মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘সামনে সম্মেলন, কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে’

নভেম্বর ৮, ২০১৯ | ১:৪০ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে। আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা হবে সুস্থ। আমি এখানে নেত্রীর পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে সবাইকে জানিয়ে দিতে চাই, কোনো ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলের জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে করণীয় নিয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কয়েকদিন আগে আমরা প্রতিনিধি সম্মেলনে গিয়েছিলা। তারপরও পত্রপত্রিকায় রাজশাহীর খারাপ খবরে ভরে গেল। এটি আমাদের জন্য দুঃখজনক। সম্মেলনকে সামনে রেখে সব তিক্ততার অবসান ঘটবে বলে আমি আশা করি।

সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে এই সম্মেলন বাস্তাবায়নে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের করণীয় কী, সে সম্পর্কে আমরা আলোচনা করেছি। সারাদেশে আমাদের শাখাসহ জেলা-উপজেলা, থানা-ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিরগুলো নতুনভাবে করা হচ্ছে। সেসব বিষয়ে আমাদের নেতারা বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করেছেন।

সবাই অনুপ্রবেশকারী নয়

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছাড়া আওয়ামী লীগের যারা এসেছে, তারা অনুপ্রবেশকারী নয় বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমাদের পার্টিতে যারা এসেছে, তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী নয়। অনেক ক্লিন ইমেজের লোকও আমাদের পার্টিতে এসেছে। তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে সাম্প্রদায়িকতায় জড়িত থাকার অভিযোগ নেই, মামলা-মোকদ্দমা নেই, অপরাধে জড়িত থাকার রেকর্ড নেই। তারা অবশ্যই অনুপ্রবেশকারী নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিতর্কিত না হলে আওয়ামী লীগে কেউ বাদ যায় না। দায়িত্বের পরিবর্তন হয় শুধু।

বিএনপির নেতাদের পদত্যাগ অনিবার্য পরিণতি

বিএনপির সিনিয়র নেতারা একে একে পদত্যাগ করছেন— এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার কাছে মনে হয়, এটা বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির অনিবার্য পরিণতি। আমি এক কথায় এটাই বলব।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, সহদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ অন্যরা উপস্থিতি ছিলেন।

বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের আগে কৃষক লীগের নতুন নেতারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের শীর্ষ নেতাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় কৃষক লীগের নব নির্বাচিত সভাপতি সমীর চন্দ্র এবং উম্মে কুলসুম স্মৃতিসহ সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পরে আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের সম্মেলন উপলক্ষে করণীয় ও তারিখ নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এসময় রাজশাহী বিভাগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের আগে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, রাজশাহী জেলার তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন উপলক্ষে আমরা বৈঠকে বসছি। আওয়ামী লীগ একমাত্র দল, যারা সবসময় একটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্মেলন করে থাকি। আর আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে দলের নেতাকর্মী। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে কাউন্সিল হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমএমএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন