শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

জাবি খুলে দিতে হবে, ভিসিকে ৮ দিনের আল্টিমেটাম

নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | ৭:১৫ অপরাহ্ণ

জাবি করেসপন্ডেন্ট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামকে আট দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, আগামী ২১ নভেম্বরের মধ্যে জাবির আবাসিক হলগুলো খুলে দিতে হবে। তা না হলে ২২ নভেম্বর থেকে তারা আরও জোরালো আন্দোলন শুরু করবেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরে’র ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ২১ নভেম্বরের মধ্যে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাখান করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায় ২২ নভেম্বর থেকে আরও জোরালো আন্দোলন শুরু করা হবে। আর এই সময়ে উপাচার্য কোনো নীতি-নির্ধারণী কাজে অংশ নিতে পারবে না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেন, গত ৫ নভেম্বর আন্দোলনকারীদের ওপর উপাচার্যের প্রত্যক্ষ মদতে ছাত্রলীগের হামলার পর তিনি আর স্বপদে থাকার অধিকার রাখেন না। এরপর তিনি নিজের পদে টিকিয়ে রাখার জন্য হাজারও শিক্ষার্থীর দুর্ভোগের কথা চিন্তা না করেই বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সেদিন শত শত শিক্ষার্থী হলের তালা ভেঙে রাস্তায় বিক্ষোভে নেমে পড়েন। এতে প্রমাণ হয়, উপাচার্য এই নৈতিক ও যৌক্তিক আন্দোলনকে ভয় পান। আর তা দমাতেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরিফুল ইসলাম অনিক আরও বলেন, কেবল আর্থিক কেলেঙ্কারি নয়, উপাচার্যের প্রত্যক্ষ মদতে হামলা ও অদক্ষ-অযোগ্য, ভারপ্রাপ্ত প্রশাসন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় তার অপসারণ জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, অধ্যাপক তারেক রেজা ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী), জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জাবি শাখার নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে জাবি উপাচার্য ড. ফারাজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন জাবি’র শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে গত ৫ নভেম্বর আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এতে করে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন আরও প্রবল হলে ওই দিনই সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন