বুধবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

দেড়শ’তেই ইনিংস গুটিয়েছে টাইগারদের

নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৩:২৩ অপরাহ্ণ

সকালে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল হক। নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান নিষেধাজ্ঞায় পড়ে নেই দলে। আর তাই তো অধিনায়কত্বের ভার পড়েছে মুমিনুলের কাঁধে। এই টেস্ট দিয়ে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটছে মুমিনুল হকের। প্রথম ইনিংসে ৫৮.৩ ওভারে সব ক'টি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে মাত্র ১৫০ রান। টাইগারদের হয়ে ২০'র কোটা পার করতে পারেন মাত্র তিন ব্যাটসম্যান। সর্বোচ্চ রান আসে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ সামি এবং উমেষ যাদব।

বিজ্ঞাপন

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম তিন ওভারই মেইডেন দেন টাইগার ব্যাটসম্যানরা। আর পিচ রিপোর্ট জানিয়েছিল এই উইকেটে প্রথম কয়েক ঘণ্টা বাড়তি সুবিধা পাবেন পেসাররা। আর সেই সুবিধায় কাজে লাগিয়েছে ভারতীয় পেসাররা। শুরু থেকেই দারুণ লাইন এবং লেংথে বল করতে থাকে ঈশান্ত শর্মা এবং উমেষ যাদব। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে যাবদের অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল ব্যাটের কোনায় লেগে চলে যায় স্লিপে দাঁড়ানো রাহানের হাতে। আর ৬ রান করা ইমরুল কায়েসের তুলে দেওয়া ক্যাচ তালু বন্দী করতে একটুও ভুল করেননি আজিঙ্কা রাহানে।

পরের ওভার অর্থাৎ ৭ম ওভারের শেষ বলে ঈশান্ত শর্মার বলে ঋদ্ধিমান সাহার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। আউট হওয়ার আগে নামের পাশে যোগ করেন মাত্র ৬ রান। এরপর মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। দলীয় স্কোর ৩০ পেরিয়ে ৩২ হওয়ার পর ব্যক্তিগত ১২ রানে মোহাম্মদ সামির বলে এলবি'র ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মোহাম্মদ মিঠুন।

মাত্র ৩২ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মাঝেও নিজে দৃঢ়তার সঙ্গে উইকেটের এক প্রান্ত আঁকড়ে ধরে থাকেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। মোহাম্মদ মিঠুনের বিদায়ের পর তাকে সঙ্গ দিতে আসেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ উইকেটে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেয় এই জুটি। দুইয়ে মিলে অর্ধশতকের জুটি গড়েন। তবে দলীয় শত রান পূর্ণের ঠিক আগে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে রবীচন্দ্রন আশ্বিনের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান অধিনায়ক।

বিজ্ঞাপন

দলীয় শতক পূর্ণ হওয়ার আগে ফিরে যায় টাইগারদের টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যান। এরপর উইকেটে আসেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তবে তিনিও বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি। দলীয় ১১৫ রানের মাথায় ব্যক্তিগত মাত্র ১০ রানে আশ্বিনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিনিও।

এরপর লিটন দাসকে নিয়ে দলের হাল ধরতে চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম। তবে বেশি দূর নিয়ে যেতে পারেননি দলকে। মোহাম্মদ সামির বলে বোল্ড হয়ে ৪৩ রানে ফিরে যান তিনি। ঠিক তার পরের বলে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে এলবিডব্লিউ-এর ফাঁদে পরে উইকেট বিসর্জন দেন মেহেদী মিরাজ। এরপর চা-বিরতি থেকে ফিরে প্রথম বলেই প্যাভিলিয়েন ফিরে যান লিটন দাস (২১)। এরপর রান আউট হয়ে ফেরেন তাইজুল ইসলাম (১)।

ভারতের হয়ে দারুণ শুরু করে পেসাররা। প্রথমেই তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে ফেরান উমেষ যাদব, ঈশান্ত শর্মা আর মোহাম্মদ সামি।

চলতি বছরে শুরু হয়েছে প্রথমবারের মতো আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। ভারত এর আগে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে উইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলে ফেললেও ইন্দোরের ম্যাচ দিয়েই শুরু হয়েছে বাংলাদেশের যাত্রা।

বাংলাদেশ একাদশ: ইমরুল কায়েস, সাদমান ইসলাম, মোহাম্মদ মিঠুন, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, আবু জায়েদ, এবাদত হোসেন।

ভারত একাদশ: মায়াঙ্ক আগারওয়াল, রোহিত শর্মা, চেতেশ্বর পূজারা, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), আজিঙ্কা রাহানে, রবীন্দ্র জাদেজা, ঋদ্ধিমান সাহা (উইকেটরক্ষক), রবীচন্দ্রন আশ্বিন, উমেষ যাদব, মোহাম্মদ শামী, ইশান্ত শর্মা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন