সোমবার ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ওমানকে রুখে দিতে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | ১০:৫০ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট

রাত ফুরোলেই আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জের সামনে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় রাউন্ড ও এশিয়ান কাপের চতুর্থ ম্যাচে ওমানের সঙ্গে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে চলেছেন জামাল ভূঁইয়ারা। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের তুলনায় ১০০ ধাপ ওপরে থাকা ওমানকে রুখে দিতে আত্মবিশ্বাসী লাল-সবুজরা। সম্প্রতি দলের পারফরম্যান্সের আত্মবিশ্বাস এ ম্যাচেও টেনে আনতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

ঠেকিয়ে রাখার উদ্দেশ্য নিয়ে ৯ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ওমানেই অবস্থান করছেন জামাল ভূঁইয়ারা। মাস্কটেই কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কাজ করেছে। আত্মবিশ্বাস নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ওমানের সঙ্গে দেশটির সুলতান কাবুস স্টেডিয়ামে নামবে জাতীয় দল।

কৌশলেও খুব একটা পরিবর্তন আনবেন না কোচ জেমি ডে। কাতার-ভারতের সঙ্গে যে কৌশলে খেলেছে, সেভাবেই ওমানের মাঠেও কৌশল আটবেন জামাল ভূঁইয়ারা। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ (১৮৪) থেকে ঠিক ১০০ ধাপ ওপরে অবস্থান করছে ওমান (৮৪)। আফগানিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে মাস্কট হান্টাররা। ভারতকে ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। কাতারের সঙ্গে ২-১ ব্যবধানে হারলেও টক্কর দিয়ে খেলেছে ওমান।

এমন দলের সঙ্গে কৌশলী হতে হচ্ছে বাংলাদেশের। তাই সাধারণভাবেই রক্ষণ শক্তিশালী করে প্রতিআক্রমণে মনোযোগ দিচ্ছে জেমি ডে। এই কৌশলটাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে ফুটবলাররা। জেমির কথায়, ‘সাধারণভাবেই শুধু অনুশীলন করছি। কৌশল যা আছে তাই। শুধু ওমানের সঙ্গে পূর্ণ পয়েন্ট খোয়াতে চাই না। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

ম্যাচটি গ্রুপের সবচেয়ে কঠিন বলে মনে করছেন কোচ। এ পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সেটাও জানিয়ে দিলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে। আমরা কাতারের সঙ্গে হোম ম্যাচে ভালো খেলেছি হোম অ্যাডভানটেজ নিয়ে। আমরা সম্প্রতি যা করেছি, সেটার দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। কৌশল নিয়ে খুবই স্ট্রিক্ট থাকতে হবে।’

ম্যাচে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ওমানকে রুখে দিয়ে পয়েন্ট নিয়ে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, ‘ম্যাচটি কঠিন হতে চলেছে। আমরা জানি ওমান একটি ভালো সংগঠিত দল। তাদের ভালো স্কোরার আছে, যারা স্কোর করতে পারে। আমাদের টার্গেট থাকবে তাদের থামানো। আমরা তাদের দুর্বলতা ও শক্তির জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করেছি। এই ম্যাচে আমাদের পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে হবে। তাদের হারাতে হলে আমাদের চান্সগুলো কাজে লাগাতে হবে। যে চান্সগুলো পাব, সেখান থেকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা ভালো রেজাল্ট নিয়ে ফিরতে পারব।’

এদিকে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে চায় ওমান। দলের গোলরক্ষক আল ফারজির কথায়, ‘সেকেন্ড রাউন্ড থেকে ওপরে যেতে হলে কষ্ট করতে হবে আমাদের। কোনো দলই ছোট নয়। সবাই তাদের প্রমাণ করতে আসে। হোম ম্যাচে তিন পয়েন্ট নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমরা গ্রুপের শীর্ষে থাকতে চাই।’

ওমান দলের কোচ এরউইন কোম্যান বাংলাদেশের সম্প্রতি তিনটি ম্যাচই পর্যবেক্ষণ করেছে বলে জানান। বাংলাদেশকে সমীহ করেই বললেন, ‘আমরা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি বাংলাদেশ দলকে। ভারতের সঙ্গে তারা দারুণ খেলেছে। তারা সংগঠিত দল এবং কাতার বাংলাদেশে গিয়ে অতিরিক্ত মিনিটে গোল পেয়েছে। আফগানিস্তান শুধু একটি গোল দিতে পেরেছে। এই ম্যাচটা আমাদের জন্য সহজ হবে না।’

পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশের বিশেষভাবে দু’জন ফুটবলারের দিকে মনোযোগ রাখবেন বলে জানান কোম্যান, ‘ইব্রাহিম ও নবীব নেওয়াজ জীবনকে নিয়ে কাজ করেছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী।’

এদিকে, ৯ দিনের ক্যাম্পে প্রস্তুতি ম্যাচে ওমানের প্রিমিয়ার লিগের দল মাস্কট এফসিকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে জেমির শিষ্যরা। জয়ের আত্মবিশ্বাসটা বাড়তি পাওনা হিসেবে কাজ করবে।

এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বের ‘ই’ গ্রুপে এখন পর্যন্ত মোট তিনটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে আফগানিস্তানের কাছে ১-০ ও কাতারের কাছে ২-০ ব্যবধানে হারলেও শেষ ম্যাচে ভারতের মাটি থেকে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে ফিরেছেন জামালরা।

চতুর্থ ম্যাচে ১৪ নভেম্বর সুলতান কাবুস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ওমানের বিপক্ষে নামবে ফুরফুরে বাংলাদেশ— এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন