মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

জাবি’র হলে হলে তালা, তবু দমেনি উপাচার্য অপসারণের আন্দোলন

নভেম্বর ৬, ২০১৯ | ৯:১৮ অপরাহ্ণ

জাবি করেসপন্ডেন্ট

জাবি: দুর্নীতির অভিযোগ ও হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আবারও তার বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' ব্যানারে আয়োজিত ‘সংহতি সমাবেশে’ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির হলে হলে তালা ঝুললেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিবৃত্ত করা যায়নি। দিনভর মিছিল-স্লোগানে তারা মুখর করে রেখেছিলেন ক্যাম্পাস।

বিজ্ঞাপন

উপাচার্যের বাসভবন ও তার আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ মোতায়নের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, 'যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।' তবে পুলিশের হামলা বা গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, 'পরিস্থিতির উপর সব নির্ভর করবে।'

এদিকে বুধবার (৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে তিনটার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে আতঙ্ক দেখা দেয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ওই সময়ের মধ্যে হল না ছাড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে হল ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। তবে প্রশাসনের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও এখনো হলে ছাড়েননি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীসহ কিছু সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা হল বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন করছেন।

ইতোমধ্যেই হলের গেটে তালা লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে হল সংলগ্ন খাবার দোকানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিলটি ছাত্রীদের হলের দিকে গেলে হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে এসে মিছিলে যোগ দেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হল ঘুরে পরিবহন চত্বর হয়ে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে ওই স্থানে সংহতি সমাবেশ শুরু করে আন্দোলনকারীরা।

মিছিল শেষে ওই সমাবেশে বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর উপাচার্য ওই পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। বক্তারা উপাচার্যকে বরখাস্ত করার দাবি জানান।

সংহতি সমাবেশে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, ছাত্রলীগ, সরকারী দলের রিপোর্টের ভিত্তিতে উপাচার্য নিয়োগ হয়ে থাকে। আমরা দেখতে পাচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে যাদের নির্যাতন চলে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় উপাচার্য টিকে আছেন।’

সংহতি সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর তপন কুমার সাহা বলেন, ‘চার বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেছি; কিন্তু কখনো তো বিশেষ ছাত্র সংগঠনকে মাঠে নামানোর প্রয়োজন হয়নি! এখন কেন হলো? শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের গতকালের হামলার ঘটনায় আমি ব্যথিত হয়েছি।'

তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা লাঞ্ছিত হওয়ার পর উপাচার্য এটিকে গণঅভ্যুত্থান বলেছেন। এটি আসলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষক হিসেবে আমাদের দুর্ভাগ্য। জাহাঙ্গীরনগরকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমার-আপনার সকলের। এর আগে এই আন্দোলনে আসিনি কারণ নিজেকে বোঝাতে পারিনি; কিন্তু এখন পেরেছি। অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু তদন্ত নয় বরং তাকে বিচারের মুখোমুখিও করতে হবে।’

শিক্ষার্থী তাপসী প্রাপ্তি দে বলেন, ‘গতকাল শিক্ষার্থীরা যাতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে না পারে সেজন্য হলে তালা মেরে বন্ধ রাখা হয়েছিলো। আমরা এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম কোনো ভাবেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে ওই পদে টিকে থাকতে পারবেন না।’

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজীম উদ্দিন খান, অধ্যাপক রায়হান রাইন, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভুঁইয়া, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক খবির উদ্দিন, অধ্যাপক কবিরুল বাশার, অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মিসহ অনেকে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আইই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন