মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রথম আঘাত পশ্চিমবঙ্গে

নভেম্বর ৯, ২০১৯ | ৭:৫১ অপরাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

ঢাকা: প্রবল গতিবেগ নিয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। তার আগে ঘুর্ণিঝড়টির ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হেনেছে। শনিবার (৯ নভেম্বর) রাত আটটার দিকে এটি পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপে আছড়ে পড়ে বলে সেখানকার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কলকাতার আলীপুর আবহাওয়া দফতর থেকে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ওডিশা উপকূল হয়ে ধেয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের দিকে। প্রথম যখন ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানে, তখন এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার। কলকাতাসহ রাজ্যের ৭টি জেলায় রোববার (১০ নভেম্বর) বেলা ১১টা পর্যন্ত চলবে বুলবুলের তাণ্ডব। জেলাগুলো হলো- পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও ঝাড়গ্রাম। এরই মধ্যে ওইসব জেলাগুলোতে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত কলকাতা বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে কলকাতার সব ফেরি সার্ভিস। এছাড়া রাজ্য সরকার কলকাতার রাজ্য সচিবালয় নবান্নে স্থাপন করেছে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে। এরই মধ্যে কলকাতাসহ ৭ জেলার সব বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

সংবাদ প্রতিদিন কলকাতার চিফ অব নিউজ ব্যুরো কৃষ্ণকুমার দাস বলেন, ‘কিছুক্ষণের মধ্যে কলকাতার কাছে সাগর দ্বীপে আছড়ে পড়বে বুলবুল। এই মুহূর্তে সাগরদ্বপীপ থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে আছে। যত এগিয়ে আসছে, তত ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে। ১৩৫ কিলোমিটার বেগে সাগর দ্বীপের ওপর আছড়ে পড়ে বাংলাদেশের খেঁপুপাড়ার দিকে এগিয়ে যাবে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এখন পর্যন্ত পশ্চিম বঙ্গের এক লাখ ২০ হাজার মানুষকে সমুদ্র উপকূল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুরসভা বিশেষ কন্ট্রোল রুম খুলেছে। কলকাতা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম কন্ট্রোল রুমে রয়েছেন। অন্যদিকে পশ্চিম বঙ্গের সচিবালয়ে অবস্থান করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেখান থেকে অবস্থা নজরদারি করছেন।

তিনি আরও জানান, সমস্ত জায়গায় যেমন ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি মানুষকে নানাভাবে সতর্ক করা হয়েছে। মমতা ব্যানার্জি টুইটারে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কেউ কোনো রকম প্যানিক ছড়াবেন না, সরকার সব রকমভাবে পাশে আছে।’

কৃষ্ণকুমার দাস বলেন, ‘সব থেকে বড় কথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম থেকে শুরু করে মমতা ব্যানার্জি সবাই বলেছেন, কেউ এখন রাস্তায় বের হবেন না, ঘরে থাকুন। শান্তিতে থাকুন, নিরাপদে থাকুন। কিন্তু আইলা ও ফণির পর নতুন করে বুলবুল দুই বাংলার মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে দুই দেশের প্রসাশনই ঘুর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে কলকাতার মেয়র ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘আমরা কলকাতা পুরসভা থেকে সবধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রত্যেকটা ড্রেনের পাম্পিং সিস্টেম চলছে। গত এক ঘণ্টায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আর কলকাতা যাতে নরমাল থাকে তার সব ব্যবস্থা রেখেছি। আমাদের মেডিকেল ইউনিট রেডি আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কন্ট্রোল রুমে থাকব। যতক্ষণ না ঘুর্ণিঝড়টি কলকাতা অতিক্রম করে যাচ্ছে আমি কন্ট্রোল রুমে আছি। তারপর আমরা বাড়ি যাব। পাম্পিং সিস্টেমগুলোর সাথে আমার যোগাযোগ হয়েছে। যদি গাছ ভেঙে পড়ে তা কাটার জন্য ইউনিটও রেডি রেখেছি।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমআই/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন