মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

দাদা-দাদি ও নানা-নানির সঙ্গে কাটানো শৈশব আনন্দের

নভেম্বর ৪, ২০১৯ | ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক।।

কর্মজীবী বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান তূর্ণা (৪)। বাসায় দেখাশোনা করার কেউ নেই বলে দিনের একটি বড় অংশ তাকে রাখা হয় ডে কেয়ার সেন্টারে (শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র)। কিন্তু সেখানে ওর ভালো লাগে না। তাই প্রতিদিন বাবা-মায়ের সঙ্গে অফিসে যাওয়ার বায়না ধরে। কিন্তু অফিসে তো বাচ্চাকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। এদিকে ডে কেয়ার সেন্টারের পরিচালক প্রায়ই রুমানা-নাসের দম্পতিকে জানান, তূর্ণা খেতে চায় না। কারও সঙ্গে তেমন কথা বলে না, খেলেও না। এসব শুনেও বাবা-মা নিরুপায়। কোথায় রাখবে সন্তানকে!

বিজ্ঞাপন

গ্রাম থেকে তূর্ণার দাদা-দাদি বছরে এক-কী দু’বার ঢাকায় বেড়াতে আসেন। ওই ক’টা দিন তূর্ণা বাসাতেই থাকে। হঠাৎ একদিন রুমানা খেয়াল করলেন, দাদা-দাদি আসলেই তূর্ণা একেবারে অন্য রকম হয়ে যায়। সব সময় হাসি-খুশি থাকে। ঠিক মতো খায়, ঘুমায়। ওর স্বাস্থ্যও ভালো হয়।

তূর্ণার বাবা-মায়ের মতো অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানকে দাদা-দাদি বা নানা-নানির সংস্পর্শে রেখে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। দাদা-দাদি ও নানা-নানি অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে নাতি-নাতনির দেখাশোনা করেন। বাচ্চারাও তাদের সঙ্গে সহজে মিশতে পারে এবং নানাভাবে সহযোগিতা পায়। ফলে বেশিরভাগ শিশুই দাদা-দাদির সান্নিধ্য পছন্দ করে।

সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বাচ্চা দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানির কাছে থাকার সুযোগ পায়, তারা শান্ত ও সুখি হয়। সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। বয়স্ক ব্যক্তিরা নাতি-নাতনির প্রতি অত্যন্ত স্নেহপরায়ণ হয়। তারা বাবা-মায়ের প্রতিনিধি হয়ে নাতি-নাতনিকে শিক্ষণীয় নানা বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিটি পরিবার ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, আচার-কানুন ধারন করে। পারিবারিক এই বিষয়গুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় পরিবারের বয়স্ক এই ব্যক্তিরাই। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ১৬০০ ছেলে-মেয়েদের ওপর একটি গবেষণা করে। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, দাদা-দাদি বা নানা-নানির সঙ্গে বেড়ে ওঠা শিশুরা অনেক নিরাপদে ও যত্নে থাকে। এই শিশুদের ইতিবাচক চিন্তা করার ক্ষমতা তৈরি হয়। জীবনের সব বিষয়কে তারা সহজভাবে দেখতে শেখে।

কখনো কোনো পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হলে এর প্রভাব পড়ে সন্তানদের ওপর। এক্ষেত্রে দাদা-দাদি বা নানা-নানি বট গাছের মতো ছায়া দিয়ে আগলে রাখেন।  ওই কঠিন সময়ে নাতি-নাতনিকে সময় দেন। তাদের পাশে থাকেন।

যেসব পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরিজীবী, তাদের সন্তানদের সব দিক থেকে সহযোগিতা করেন দাদা-দাদি ও নানা-নানিরা। যতটা দায়িত্বশীল মনোভাব নিয়ে তারা এই কাজগুলো করেন, গৃহকর্মী বা ডে কেয়ার সেন্টারে তা কল্পনাও করা যায় না।

গবেষণা বলে ‘গ্রান্ডপ্যারেন্টস’ হলো পরিবারের আশীর্বাদ। যেসব পরিবারের সন্তানরা বাবা-মায়ের পাশাপাশি দাদা-দাদি ও নানা-নানির সান্নিধ্যে বড় হয়, সেই শিশুদের মানসিক বিকাশ ভালো হয়। তারা সামাজিকতা শেখে এবং দায়িত্বশীল হয়।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিসি/এটি

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন