সোমবার ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত ভারতের চেয়েও এগিয়ে’

নভেম্বর ৪, ২০১৯ | ৮:১৫ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত ভারতের চেয়েও অনেক বিষয়ে এগিয়ে আছে। বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের চেয়েও ভালো বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত। এই ধারা অব্যাহত রেখে সকলে মিলে এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যেতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের উদ্যোগে জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য কৌশলপত্র ২০১৯-২০৩০ ও মাতৃস্বাস্থ্যের পরিচালনার এসওপি প্রচারণা ও মোড়ক উন্মোচন এবং ইএমওএনসির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। আমাদের অনেকেই এই এগিয়ে যাওয়ার প্রশংসা করতে কুণ্ঠাবোধ করলেও বিশ্ববাসী এর প্রশংসা করে। যে কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ‘এমডিজি অর্জন করেছি শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে। বাংলাদেশ আজ পোলিও এবং টিটেনাসমুক্ত। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বাংলাদেশের সব জায়গায় এখন কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। তবে টারশিয়ারি লেভেলে স্বাস্থ্যসেবার অনেক উন্নয়ন হলেও প্রাইমারি লেভেলে এখনও সেভাবে হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

জাহিদ মালেক বলেন, ‘বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখন অনেক কমেছে। বৃদ্ধি পেয়েছে গড় আয়ুও। প্রায় সবক্ষেত্রেই এখন আইটি ব্যবহার হচ্ছে। জেলা হাসপাতালগুলোতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল আছে এখন। বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৫টি মেডিকেল কলেজ আছে। এছাড়াও সরকারি পর্যায়ে আছে অনেক ইনস্টিটিউট। নতুনভাবে চারটি মেডিকেল ইউনিভার্সিটি আমরা স্থাপন করছি।’

এসডিজি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যু এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে মাতৃমৃত্যুর হার ৭০-এ নামিয়ে আনতে হবে, যা বর্তমানে ১৭০ রয়েছে। কমাতে হবে শিশুমৃত্যুর হারও। আর এসব কিছুই করতে হবে ২০৩০ সালের মধ্যে। এছাড়াও আমাদের বাল্যবিবাহ কমাতে হবে। এজন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা মাতৃস্বাস্থ্য ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের দিক নির্দেশনা হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য কৌশলপত্র ২০১৯-২০৩০ ও এসওপি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে ‘মাতৃস্বাস্থ্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ’ বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ও কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইন ডিরেক্টর (এমএনসিএন্ডএএইচ) ডা. মো. শামসুল হক। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপপরিচালক (স্বাস্থ্য অধিদফতর ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার,মেটারনাল হেলথ) ডা. মো. মোশায়ের-উল-ইসলাম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. বর্ধন জাং রানা, ইউএনএফপিএ’র প্রতিনিধি ডা. আশা তর্কেসন, ইউনিসেফ প্রতিনিধি মায়া ভ্যান্ডেনেন্ট, ইউএসএইডের জারসেস সিধওয়া প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন