মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সহায়তায় প্রস্তুত ১০ যুদ্ধ জাহাজসহ মেডিকেল টিম

নভেম্বর ৯, ২০১৯ | ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল পরবর্তী পরিস্থিতিতে জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তায় ১০টি যুদ্ধজাহাজসহ নৌ কন্টিনজেন্ট ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রেখেছে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী। এর মধ্যে বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা ও সাতক্ষীরার জন্য একটি করে মোট পাঁচটি এবং চট্টগ্রামের তিনটি ও সেন্টমার্টিনে দুটি যুদ্ধ জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

খুলনা অঞ্চলের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনায় বানৌজা কর্ণফুলী, তিস্তা, পদ্মা, এলসিভিপি ০১২ ও এলসিভিপি ০১৩ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪টি নৌ কন্টিনজেন্ট যে কোন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রামে ৩টি জাহাজ বানৌজা শাহজালাল, শাহ পরান ও অতন্দ্র দ্রুততম সময়ে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকায় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বানৌজা সমুদ্র জয় ও সমুদ্র অভিযান জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনে অবস্থান করছে।

তাছাড়া নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে নৌবাহিনী।

খুলনা নৌ অঞ্চল থেকে মোতায়েনকৃত জাহাজসমূহ বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা, সাতক্ষীরার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাসমূহে ২ হাজার প্যাকেট জরুরি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করবে। যার প্রতিটি প্যাকেটে রয়েছে সাড়ে সাত কেজি চাল, দেড় কেজি ডাল, দেড় লিটার সয়াবিন তেল, এক কেজি চিড়া, এক কেজি মুড়ি, আধা কেজি গুড়, আধা কেজি বিস্কুট, দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি, দুই ডজন মোমবাতি, দুই ডজন দিয়াশলাই বাক্স এবং জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ।

এছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরী চিকিৎসা সহায়তার জন্য ৫টি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করবে। পাশাপাশি ৪টি নৌ কন্টিনজেন্ট যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

সেন্টমার্টিনে নৌবাহিনীর ২টি যুদ্ধজাহাজ সমুদ্র জয় ও সমুদ্র অভিযান দুই টন চিড়া, এক টন মুড়ি, দুই টন চাল, দেড় টন গুড়, পাঁচশ কেজি ডাল, সাতশ কেজি চিনি, পাঁচশ প্যাকেট মোমবাতি, দুইষ পঞ্চাষ ডজন দিয়াশলাই নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি সেন্টমার্টিনের ফরওয়ার্ড বেইজের নৌ সদস্যরা জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

চট্টগ্রাম ও ঢাকায় উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুদ্ধজাহাজ ও নৌ কন্টিনজেন্টও ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতায় নৌবাহিনী তিনস্তরের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিএস/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন