রবিবার ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

আগে সচেতনতা পরে আইন প্রয়োগ, আসছে ট্রাফিক পক্ষ

নভেম্বর ১২, ২০১৯ | ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সড়কের নতুন আইন প্রয়োগ করতে সময় নিতে চায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এই সময়ের মধ্যে নাগরিকদের আইন মেনে চলা ও সচেতন করার জন্য কাজ করতে চায় তারা। এরপরই নতুন আইন প্রয়োগে কঠোর হতে চায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ডিএমপির ক্রাইম কনফারেন্সে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মাসিক এই কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

ডিএমপি’র একজন পুলিশ কর্মকর্তা কনফারেন্সের বিষয়ে সারাবাংলাকে বলেন, ক্রাইম কনফারেন্সে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাফিক ইস্যুতে নতুন আইন প্রয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় নতুন আইন প্রয়োগ নিয়ে ‘ধীরে চলো নীতি’ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার আগে মানুষকে সচেতন করার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।

এসময় কমিশনার বলেছেন, আইন প্রয়োগের আগে একটি ট্রাফিক সপ্তাহ বা ট্রাফিক পক্ষ ঘোষণা করা হবে। ওই সময়ে মানুষকে নানাভাবে সচেতন করার কাজ করা হবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে এ মাসের শেষে বা আগামী মাসের শুরুতে ট্রাফিক সচেতনতা পক্ষ বা সপ্তাহ শুরু হতে পারে। এই কার্যক্রমে নতুন আইন সম্পর্কে আরও বেশি জানানো হবে সবাইকে। এরপরই আইন প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে ভাবা হবে।

বিজ্ঞাপন

কনফারেন্সে আলোচনা হয়, বিআরটিএ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স সময়মতো দেওয়া হচ্ছে না। অনেক দিন থেকে কোনো লাইসেন্স ইস্যু করা হচ্ছে না। যে কোম্পানি ডিজিটাল লাইসেন্স তৈরি করছিল, সেই কোম্পানি এখন আর তৈরি করবে না। ফলে নতুন কোনো কোম্পানিকে দিয়ে লাইসেন্স তৈরি করতে হবে। যার কারণে প্রায় দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ লাইসেন্সধারী লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। লাইসেন্স পাওয়ার আগে আইন প্রয়োগে কঠোর হলে অন্য কোনো সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এছাড়া গাড়ির অন্যান্য কাগজপত্রও দ্রুত ঠিক করার জন্য মালিকরা চেষ্টা করছেন।

আইন প্রয়োগ করে জনগণকে সমস্যায় ফেলা পুলিশের কাজ নয়। বরং আইনকে শ্রদ্ধা করে জনগন যেন সচেতন হয় এবং গাড়ির সব কাগজপত্র সঠিকভাবে রাখে, সেটাই মূল উদ্দেশ্য বলেও আলোচনা হয় কনফারেন্সে।

পুলিশের একজন সার্জেন্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলাকে বলেন, আইন প্রয়োগের আগেই যদি ভয়ে মালিকরা গাড়ির সব কাগজপত্র ঠিক করেন, সেটাই হবে উত্তম পন্থা।

ওই সার্জেন্ট জানান, নতুন আইন অনুযায়ী একজন সার্জেন্ট এখন ৫ হাজার, ২০ হাজার, ২৫ হাজার এমনকি ৬ মাস বা ২ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারবেন।  একটি বাসের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলে সেই ২০ হাজার টাকা তুলতে তো কয়েক মাস লেগে যাবে। ফলে নতুন কোনো সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই আইন প্রয়োগের চেয়ে সচেতনতা প্রসারেই সমস্যার সমাধান দেখছে পুলিশ।

ট্রাফিক পক্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি মিডিয়া) মাসুদুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, সড়কে নতুন আইন প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জনগণকে সচেতন করার জন্য একটি ট্রাফিক পক্ষ বা ট্রাফিক সপ্তাহ দেওয়ার কথাও হয়েছে। তবে সেটি কবে নাগাদ হতে পারে, সে তারিখ ঠিক হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন