বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেতন গ্রেড মানবেন না প্রাথমিকের শিক্ষকরা

নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | ৩:১০ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়িয়ে সরকারের অর্থ বিভাগ যে গ্রেড নির্ধারণ করে দিয়েছে তা মানবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিকের শিক্ষকেরা। এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে তার সিদ্ধান্ত ও সাক্ষাৎ প্রার্থনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শামছুদ্দিন বলেন, ‘যেভাবে বেতন বৃদ্ধি করার বিষয়ে অর্থ বিভাগ সম্মতি দিয়েছে সেটা আমরা মানছি না। এ বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত ও সাক্ষাৎ প্রার্থনা করছি। তিনি আমাদের দুঃখের কথা শুনে যে বেতন গ্রেড নির্ধারণ করে দেবেন আমরা সেটিই গ্রহণ করব।’

আলোচিত এই শিক্ষক নেতা বলেন, ‘১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাইছি। শিক্ষকদের দুঃখ কেবল তিনিই বুঝতে পারেন। আমাদের এই দাবি মানা হবে বলেই আমরা আশা করছি। এটি করা না হলে নতুন করে আন্দোলনে যাবেন শিক্ষকরা।’

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির মুখপাত্র এস এম ছায়িদ উল্লাও প্রায় একই বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদা দেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেননি। এজন্য আমাদেরকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। আদালত ১০ম বেতন গ্রেড করার পক্ষে রায় দেওয়ার পরও অর্থ বিভাগ প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১তম রেখেছে। আমরা এই সিদ্ধান্ত মানি না।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে, বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে অর্থ বিভাগ সম্মতি দিয়ে বুধবার (১৩ নভেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। যেখানে প্রশিক্ষণ পাওয়া ও প্রশিক্ষণবিহীন দুই ধরনের প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১তম এবং আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৩তম রাখা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের সম্মতি পাওয়ার বিষয়টি সারাবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন।

সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘সরকারের অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্রটি আমরা পেয়েছি। এখন দাফতরিক কাজ শেষে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। তাছাড়া বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া কেমন সেটিও আমরা যাচাই করে দেখছি।’

বর্তমানে প্রশিক্ষণ পাওয়া প্রধান শিক্ষকেরা ১১তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকেরা ১২তম গ্রেডে বেতন পান। অন্যদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকেরা ১৪তম গ্রেডে ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকেরা ১৫তম গ্রেডে বেতন পান।

সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে জটিলতার অবসান

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করার দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের হুমকি দিয়েছিলেন শিক্ষকরা।

প্রাথমিক শিক্ষকদের এই হুমকিতে প্রথমে কিছুটা দোলাচলে থাকলেও পরে তাদের বাদ দিয়েই সমাপনী আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে সমাপনী আয়োজনের জন্য মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষকদেরকে নির্দেশনাও দিয়ে রেখেছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।

ডিপিইর পরিচালক (প্রশাসন) মো. সাবের হোসেন স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়, আগামী ১৭ নভেম্বর সমাপনী ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। এবার ৭ হাজার ৪৫৮টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৯৩১টি ও ৩ হাজার ৫২৭টি মাদ্রাসায় কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ডিপিই থেকে সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কেন্দ্র নির্বাচন কাজ শেষ হলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কেন্দ্র সচিব অথবা ইনভিজিলেটর হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত, সেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রয়োজনে মাধ্যমিক বিদ্যালয় অথবা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বা সুপারিনটেনডেন্ট এবং সহকারী শিক্ষকদের দায়িত্ব প্রদান করে পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্নের বিকল্প প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে এ নির্দেশনা জারির পর দিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এবং সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করার পর শিক্ষকেরা সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

এ ব্যাপারে সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, আমরা সমাপনী পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে চাচ্ছি। এই পরীক্ষা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত গড়ে দেয়। ফলে আন্দোলনের কারণে যেন পরীক্ষা বাতিল না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসায় পরীক্ষাটি ভালোভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিএস/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন