সোমবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২ পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে লোক নাট্যদলের আমরা তিনজন

নভেম্বর ১২, ২০১৯ | ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

এন্টারটেইনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট

১৯২৭ সালের ঢাকার পুরানা পল্টন। বিকাশ, অসিত এবং হিতাংশু তিনবন্ধু।

বিজ্ঞাপন

দিনের বেশিরভাগ সময় তিনবন্ধু একসঙ্গে থাকে, যতটা এবং যতক্ষণ সম্ভব। তিনবন্ধু একে অপরের প্রেমে পড়ে, আবার তিনজনই একসঙ্গে অন্য একজনের প্রেমে পড়ে, নাম তার – অন্তরা। বাড়ির সবাই ডাকে তরু বলে। তবে তিনবন্ধুর কাছে মেয়েটির নাম হয়ে যায় – ‘মোনালিসা’।

একদিন কাকতালীয়ভাবে রাস্তায় তাদের সাথে দেখা হয় মোনালিসা ও তার বাবা-মা’র। মোনালিসার বাবা দে সাহেব তাদেরকে বাসায় আমন্ত্রণ জানায়। বৃষ্টিমুখর একটি দিনে তারা ওদের বাড়ী যায়। কিন্তু মোনালিসার সাথে তেমন কোন কথা হয়না। এরমধ্যেই মোনালিসা টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। তিনবন্ধুর ভীষণ মন খারাপ। মোনালিসার বাবা মা তাদের সহায়তা চাইলে প্রায় একমাস দিনরাত তারা সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলে মোনালিসাকে। এতে তৈরি হয় এক আত্মিক সম্পর্কের।

বিজ্ঞাপন

সুস্থ হয়ে মোনালিসারা চলে যায় রাঁচি। ঠিকানা রাখা হয়নি, তাই মন খারাপ তিনবন্ধুরই। যেদিন ওরা ফিরলো, সেদিন স্টেশনে কচি কলাপাতা রঙের শাড়ী আর লালচে মুখাবয়বের মোনালিসাকে দেখে মুগ্ধ হয় ওরা। মোনালিসার সেকি গল্প, দেখতে দেখতে তিনবন্ধু হয়ে উঠলো চারজন।

হঠাৎ একদিন তিনবন্ধু জানতে পারে মোনালিসার বিয়ের সংবাদ। হতভম্ব হয়ে যায়। বিয়ের পর মোনালিসা চলে যায় কলকাতায়। বেশ কদিন পর জানা গেলো মোনালিসা আসছে ঢাকায় এবং সে অন্তঃসত্ত্বা। তিনবন্ধু সবসময় ঘিরে থাকে মোনালিসাকে। ও যাতে ভালো থাকে, কখনো মন খারাপ না করে, সেই চেষ্টাতেই দিন কাটে তিনবন্ধু।

এক অমাবস্যার রাতে প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকে মোনালিসা। তার চাপা কান্না তিনবন্ধুর বুক বিদীর্ণ করে দেয়। শীতের রাতে মাঠে না খেয়ে না ঘুমিয়ে, অদৃষ্টের মুখোমুখি তিন বন্ধু। রুদ্ধশ্বাসে প্রতিক্ষা করতে থাকে।

ভোরের প্রথম ছাইরঙা আলোয় ওরা দেখতে পায় দে সাহেবের বেদনার্ত নির্বাক মুখ। রাশি রাশি ফুল, আরো কত কিছু দিয়ে সাজিয়ে অন্তিম যাত্রায় – মোনালিসা।

এমনই এক হৃদয়স্পর্শী গল্পকে নাট্যমঞ্চে উপস্থাপন করছে বাংলাদেশের অন্যতম মঞ্চনাট্য প্রযোজনা সংস্থা ‘লোক নাট্যদল’। বুদ্ধদেব বসু’র গল্প অবলম্বনে নাটক ‘আমরা তিনজন’। নির্দেশনায় নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী। লোক নাট্যদল এর আগেও বুদ্ধদেব বসু’র অন্যতম মৌলিক নাটক ‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’ মঞ্চে এনেছিল এবং প্রায় অর্ধ শতাধিক প্রদর্শনী করেছে।

‘আমরা তিনজন’ নাটকটি নিয়ে নির্দেশক লিয়াকত আলী লাকী বললেন তার স্বপ্নের কথা, “যখন যে কাজ করি, মনে হয় এটিই আমার প্রিয় কাজ, অনেক ভালবাসার, অনেক আদরের। ‘আমরা তিনজন’ নাটকের বেলায়ও তাই হয়েছে। সময়ের ফাঁকে ফাঁকে গল্পটা নিয়ে স্বপ্ন দেখি, কল্পনার রাজ্যে করি বিচরণ। বুদ্ধদেব বসু আমার প্রিয় মানুষ, প্রিয় কবি, গল্পকার, ঔপনাস্যিক, প্রাবন্ধিক ও নাট্যকার। তাঁর ‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’ মঞ্চস্থ করেছি অনেক সাহস করে। অনেকেই সাহস পায়নি। নাটকটি নন্দিত হয়েছিল।"

তিনি আরো বলেন "গত বছরের স্বপ্নের কাজ প্রত্ননাটক ‘মহাস্থান’। আর এবছর ‘আমরা তিনজন’ গল্পটি পড়ার পর থেকেই নাটক করার ভাবনা আমাকে তাড়িত করে। গল্পটা বারবার পড়ি আর রবীন্দ্রনাথের গান দিয়ে তার আবহ তৈরি হয়ে যায়। ষাটের দশকের ঢাকার স্মৃতি আমাকে প্রাণিত করে। অন্যরকম প্রেমানুভূতিতে আবিষ্ট হই। বুদ্ধদেব বসু’র সান্নিধ্য, সাথে প্রিয় বর্ষা ঋতুর স্মৃতি। সাহস দেয় রবীন্দ্রনাথ, নির্মিত হয় দৃশ্যকাব্য ‘আমরা তিনজন’।"

জয় হোক বুদ্ধদেব বসু’র, জয় হোক রবীন্দ্রনাথের, জয় হোক শিল্পের আর ভালোবাসার।

‘আমরা তিনজন’ নাটকটি আগামী ১৫ নভেম্বর (শুক্রবার) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে প্রদর্শিত হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এএসজি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন