শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

যুবলীগের দুপক্ষে মারামারি দেখে সভা ছাড়লেন নওফেল

নভেম্বর ১২, ২০১৯ | ৭:০৬ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির কারণে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভা পণ্ড হয়ে গেছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি শুরুর পর তিনি বক্তব্য না দিয়ে চলে যান। মারামারিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একজন কাউন্সিলরসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

নগর যুবলীগের একাংশের নেতারা বলছেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একটি মহল ইন্ধন দিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত তৈরি করে সভা পণ্ড করেছে। চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের বড় অংশ নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায়ও প্রধান অতিথি করা হয়েছিল মহিউদ্দিনের ছেলে নওফেলকে। এ কারণে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরোধী অংশ হিসেবে পরিচিতরা সভা পণ্ড করতে ইন্ধন দিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর লালদিঘীর মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ আলোচনা সভা ও র‌্যালির আয়োজন করেছিল। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু। যুগ্ম আহ্বায়ক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় সভা শুরুর পর ৫ জন নেতা বক্তব্য রাখেন। এরা হলেন, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন বাচ্চু ও সৈয়দ মাহমুদুল হক, নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ, দেলোয়ার হোসেন খোকা ও আলতাফ হোসেন বাচ্চু।

বিজ্ঞাপন

সভায় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাঁচজনের মধ্যে সবার শেষে বক্তব্য রাখছিলেন আলতাফ হোসেন বাচ্চু। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার বক্তব্যের চলাকালে মাঠে দুপক্ষে চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়। এরপর উভপক্ষের তরুণ-যুবকেরা একে অপরকে লক্ষ্য করে পাথর ও ইটের টুকরা ছুঁড়তে শুরু করে। ১০ মিনিট উভয়পক্ষে সংঘাতের পর পুলিশ উভয়পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেয়। এর আগেই মঞ্চ ছেড়ে যান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে অতিথি করা হলেও তিনি যাননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর যুবলীগের এক নেতা সারাবাংলাকে বলেন, ‘নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মোবারক আলী একটি মিছিল নিয়ে সভায় এসেছিলেন। তিনি প্রবেশের সময় গেইটে নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এর সূত্র ধরে পরে আবারও মারামারি হয়েছে। মোবারক আলীসহ কমপক্ষে পাঁচ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’

নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ নাসির সারাবাংলাকে বলেন, ‘আলতাফ হোসেন বাচ্চু ভাই বক্তব্য শেষ করার মিনিটখানেক আগে হঠাৎ চেয়ার মারামারি শুরু হয়। এটা আমাদের কাছে পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা মনে হয়েছে। কারণ মারামারি যখন একটু থেমে আসছিল, তখন আমরা মঞ্চ থেকে দেখেছি, রাস্তা থেকে কিছু যুবক মঞ্চ লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ে মারছে। এটা সুশৃঙ্খল সংগঠনের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সভা পন্ড করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।’

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ’ খানেক যুবক পকেট থেকে পাথর বের করে ছুঁড়ে মারছিল। দুপুরের দিকে এই যুবকরা মঞ্চের সামনে মাঠে অবস্থান নেয়। এরপর সভা চলাকালে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।

যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বলেন, ‘বগিরাগত দুষ্কৃতিকারীরা সভায় মারামারি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।’

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন সারাবাংলাকে বলেন, ‘সভায় দু’পক্ষে চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি হয়েছে। এটা সামান্য ঘটনা। আমরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বড় কিছু হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন