বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সব ঋণখেলাপিকেই টাকা ফেরত দিতে হবে: অর্থমন্ত্রী

নভেম্বর ৬, ২০১৯ | ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মামলা-মোকদ্দমা না করে কিংবা কারাগারে না পাঠিয়েও ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে খেলাপি ঋণের টাকা আদায় করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জেলে না পাঠিয়ে টাকা আদায় করতেই খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের কাছে যে খেলাপি ঋণ আছে, তা পরিশোধ করতেই হবে।

বুধবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ ছাড় কোনো বিষয় নয়। তারা এই শর্ত মেনেই তা বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার চায় কাউকে জেলে না পাঠিয়ে টাকা আদায় করতে। যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছে, তাদের সবাইকে টাকা দিতে হবে। যেভাবেই হোক, এ টাকা আমরা আদায় করবই। এটা রাষ্ট্রের টাকা, জনগণের টাকা।

ঋণখেলাপিদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, ঋণ পরিশোধে সরকার প্রয়োজনে আরও সময় বাড়িয়ে দিয়েছে। সময় বাড়ানোয় অনেকই ধারণা করছেন, ভালো-মন্দ এক হয়েছে যাচ্ছে। কিন্তু যারা এরপরও ঋণ পুনঃতফসিল করবে না, তারা আর ব্যবসা করতে পারবে না। কারণ তাদের ব্যবসা করতে হলে আবার ঋণের প্রয়োজন হবে। আর যারা ভালো, তাদের তো কোনো এক্সট্রা ডিপোজিট বা ঋণ লাগবে না। তবে সবাই যদি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে, তাহলে সবাই ঋণ পরিশোধ করতে পারবে।

সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণে সুদের হার ১০ শতাংশের ওপরে যাবে না। এটা ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ হবে, অর্থাৎ সিঙ্গেল ডিজিট হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহার ও বাজেটেও সেটা উল্লেখ আছে। আমরা ব্যাংক ঋণে সিঙ্গেল ডিজিট সুদ আদায় করব। এটা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে— ব্যাংক, ঋণগ্রহীতা, সরকার বা দেশের মানুষ যেন না ঠকে। তার জন্য সবাইকে এক হয়ে এই কাজ করতে হবে।

ব্যাংকগুলো এখনো কম্পাউন্ড সুদের হার করতে পারেনি— এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা এ বিষয়ে এখনো কিছু করতে পারিনি। তবে যখন আমরা রায়ের কপি হাতে পাব, তখন বলা হবে কমপাউন্ড সুদের হার করতে।  বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মানবে না— এমন কোনো ব্যাংকের অস্তিত্ব বাংলাদেশে পাওয়া যাবে না। প্রয়োজনে আইনে পরিবর্তন আনবে সরকার, প্রয়োজনে মার্জ করা হবে।

মুস্তফা কামাল বলেন, দুঃখের বিষয় হলো— গত বছরই তারা ব্যাংক ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার কথা বলেছিল। এজন্য তারা সরকারের কাছে কিছু শর্ত দিয়েছিল। সরকার তা পূরণ করেছে। এর মধ্যে অনেকেই সিঙ্গেল ডিজিটে চলে এসেছে, আবার কেউ কেউ আসেনি। যারা আসেনি, তাদেরও সিঙ্গেল ডিজিটে আসতে হবে। নইলে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন সবার জন্য সমান।

ব্যাংকিং কমিশনের বিষয়ে সরকারের ভাবনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং কমিশন যে আমরা করব, সেটা বাজেটেও বলেছি। সুতরাং আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনেই ব্যাংকিং কমিশন করব। শিগগিরই সেটা করা হবে।

ফাইল ছবি

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন