শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

৯৪ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে, উৎপাদন ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট

নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | ২:০৮ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রায় ৯৪ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে পেরেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এখন আমরা প্রায় ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছি। আমরা কারও কাছে ভিক্ষা চেয়ে, হাত পেতে চলতে চাই না। আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চাই, মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে চলতে চাই।’

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৩ নভেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সাতটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও ১০টি জেলার ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার একটি স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ে তোলা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবন মান উন্নত করবেন। কিন্তু আমাদের দুভার্গ্য তিনি সেটা সেটা করে যেতে পারেননি। ৭৫-এর ১৫ আগস্ট তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে সে আশা আকাঙক্ষা সম্পূর্ণভাবে ধুলিসাৎ করা হয়। ২১ বছর পর যখন আওয়ামী লীগ সরকারে আসে তখন আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করি। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাব এবং দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করব।’

মুজিববর্ষেই আলোকিত হবে গোটা বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

এছাড়া তৎকালীন সময়ে বিদ্যুৎ সমস্যার প্রকটতা তুলে ধরেন এবং সেই সময় মাত্র ১৬ শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হত সে কথা তুলে ধরে বলেন, ‘সারাদেশ অন্ধকারে ছিল। তখন আমরা উদ্যোগ নিলাম শুধু সরকারিভাবে না, বেসরকারিভাবেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে।’

এরপর তার সরকারের মেয়াদে কিছু উদ্যোগ নিয়ে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার তিন শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাঁচ বছর পর আমরা সরকারে আসতে পারেনি। এরপর আসল বিএনপি-জামায়াত জোট। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, তাদের পাঁচ বছর এবং এর পরবর্তীতে আরও দুই বছর ইমার্জেন্সি দিয়েছিল কেয়ারটেকার সরকার।’

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠন করলাম তখন দেখলাম ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট রেখে গিয়েছিলাম, তার থেকে উৎপাদন কমে গেছে। সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে আজকে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করি প্রায় ২২ হাজার মেগাওয়াট। তার সঙ্গে আজকে যোগ হবে ৭৯০ মেগাওয়াট। প্রায় ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এখন উৎপাদন করতে পারছি। আমরা ইতোমধ্যে প্রায় ৯৪ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছি। বিতরণ এবং সঞ্চালনের ব্যবস্থা করছি। উৎপাদনের সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং বিতরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি এবং তার শুভফল দেশের মানুষ পাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ যাতে এই ফলটা ভোগ করতে পারে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। উন্নয়ন শুধু শহরে বসবাস করা বা রাজধানীতে বসবাস করা কিছু মানুষেরই উন্নয়ন না, উন্নয়নটা হচ্ছে একেবারে গ্রাম পর্যায়ের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, আর্থ-সামাজিক উন্নতি করা, তাদের জীবনমান উন্নত করা, কর্মসংস্থান করা। তাদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসহ সব ধরনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা।’

উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব থেকে অগ্রাধিকার দিয়েছি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে। আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছি। এখন খাদ্য-পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা। কারও কাছে ভিক্ষা চেয়ে হাত পেতে চলতে চাই না। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজের খাদ্য উৎপাদন করে আমরা সরবরাহ করতে চাই। আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চাই। মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে চলতে চাই। যেটা আমাদের জাতির পিতা শিখিয়েছেন।’

এছাড়া দেশবাসীকে সরকারের গঠনের সুযোগ দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বারবার আমাদের ভোট দিয়েছেন এবং তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। এই সুযোগ দিয়েছেন বলেই আজকে আমরা দেশের উন্নয়নটা করতে পারছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটা লক্ষ্য স্থির করেছি। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন। সেদিন থেকে পরবর্তী ২০২১ সাল। ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করব। আমরা ২০২০ মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ আমরা মুজিব বর্ষ ঘোষণা দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী আজ ৭৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এগুলো হলো- আনোয়ারা ৩০০ মেগাওয়াট, রংপুর ১১৩ মেগাওয়াট, কর্ণফুলী ১১০ মেগাওয়াট, শিকলবাহা ১০৫ মেগাওয়াট, পটিয়া ৫৪ মেগাওয়াট, গাজীপুরে নির্মিত রুরাল পাওয়ার কোম্পানির ১০০ মেগাওয়াট এবং তেঁতুলিয়া আট মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র।
এছাড়াও শতভাগ বিদ্যুতায়ন উদ্বোধন হওয়া ২৩ উপজেলা হল, বগুড়ার শেরপুর, গাবতলী, শিবগঞ্জ, চট্টগ্রাম জেলার লোহাগড়া, ফরিদপুর জেলার মধুখালী, নগরকান্দা, সালথা, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি উপজেলা, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর, নবীগঞ্জ উপজেলা, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও মহেশপুর উপজেলা, কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলা, নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম, লালপুর, সিংড়া উপজেলা, নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ উপজেলা, পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া, কাউখালী, ইন্দুরকানী উপজেলা।

উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মসূচিগুলোর উদ্বোধনের পর গণভবনে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে ভিডিও চিত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে একে একে ফরিদপুর, নাটোর, পিরোজপুর ও নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়ে মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান সরকার, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ছিলেন। গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন