মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

পুলিশি ধরপাকড় অব্যাহত, সৌদি আরব থেকে ফিরলেন আরও ১১৩ বাংলাদেশি

নভেম্বর ৮, ২০১৯ | ২:০১ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পুলিশি অভিযানে সৌদি‌ আরব থেকে আরও ১১৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে দেশে ফিরছে ৯৩০ জন শ্রমিক।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ ফ্লাইটে তারা দেশে ফেরেন তারা। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দ‌রে প্রবাসীকল্যাণ ডে‌স্ক ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন প্রোগ্রাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র বলছে, নভেম্বর মাসের সাত দিনে সৌদি আরব থেকে ৯৩০ জন শ্রমিক ফিরে এসেছে। এর মধ্যে ৫৩৪ বাংলাদেশিকে বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডে‌স্কের মাধ্যমে জরুরি সহায়তা দি‌য়ে‌ছে ব্র্যাক।

সৌদি আরব থেকে সদ্যফেরত কুষ্টিয়ার কামাল হোসেন জানান, সাত লাখ টাকা খরচ করে দেড় বছর আগে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। একটি দোকানে কাজ করতেন তিনি। কাজ থেকে রুমে ফেরার সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এসময় তিনি কফিলকে (নিয়োগকর্তা) ফোন দিলে তিনি কোনো দায়িত্ব নেননি।

বিজ্ঞাপন

কামালের মতো বাবুল, জহির, রেজাউলসহ আরও কয়েকজনকেও দেশে ফিরতে হয়েছে কর্মস্থলের পোশাকেই। কারও কারও পায়ে জুতাও ছিল না। নিজের জিনিসপত্র, টাকা-পয়সা— কিছুই সঙ্গে আনতে পারেননি তারা। শ্রমিকরা জানান, যে নির্মাণ কোম্পানিতে কাজ কর‌তেন, সেখা‌ন থে‌কে কাজ শেষে রুমে ফেরার সময় পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে যায়। বৈধ আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) থাকা সত্ত্বেও তাদের ধরে এককাপড়ে দেশে পাঠি‌য়ে দিয়েছে।

ফিরে আসা আরেক শ্রমিক কিশোরগঞ্জের আহসান জানান, অভাবের সংসারে দিনমজুর বাবার স্বপ্ন ছিল, ছেলে বিদেশে গিয়ে পরিবারের সচ্ছলতা আনবে। সেই স্বপ্ন নিয়ে মাত্র চার মাস আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। বৈধ আকামাও ছিল। কিন্তু তাকে দেশে ফিরত হলো শূন্য হাতে। একই রকম তথ্য জানান, বরিশালের শ্রাবণ, কিশোরগঞ্জের জালাল, কুমিল্লার রনি, গাইবান্ধার মোস্তফা, মুন্সীগঞ্জের হান্নানসহ আরও অনেকে।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, চলতি বছ‌র এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার বাংলা‌দে‌শি‌কে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চল‌তি মা‌সের প্রথম সপ্তাহে ফির‌লেন ৯৩৪ জন। যারা ফিরে আসছেন, তাদের সবার বর্ণনা প্রায় একই রকম। প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন। যারা কয়েকমাস আগে গিয়েছিলেন, তাদের কেউই খরচের টাকা তুলতে পারেননি। কাউকে যেন এভাবে শূন্য হাতে ফিরতে না হয়, সেজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে। দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন