শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

নাগরিক সেবায় এবার ডিএনসিসিতে ‘৩৩৩’ হেল্পলাইন

নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নাগরিক সেবা দিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) যুক্ত হলো হেল্পলাইন নম্বর ‘৩৩৩’। বাংলাদেশের সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে ডিএনসিসিই প্রথম এ ধরনের সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে ডিএনসিসির নাগরিকরা মুঠোফোনেই বছরের প্রতিটি দিন বিভিন্ন ধরনের সেবা পাবেন। এই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেই তথ্য পাওয়া থেকে শুরু করে অভিযোগের নিষ্পত্তিও করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবার উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রধামন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ‘৩৩৩’-এর উদ্বোধন করেন। এর মূল স্লোগান হচ্ছে ‘তথ্য সেবা সবসময়’। এই স্লোগানকে সামনে রেখে এরই মধ্যে এই সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে দেশের একাধিক মন্ত্রণালয় ও দফতরসমূহ। এই সফলতার ধারাবাহিকতায় দেশের প্রথম সিটি করপোরেশন হিসাবে ডিএনসিসি আজ থেকে যুক্ত হলো এই আধুনিক সেবা প্রদান কার্যক্রমের সাথে।’

তিনি বলেন, ‘ডিএনসিসির মেয়র বারবার এ জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। তার নিরলস কর্মপ্রচেষ্টার জন্যই আজ সিটি করপোরেশনের সেবাগুলো একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম পেল। আমরা আমাদের ‘এক-সেবা’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি প্রায় ১৬৪টি সেবা ডিজিটালি দিচ্ছি। কেউ যদি নিরক্ষরও হয় তিনিও সহজেই ৩৩৩ এর মাধ্যমে সেবা পাবেন। তিনি ফোন দিয়ে সেবা চাইলে সিটি করপোরেশন থেকে প্রতিনিধি সেবাগ্রহীতার কাছে গিয়ে তাকে সেবা দেবেন, ফরম পূরণ করে দেবেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যান্য হেল্পলাইনগুলোর সাথে ৩৩৩ কে যুক্ত করা হবে বলেও জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) একটি চুক্তি সই হবে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আশা করেন, এর মাধ্যমে অন্যান্য সংস্থাগুলোর সেবাও এক জায়গা থেকেই নাগরিকদের দেওয়া সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ‘৩৩৩’ সেবা চালু করলাম। কিন্তু এর মাধ্যমে যথাযথ সেবা প্রদান নিশ্চিত করাই এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহিতার সময় এসেছে। মেয়র থেকে শুরু করে সব কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রত্যেককেই নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করতে হবে। জনগণের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মানুষ জানে না কোথায়, কার কাছে, কীভাবে, কত টাকায়, কী সেবা পাওয়া যাবে। তাই সিটি করপোরেশনের সব সেবা ও তথ্য যাতে জনগণ একই জায়গা থেকে পেতে পারে সেজন্যই এই আধুনিক তথ্যসেবা চালু করছে ডিএনসিসি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস থেকে জন্ম সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। শিগগিরই জনগণ এর সুফল পাবেন। এরপর পরিকল্পনা আছে, জন্ম সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সের মত দলিলও ঘরে বসেই ডেলিভারি নিতে পারবেন নাগরিকেরা।’

মেয়র বলেন, ‘আগে কোনো সময় নাগরিকেরা আমাদের ফোন করতে পারত না। এখন থেকে ফোন করতে পারবে, প্রশ্ন করতে পারবে; সেবা ও হয়রানি নিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবে। জনগণের কাছে জবাবদিহিতার চ্যালেঞ্জ এটি।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এর প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মান্নানসহ এটুআই, মন্ত্রণালয় ও ডিএনসিসির কাউন্সিলররা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন