মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘মানুষকে আমরা মানুষ গণ্য করি, তাদের শ্রমের মর্যাদা দেই’

নভেম্বর ৯, ২০১৯ | ৬:৫৪ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ শ্রমিক শ্রেণির কল্যাণে সব সময় আন্তরিক। সেটা যেকোনো শ্রেণিই হোক না কেন। মানুষকে আমরা মানুষ গণ্য করি, তাদের শ্রমের মর্যাদা দেই।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের ত্রিবার্ষিক কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে শ্রমিক শ্রেণির জন্য বহুবিধ কল্যাণমুখী পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর শ্রমিকদের নূন্যতম বেতনের হার পাঁচ শতাংশ করে যেন অটোমেটিকভাবে বাড়ে, সে ব্যবস্থা নিয়েছি। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর বেতন পাঁচ শতাংশ হারে বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চা শিল্পের শ্রমিকরা চরমভাবে অবহেলিত ছিল। একসময় তাদের নাগরিকত্ব ছিল না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা শিল্পের শ্রমিকদের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন।’

চা শ্রমজীবীদের কল্যাণে প্রতিবছর বাজেট থেকে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে; যাতে তাদের কাজের মান উন্নত হয়। পাশাপাশি শ্রমিকরা যেন কাজের ভালো মজুরি পায় সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্যে যুবসমাজ থেকে শুরু করে শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিক পরিদর্শন বলে একটা ব্যাপার রয়েছে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে এসেছে। একটা শ্রমিক পরিদর্শন অ্যাপস ‘লেবার ইনস্পেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন’ তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে যাতে এই পরিদর্শনটা করে শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করা যায়, সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। অর্থাৎ ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রমিকদের কল্যাণ সাধন করা এই অ্যাপসের লক্ষ্য।’

‘২০১৩ সালে যেখানে তৈরি পোশাক শিল্পে ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮২টি আজকে সেখানে ৮৮২টি ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সব সেক্টর মিলে আমাদের ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ৮ হাজার ৩৪টি।’ - যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে ৮ হাজার ৩৪টি ট্রেড ইউনিয়ন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশগুলোতে এতগুলি ট্রেড ইউনিয়ন আছে কি না, আমার সন্দেহ।’ রাজধানীর বিজয়নগরে ২৫তলা বিশিষ্ট শ্রমভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যেটা খুব শিগগিরই উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান তিনি।

১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ আর এগিয়ে যাবে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বহুমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। তরুণ সমাজ ও আজকের শিশু আগামী দিনে এ দেশের কর্ণধার হবে। এরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। উপযুক্ত নাগরিক হিসাবে শিক্ষা-দীক্ষায় জ্ঞানে-বিজ্ঞানে সব জায়গায় যাতে তারা উপযুক্ত হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ১২টা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যা আমাদের আওয়ামী লীগ সরকারের করা। দেশে কর্মসংস্থান হচ্ছে, শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, দেশ গড়ার কারিগর তৈরি হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক লীগকে সাংগঠনিকভাবে উপযুক্ত হয়ে শ্রমিক শ্রেণির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছি। বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এই ব-দ্বীপ অঞ্চল যেন তার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারে, ২১০০ সালে বাংলাদেশ কীভাবে গড়ে উঠবে সে লক্ষ্যে ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ। সভা পরিচালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানসহ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর তুয়োমো পটিয়াইনেন, আন্তর্জাতিক টেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন এশিয়া প্যাসিফিক’র (আইটিইউসি-এপি) সাধারণ সম্পাদক শোভা ইওশিদা এবং দক্ষিণ এশিয় আঞ্চলিক ট্রেড ইউনিয়ন কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক লক্ষণ বাহাদুর বাসনেতও বক্তৃতা করেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন