শনিবার ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

মেয়ের সামনে শিশু আয়েশাকে ছুড়ে ফেলেন আসামি নাহিদ

নভেম্বর ৭, ২০১৯ | ৪:২৪ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় দুই বছরের শিশু আয়েশা মনি হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার পিবিআই এর উপ-পুলিশ পরিদর্শক সাদেকুর রহমান এ চার্জশিট জমা দেন।

বিজ্ঞাপন

চার্জশিটে একমাত্র আসামি রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানাধীন ৫৩/১-ছ দ্বীননাথ সেন রোডের ডা. ওয়াইজ উদ্দিনের ছেলে মো. জান্নাতুল ওয়াইশ ওরফে নাহিদ (৪০)।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গেন্ডারিয়া থানাধীন দীননাথ সেন রোডে চারতলা বাড়ির পাশে টিনশেড বস্তিতে মা-বাবা ও তিন বোনের সঙ্গে থাকত শিশু আয়েশা। প্রতিদিন সকালে আয়েশার মা-বাবা কাজে যেতেন। এ সময় গেন্ডারিয়ার সাধনা ঔষধালয়ের সামনের গলিতে খেলে বেড়াত শিশুটি। অন্যদিনের মতো গত ৫ জানুয়ারিও বিকেলে খেলতে বের হয় আয়েশা। সে হাবিবের রিকশা গ্যারেজের পূর্ব পাশের গলিতে খেলাধূলা করছিল।

মাগরিবের নামাজের আগে আসামি নাহিদ সেখান থেকে আয়শাকে বাসায় ডেকে নিয়ে তিনতলার বারান্দা থেকে নিচ ফেলে দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত আয়েশাকে পাশের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আয়েশাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বিকেলে আয়েশার মা সুলতানা রান্না করার জন্য পাশের বাড়িওয়ালার বাসায় যান। ঘরে চার সন্তানকে রেখে যান। সুলতানার বড় মেয়ে ইরা আয়েশাসহ অন্য বোনদের নিয়ে খেলা করছিল। কিছুক্ষণ পরে আয়েশা মনি খাবার খেতে চায়। তখন ইরা ছোট বোন আয়েশাকে নিয়ে তার মায়ের কাছে যায়। তাদের মা আগের রান্না করা খিচুরি গরম করে তাদের বাসায় যায়। সেখানে তাদের খিচুরি খেতে দিয়ে ইরা আবার রান্না ঘরে চলে যায়। আয়েশা মনি তখন বাটিতে খাবার খাচ্ছিল। আয়েশা মনি বাড়ির উঠানের দিকে বাইরে রাস্তার পাশে মাটিতে বসে খাবার খেতে খেতে খেলা করছিল। এ সময় তার হাতে একটি পুতুল ছিল।

চার্জশিটে আরও বলেন, মাগরিবের নামাজের আগে আসামি নাহিদ তার বিল্ডিং এর নিচতলার গেটের সামনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। মাগরিবের নামাজের সময়ে কোনো এক ফাঁকে নাহিদ আয়েশাকে গ্যারেজের সামনের রাস্তা থেকে কোলে করে তার বাসার তিন তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। এ সময় বাসায় নাহিদের মেয়ে ফাতিহা খান বুশরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা দেখছিল।

বাচ্চাটি তার মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করলে বুশরা তা শুনতে পেয়ে বাবার কাছে জিজ্ঞাসা করে মেয়েটি কে? তখন বুশরাকে ধমক দিয়ে বাইরে যেতে বলে নাহিদ। কিছু সময় পর নাহিদ বাচ্চাটিকে নিয়ে বারান্দার দিকে যেতে থাকলে বুশরা তার বাবার পিছু পিছু অনুসরণ করে। একপর্যায়ে বারান্দার কোনায় গিয়ে নাহিদ বাচ্চাটিকে কোল থেকে ফেলে দেয়। এ সময় বুশরা তা দেখে চিৎকার দিয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে নাহিদের মেয়ে ফাতিহা খান বুশরা আদালতে জবানবন্দি দেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এআই/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন