শনিবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘রোহিঙ্গা সমস্যায় সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতেই জিয়াউর রহমানের নাম’

নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ১:০৪ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রোহিঙ্গা সমস্যার পেছনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যকে আজগুবি বলে অভিহিত করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে সে কথা বলেছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই আজগুবি এই কথা বলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, গতকাল (বুধবার, ১৩ নভেম্বর) সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা জিয়াউর রহমানের তৈরি। কিন্তু রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে নিজেদের অনতিক্রম্য দুর্বলতা ও ব্যর্থতার গ্লানি ঢাকতেই প্রধানমন্ত্রী আজগুবি কথা বলছেন। উন্মাদ না হলে এ ধরনের কথা বলা যায় না।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দেশের জনগণ সাক্ষী— মিয়ানমার বারবার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিয়ে সমস্যা তৈরি করতে চেয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৮ সালে সেটি শক্ত হাতে মোকাবিলা করেছেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গা সংকট কঠোর ও সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের খবর যারা রাখেন, তারা এই কথাগুলো উল্লেখ করেছেন। আমরা এবারও বলেছি, রোহিঙ্গা সংকটকে দলীয়ভাবে দেখার বিষয় নয়, এটি জাতীয় সংকট। এই সংকট বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। ফলে জাতীয় সংলাপ ডাকুন। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সংলাপে বসুন।

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে এখন সমস্যাটিকে সমাধান না করে লেজে-গোবরে পাকিয়ে ফেলা হয়েছে। সরকারপ্রধান নিজের ইমেজ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে এটিকে ব্যবহার করতে গিয়ে ভয়ংকর মানবদুর্যোগ তৈরি করেছেন।

‘জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন নৈতিকভাবে দুর্বল এই সরকারের মনোবল এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে তারা কোন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে পারছেন না। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতায় প্রমাণিত হয়েছে— এই সরকার বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রী নিজের ব্যর্থতা আড়াল করতে অন্যের সফলতা নিয়ে অবান্তর কথা বলছেন,‘— বলেন রিজভী।

খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানাতে চাই, কারাগারে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অপকৌশল প্রয়োগ করছে সরকার। বিনা চিকিৎসায় তাকে কারাগারে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার চক্রান্ত চলছে। গত ৬৪৫ দিন ধরে বিনা অপরাধে কারাবন্দি খালেদা জিয়া যে গুরুতর অসুস্থ, এটা দেশের প্রতিটি মানুষ জানেন। অথচ সবকিছু জেনেও রাগের বশবর্তী হয়ে দেশনেত্রীকে কেবল কষ্ট দেওয়ার জন্যই তার চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।

রিজভী বলেন, বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সরকারের শেখানো বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দিলেও আদতে তার চিকিৎসার জন্য কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। গত এক সপ্তাহে কোনো চিকিৎসক তাকে দেখতে যাননি। তার হাতে যে ব্যথা ছিল, তা পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সারাশরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। তার ডান পায়ের গোড়ালিতে ফোঁড়ার কারণে সে যন্ত্রণা আরও তীব্র র হয়েছে। অথচ সরকারি চিকৎসকরা তার কোনো চিকিৎসা করছেন না।

রিজভী অভিযোগ জানিয়ে বলেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের তিন চিকিৎসকের সমন্বয়ে বোর্ডের যে রিপোর্ট, সেটি প্রকাশ করা হচ্ছে না। বেগম জিয়ার রিউমাটয়েড আর্থাইটিসের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান এখনো কোনো মতামত দিচ্ছেন না। শুধু তাই নয়, চেয়ারম্যান তার বোর্ডের বাকি তিন সদস্যকে নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো মিটিংও করেননি।

ব্রিফিংয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালাম, শাহিদা রফিক, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন