মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

জাহিদ-এমিলিরা যেখানে পুরোপুরি ব্যর্থ, ইয়াসিন-ফাহিমরা সেখানে সফল

নভেম্বর ৯, ২০১৯ | ৭:৪৩ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট

বেশিদিনের দূরত্ব নয়। ২০১৫ সালের ঘটনা। বাংলাদেশের ফুটবল তখন স্তমিত হওয়ার অপেক্ষায়। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নড়বড়ে বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫-০ ব্যবধানে হেরে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে একেবারে শূন্যের কোটায় জাহিদ-এমিলিরা। পরের ম্যাচে ঘরের মাঠে জর্ডানের কাছে লাল-সবুজদের ৪-০ ব্যবধানে হার বরণ। ঠিক পরের বছরে অ্যাওয়ে ম্যাচে জর্ডানের কাছে গুনেগুনে ৮ গোল হজম করে ডি ক্রইফের শিষ্যরা। তার ঠিক তিন বছর পর একেবারে উল্টো দৃশ্য দেখলো দেশের ফুটবল সমর্থকরা।

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালের ৮ নভেম্বর। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের একটি ম্যাচে শক্তিশালী জর্ডানের মুখোমুখি বাংলাদেশ। এবার জুনিয়ররা যেন তাক লাগিয়ে দিল জর্ডানকে। রুখে দিলো দুর্দান্ত ফুটবল খেলে।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ধরা হয়ে জাতীয় দলের সবচেয়ে বড় পাইপলাইন। সাধারণ এই বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে বেশিরভাগ ফুটবলারই জায়গা করে নেয় সিনিয়র জাতীয় দলে। জর্ডানকে এবার চমকে দিলো জামাল-এমিলির উত্তরসূরীরা।

ইয়াসিন আরাফাত আর ফাহিমদের হাত ধরে শক্তিশালী জর্ডানকে ১-১ ব্যবধানে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন সফলতার গল্প লিখছে তারা। ক’দিন আগে তাদের হাত ধরে সাফ অনূর্ধ্ব ১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্স আপ হয়েছিলো বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে বিতর্ক ছিল অনেক। তারাসহ বাফুফের একাডেমিতে গড়ে ওঠা কিছু ফুটবলার নিয়ে এই দলটা তৈরি।

কোচ পিটার টার্নারের অধীনে তিন মাস থেকে কঠোর অনুশীলনের ফসল দিলো ইয়াসিনরা। প্রথম ম্যাচে বাহরাইনের কাছে হারে মিশন শুরু হলেও কিছু ‘উফ’ ‘ইশ’ ছিল ম্যাচে। তিনটি গোলই একেবারে অতিরিক্ত মিনিটে হজম করেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বড় প্রতিপক্ষের সামনে। জর্ডানকে ১-১ ব্যবধানে রুখে দিয়ে প্রমাণ করছে পাইপলাইনে কমতি নেই বাংলাদেশের। শুধু যত্নটাই দরকার। পরিবেশ দরকার।

এই ড্রয়ে এখনও এএফসির নক আউট পর্বে ওঠার সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের। শেষ ১৭ বছর আগে নক আউট পর্বে পা রেখেছিল জুনিয়র ফুটবলাররা। সেই আক্ষেপ ঘোচানোর মিশনে বলা যায় ঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে ইয়াসিন-ফাহিমরা। সামনে শেষ ম্যাচে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ ভুটানকে পাচ্ছে তারা। চলতি টুর্নামেন্টে ভুটানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে জর্ডান। নক আউট পর্বের আশা জিইয়ে রাখতে অন্তত আপাতত তিন গোল বা তার বেশি দিতে হবে বাংলাদেশকে।

ইয়াসিন-ফাহিমদের হাত ধরে সফলতার গল্প এগিয়ে যাক পরবর্তী প্রজন্মেও। এই আশাটা সমর্থকরা করতেই পারে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন