে পুলিশ কিছু বলে না। এরপর সাইদুর রহমান কৌশলে তার পিছু নিলেন এবং কোথা থেকে এই তার কিনতে হয় তা খুঁজে বের করলেন। এক পর্যায়ে তিনিও ওই তার কিনে বিভিন্ন জিসিন তৈরি করে বিক্রি শুরু করলেন। এরপর থেকে তার ফুটপাতের ব্যবসা কিছুটা নিরাপদ হলো, পুলিশের ধাওয়া খেতে হতো না। কিছুদিন পর সাইদুর স্থান পরিবর্তন করে চলে গেলেন সমুদ্র তীরে, যেখানে বেশি বেচাকে না হতো। বিচের তপ্ত বালুতে হেটে পণ্য বিক্র করতেন আর স্বপ্ন দেখতে থাকেন একটি অফিসিয়াল চাকরির।

এক পর্যায়ে তার কাগজপত্র সব ঠিক হয়ে যায়। এখন তিনি একজন বৈধ প্রবাসী, যদিও তিনি বৈধ পথেই ইতালি গিয়েছিলেন। কাগজপত্র না থাকায় এতদিন ছিলেন অবৈধ।

সমুদ্র সৈকতে হকারির পাশাপশি বিভিন্ন মাধ্যমে চাকরিও খুঁজতে থাকেন। স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস আর প্রচেষ্টা থাকলে যে মানুষ সফল হন, তার প্রমাণ রাখেন সাইদুর। একটি ভালো চাকরিও পেয়ে যান।

হকারি ছেড়ে নতুন চাকরিতে বেশ ভালোই তার জীবন, এর মধ্যে তিনি সন্ধান পান উদ্যোক্তা তৈরির অনলাইন প্লাটফর্ম ‘নিজের বলার মতো একটা গল্পর’। প্রথমে তিনি না বুঝেই গ্রুপে জয়েন করেন তখন চলছিল দ্বিতীয় ব্যাচ। ধীরে ধীরে বুঝতে পারলেন এটি একটি উদ্যোক্তা তৈরির অনলাইন প্লাটফর্ম।

‘চাকরি করবো না চাকরি দিবো’ এই শ্লোগানটি তার মনে খুব লেগেছিল। দীর্ঘ সাধনার পর চাকরি পেয়ে ভালোই কাটছিল তার দিনগুলো। এবার স্বপ্ন দেখা শুরু করলেন অন্যকে চাকরি দেওয়ার।

সে অনুযায়ী সমুদ্র পাড়ে একটি বিচ অ্যাকসেসরিসের দোকান (সমুদ্রস্নানের উপকরণ) দিলেন। চাকরি এবং ব্যবসা দুটোই চলছিল পাশাপাশি। একপর্যায়ে স্বপ্নের চাকরি ছেড়ে পূর্ণ মনোযোগ দেন ব্যবসায়। বাড়তে থাকে ব্যবসার পরিধি। এরপর পাশে আরও একটি দোকান নিয়ে বানান মিনি সুপার মার্কেট। সেখানে কর্মসংস্থান হয় আরও কিছু লোকের। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি সাইদুরের।

নিজের জেলা মাদারীপুরে প্রথমবারের মতো ‘নাইস অনলাইস শপিং’ নামে গড়ে তোলেন একটি অনলাইন শপ।

সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে কিছু লোকের কর্মসংস্থান করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। ভবিষ্যতে নিজের ব্যবসার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও অনেক লোকের কর্মসংস্থান করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন ‘‘স্বপ্ন দেখুন, সাহস করুন, শুরু করুন এবং লেগে থাকুন সাফল্য আসবেই’ ইকবাল বাহার স্যারের এই কথাটি যদি কেউ মেনে চলেন আমার বিশ্বাস অবশ্যই তিনি একদিন উদ্যোক্তা হবেনই।” তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই গ্রুপে জয়েন না করলে কখনো উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম না।’

ব্যবসার পাশাপাশি মাদারীপুরে নানা ধরনের সামাজিক কার্যক্রমেও তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন