শনিবার ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

দ্য লাস্ট প্যারাডাইজ অন আর্থ।।৪র্থ পর্ব: মাউন্ট বাতুর আগ্নেয়গিরি

নভেম্বর ২, ২০১৯ | ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

ইন্দোনেশিয়ার ইস্ট বালির একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, ‘মাউন্ট বাতুর ভলক্যানো’। বালি প্রদেশের পূর্ব দিকে কিন্তামানিতে এটি অবস্থিত। একই পথে হওয়াতে কফি প্ল্যান্টেশন থেকে বের হয়ে আমরা চললাম মাউন্ট বাতুর ভলক্যানো দেখতে। বালির কুটা এলাকা থেকে গাড়িতে মাউন্ট বাতুর দু’ঘন্টার পথ।

বিজ্ঞাপন

প্রায় ১৭০০ মিটার উঁচু এ পর্বতটি রোমাঞ্চপিয়াসীদের ট্রেকিং এর একটি পছন্দনীয় জায়গা। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভ্রমণকারীরা মাউন্ট বাতুরে আসেন ট্রেকিং করতে। অসংখ্য ট্যুরিস্টদের ভোর রাত থেকে মাউন্ট বাতুরে সূর্যোদয় দেখার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

মাউন্ট বাতুর

গাড়ি থেকে নেমে গাইডের দেখানো পথে একটা রেস্টুরেন্টে গেলাম। রেস্টুরেন্টের পেছন দিকের বারান্দায় যেয়ে চারপাশের প্রকৃতি দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারলাম না। উপরে যেন পরতে পরতে সাজানো সাদা-কালো মেঘের পাহাড়। নিচে সবুজের পটভূমিতে আঁকা বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। দুই পাহাড়ের মাঝ বরাবর গিরিখাত। এরকমই এক পর্বতের পেটের মাঝে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমুচ্ছে এক রাক্ষুসে আগ্নেয়গিরি। যে কোন সময় সে জেগে উঠে নরক গুলজার করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সে রাক্ষসের গা বেয়ে গলিত লাভার গড়িয়ে পড়ার চিহ্ন কালের সাক্ষী হয়ে রয়ে গেছে। পর্বতের গায়ের মাটি আজও তার আগের রূপ ফিরে পায়নি। লাল গলিত লাভা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে কালো অঙ্গার করে দিয়ে গেছে মাটি। এই রাক্ষসের পাদদেশ থেকেই বয়ে গেছে বিশাল এক প্রাকৃতিক লেক। নাম ‘বাতুর’! বালির সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক লেক এটি।

মাউন্ট বাতুর

মাউন্ট বাতুর লেক,বালির সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক লেক

আকাশ তার নীল-সাদা-কালো মেঘের দলবল নিয়ে ছায়া ফেলে চলেছে লেকের পানিতে। তাই লেকের পানির রং আলাদা করে ধরা গেল না। আকাশের রঙে সে সাজিয়ে নিয়েছে নিজেকে। মেঘ যখন সরে যায় লেকের পানি তার আলাদা রঙ ফিরে পায়। সাধারন মোবাইল ক্যামেরায় এ দৃশ্য ধারণ সম্ভব নয়। দুটো চোখে দেখা এবং মুগ্ধ হওয়ার অভিজ্ঞতাই এক্ষেত্রে ভরসা।

আমি মনে হয় অল্পেই মুগ্ধ হই। আল্লাহ আমাকে মুগ্ধ হওয়ার এক আশ্চর্য ক্ষমতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। মুগ্ধ হওয়ার জন্য সাধারণের মাঝেও আমি অসাধারণতা খুঁজে পাই। তবে মাউন্ট বাতুরের চারপাশের দৃশ্য অসাধারণের কাছেও যে সাধারণ নয় তা নিশ্চিত বলতে পারি।

২০০০ সালে এ আগ্নেয়গিরিটি জেগে উঠেছিল। এখন পর্যন্ত এটাই এর শেষ অগ্নুৎপাত। বালির পূর্ব দিকে, মাউন্ট বাতুর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে আরও একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি আছে। নাম মাউন্ট আগুং। গত বছর যেটাতে অগ্নুৎপাত হয়ে অনেক লোক মারা গিয়েছিল।

মাউন্ট বাতুর

মাউন্ট বাতুর ভলক্যানো, গা বেয়ে গলিত লাভা পড়ার চিহ্ন কালো হয়ে আছে

মাউন্ট বাতুরকে কেন্দ্র করে সেখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বুফে রেস্টুরেন্ট। রাস্তার পাশের ছোট ছোট টিলার উপর নির্মিত হয়েছে এসব রেস্টুরেন্ট। মাউন্ট বাতুরকে মন ভরে দেখতে হলে যে কোন রেস্টুরেন্টের ভেতরে বসেই দেখতে হবে আপনাকে এবং সেখানেই খেতে হবে। খাবার খরচ হবে জনপ্রতি ইন্দোনেশিয়ান রুপিতে লাখের ঘরে।

ইন্দোনেশিয়ায় মুদ্রাস্ফিতির হার বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশি। তাই টাকার মূল্য সেখানে কম। ওখানে যা এক লাখ, বাংলাদেশি টাকায় সেটি প্রায় ৬০০+ (কম বেশি)। অর্থাৎ রেস্টুরেন্ট ভেদে বাংলাদেশী টাকায় ৬০০ থেকে ১০০০ টাকায় আপনি ওখানে খাবার খেতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন