মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

দেশে স্তন ক্যানসার নারীমৃত্যুর প্রধান কারণ

অক্টোবর ৩১, ২০১৯ | ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

লাইফস্টাইল করেস্পন্ডেন্ট

বাংলাদেশে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি নারী মারা যান। বছরে প্রায় ১৩ হাজার নারীর মৃত্যু হয় এই স্তন ক্যানসারে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস উপলক্ষে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে আয়োজিত এক সেমিনারে এই তথ্য দেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জেনারেল কলোরেকটাল অ্যান্ড ব্রেস্ট সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ড. শারমিন ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর পান্থপথে হাসপাতালটির নিজস্ব ভবনে আয়োজিত এই সেমিনারে ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন ও বক্তব্যের মাধ্যমে স্তন ক্যানসারের ভয়াবহতা, আক্রান্তের কারণ, পরীক্ষার ও প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরা হয়।

হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্তন ক্যন্সারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি (ক্যান্সার) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সারওয়ার আলম, হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. পঙ্কজ কান্তি সূত্রধর, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এ বি এম খোরশেদ আলম প্রমুখ। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন, হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ত্রী সাহা।

স্তন ক্যানসার

বিজ্ঞাপন

ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন দেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জেনারেল কলোরেকটাল অ্যান্ড ব্রেস্ট সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ড. শারমিন ইসলাম। তিনি তার প্রেজেন্টেশনে স্তনের বিভিন্ন রোগ, স্তন ক্যানসারের বিভিন্ন স্তরের লক্ষণ, স্তন ক্যানসারের বিভিন্ন পর্যায়ের ছবিসহ বর্ণনা, নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষার উপায় ও প্রতিকার সম্পর্কে বলেন।

ড. শারমিন ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘এর আগে বাংলাদেশে জরায়ুমুখ ক্যানসারে নারীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি হলেও এখন স্তন ক্যানসারেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নারী মারা যান। নারী ও পুরুষ উভয়ের মৃত্যুর চতুর্থতম কারণও স্তন ক্যানসার বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের এক জরিপ অনুযায়ী বছরে সাড়ে বারো হাজারের উপর নারী স্তন ক্যানসারে মারা যায়।

প্রাথমিক পর্যায় অর্থাৎ ডিসিআইএস পর্যায় অর্থাৎ স্তনের মধ্যে মাত্র শুরু হচ্ছে এমন পর্যায়ে ধরা পড়লে তাকে স্টেজ জিরো হিসেবে ধরা হয়। এক্ষেত্রে অন্তত ৫ বছর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা শতভাগ। স্টেজ ওয়ান অর্থাৎ স্তন বা বগলে টিউমার হাতে পাওয়া যাচ্ছে এমন পর্যায়ে ধরা পড়লে ৭৫ থেকে ৮০ ভাগ বাঁচার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একইভাবে বিভিন্ন স্টেজ পার হয়ে চতুর্থ স্টেজ অর্থাৎ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়লে তখন সারভাইবাল রেট ২৮ শতাংশে এসে দাঁড়ায়।

ড. শারমিন ইসলাম জানান, স্তন ক্যানসারে মৃত্যু হার কমানোর জন্য সরকারিভাবে ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় একজন স্তন ক্যানসার সার্জনের মাধ্যমে পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। সাধারণভাবে মেয়েরা বিশ বছর বয়সের পর থেকে পিরিয়ডের দশ দিন পর নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করবে কো অস্বাভাবিকতা আছে কিনা। শুয়ে, গোসলের সময় ও দাঁড়িয়ে পরীক্ষার কিছু উপায় জেনে নিয়ে সেগুলো করতে হবে। চাকা অনুভব করা, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, হঠাৎ করে স্তনবৃন্ত ভেতরে ঢুকে যাওয়া, স্তনের ত্বক কমলার খোসার মতো হয়ে যাওয়া ইত্যাদি অনুভব করলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। আর পঁয়ত্রিশের পর থেকে ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন করতে হবে। তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছরের আগে আলট্রাসনোগ্রাম করেন এবং পঁয়ত্রিশের পর স্ক্রিনিং ও মেমোগ্রাম করান।

স্তন ক্যানসার

এরপর ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন দেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আশিকুর রহমান। তিনি চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরে বলেন, ‘শুরুর দিকে ধরা পড়লে সুস্থতার হার বাড়ানো সম্ভব। স্তনের বিভিন্ন রোগ ও তার চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষ এখনও অনেকটাই অজ্ঞ এবং চিকিৎসকের কাছে যেতে সংকোচে ভোগেন। এই সংকোচ দূর করে নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করতে হবে। এবং স্ক্রিনিং ও মেমোগ্রাফের জন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সারোয়ার আলম বলেন, ‘স্তন ক্যানসার মৃত্যুহার বেশি হলেও যদি সচেতনতা বাড়ানো যায় তবে  এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসা যাবে। শুরুতে বা মধ্যম পর্যায়ে ধরা পড়লে বেশির ভাগ রোগী সুস্থ হয়ে যান। বিশ বা তিরিশ বছর ধরে বেঁচে আছেন, এমন সারভাইবারস প্রচুর আছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্তন ক্যানসারের যদি দশটা কারণ থাকে তাহলে তার মধ্যে ছয়টিই জীবনযাপন পদ্ধতি পরিবর্তনের মাধ্যমে ঠেকানো সম্ভব।’

স্তন ক্যানসার

ড. লেনিন চৌধুরী বলেন, ‘স্তন ক্যানসারের সঠিক কারণ নিশ্চিত নয়। তবে দেখা যায়, শিল্প বিপ্লবের পর স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। প্রকৃতির কাছ থেকে দূরে চলে যাওয়ায় আমাদের নানারকম অসুস্থতা বাড়ছে।’ ওজন নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক পরিবেশে বেশি সময় কাটানো, সুস্থ খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু স্তন ক্যানসারই নয়, যেকোনো ক্যানসার থেকে রক্ষা পেতে প্রকৃতি-বান্ধব জীবনযাপনের বিকল্প নেই।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরএফ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন