শনিবার ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘চট্টগ্রামে যখন দেখি আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের শত্রু, কষ্ট পাই’

নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | ৪:৫২ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের মধ্যে অন্তর্কলহ দেখে মনে কষ্ট পান বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। চট্টগ্রামে ‘আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের শত্রু’— এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চট্টগ্রামে মাঝে মাঝে যখন তুচ্ছ কারণে অবাঞ্ছিত, অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তখন মনে বড় কষ্ট লাগে। বড় দুঃখ পাই। সামান্য কারণে একে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। চট্টগ্রামে মাঝে মাঝে যখন দেখি আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের শত্রু, কষ্ট লাগে, দুঃখ পাই। চট্টগ্রামে মাঝে মাঝে যে কলহ দেখি, এটাই চট্টগ্রামের বড় দুর্বলতা।’

চলমান শুদ্ধি অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। যারা অন্তর্কলহ করবে, অপকর্ম করবে, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, ভূমি দখল, মাদক ব্যবসা করবে, সেসব অপকর্মদারীদের স্থান আওয়ামী লীগে নেই। আমাদের দূষিত রক্তের দরকার নেই। দূষিত রক্ত বের করে দিতে হবে। বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে। গুটিকয়েক খারাপ লোকের জন্য গোটা আওয়ামী লীগ বদনামের ভাগিদার হবে না। গোটা আওয়ামী লীগের ভালো লোকদের ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না।’

বিজ্ঞাপন

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘খারাপ আচরণ উন্নয়নকে ম্লান করে দিতে পারে। আমরা পরিবর্তন চাই, শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত যে পরিবর্তন। সে পরিবর্তন চাই না যেটা আওয়ামী লীগের আদর্শের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন। ট্র্যাডিশন চাই, সেটা হচ্ছে সিনিয়র জুনিয়রদের স্নেহ করবে, জুনিয়র সিনিয়রকে সম্মান করবে। এখানে আমরা ডিজিটাল চাই না। আওয়ামী লীগকে গণতন্ত্র অক্ষুন্ন রাখতে হবে, সেটাই ট্র্যাডিশন। মানুষের মাঝে থেকেই পরিবর্তনের ধারা এগিয়ে নিতে হবে।’

প্রয়াত নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মৃতিচারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শুধু ব্যবসা করলে তিনি দেশের এক নম্বর ধনী হতেন। কিন্তু রাজনীতিকে তিনি মানি মেকিং মেশিন করেননি। আজ অনেকে রাজনীতিকে কেনাবেচার পণ্য মনে করে। জনগণকে তিনি ভালোবাসতেন বলেই তার প্রতি জনগণের ভালোবাসা আজও দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। চট্টগ্রামের সমার্থক হয়ে গিয়েছিল দুই নাম— বাবু ভাই ও মহিউদ্দিন চৌধুরী।’

স্মরণসভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাবু ভাই রাজনীতিকে ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। অনেক বিত্ত-বৈভবের মালিক রাজনীতিতে এসে রাজনীতিকে কিনতে চায়। যারা রাজনীতিকে অর্থ দিয়ে কিনতে চান, তাদের বলব বাবু ভাইয়ের কাছ থেকে শেখার জন্য, যার অর্থ বিত্ত থাকার পরও রাজনীতিকে কেনার চেষ্টা করেননি। তিনি বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে কখনো বেঈমানি করেননি।’

প্রয়াত নেতার সন্তান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘আমার বাবা ব্যবসার জন্য রাজনীতি করেননি। পঁচাত্তরের পর আওয়ামী লীগ করার মানুষ পাওয়া যায়নি। আজ অনেকে দল করতে চায়। দেশ আজ গর্ব করার মতো জায়গায় পৌঁছেছে। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র চায় আমাদের ধ্বংস করতে, তারা বসে নেই। আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টিকে আছে দলীয় নেতাকর্মীর কারণে।’

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের পর দুঃসময়ে যখন অনেক বড় বড় নেতা আস্থার সংকটে ভুগেছিলেন, তখন তিনি (আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু) আস্থা হারাননি। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে অনেকে ক্ষমতার উচ্ছিষ্টের লোভে পড়েছিলেন। তখন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু দল ছেড়ে যাননি, বরং নিজের সর্বস্ব ঢেলে দিয়ে দলের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের সেই ত্যাগে আজ দল টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায়।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় উপদফতর সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী, উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ এবং পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহারুল ইসলাম চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন