সোমবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২ পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘ফসলি জমি নষ্ট করে শিল্পায়ন হলে কেউ কোনো সুবিধা পাবে না’

নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ২:০৯ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ভূমি ব্যবহারের জন্য একটা নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘শিল্পায়নের জন্য তিন বা দুই ফসলি জমি কেউ নষ্ট করতে পারবে না। কেউ যদি এই ধরনের তিন বা দুই ফসলি জমি নষ্ট করে শিল্পায়ন করে তাহলে কোনো সুবিধা পাবে না।’

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পল্লীকর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) উন্নয়ন মেলা-২০১৯’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী সরকারের টানা মেয়াদে কৃষকদের কল্যাণে কৃষি উপকরণ কার্ড, ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খোলাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘কৃষকদের যত রকম সহযোগিতা আমরা করি। পাশাপাশি শিল্পায়নের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেই এবং এই শিল্পায়নটা যাতে সারাদেশে হয়। আবার কৃষি জমি যেন আমাদের রক্ষা পায়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। যেখানে-সেখানে যত্রতত্র টাকা পেয়েই অমনি জমি কিনে শিল্প করবে, সেটা না। এখন ভূমি ব্যবহারের জন্য একটা নীতিমালা প্রণয়ন করেছি। ইতোমধ্যে বলা আছে, তিন ফসলি জমি বা দুই ফসলি জমি কেউ নষ্ট করতে পারবে না। আর সেই নীতিমালা যাতে যথাযথভাবে কার্যকর হয় সেই পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। কোনো সুবিধা কেউ পাবে না যদি তারা এই ধরনের তিন ফসলি বা দুই ফসলি জমি নষ্ট করে।’

প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা যা আমরা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছি। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। কারণ কারও কাছে হাত পেতে আমরা চলতে চাই না। আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছি। ১৯৯৬ সালে এসেই একটা সার্ভে করলাম, এদেশে কত মানুষ গৃহহারা আছে। এই প্রতিটি মানুষকে একটা থাকার জায়গা করে দেব। খুব বড়োসর বাড়িঘর না, একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই। যেহেতু আমাদের দেশের মানুষ খুব দরিদ্র্য।’

এ লক্ষ্যে জাতির পিতার গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পসহ তার সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে নেওয়া প্রকল্পগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা কর্মসূচিতে আমরা একটা চেষ্টা করি, যাদেরকে আমরা দেব, তারা যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। কারও ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে না। যেকেনা কর্মসূচিতে তারা কারও ওপর নির্ভরশীল থাকবে না, একটা সময় তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০০৫-০৬ সালে আমাদের দেশে ৪১ ভাগ দারিদ্র্যের হার ছিল। আজকে তা ২১ ভাগে নেমে এসেছে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য এটাকে অন্তত ১৫-১৬ ভাগের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। যাতে করে বাংলাদেশ আর দারিদ্র্য না থেকে যেন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে চলতে পারে, সেইভাবে কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি এবং তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

‘কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। একসময় ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম ছিল এর প্রধান কাজ। আমরা এই কাজটা যাতে বহুমুখী হয়, তার ব্যবস্থা নিয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণের গন্ডি থেকে বেরিয়ে এখন সামগ্রিক উন্নয়নের দিকে পিকেএসএফ কাজ করে যাচ্ছে’- বলেও জানান তিনি।

ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে খুলনার জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের একটি উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অনেকগুলি ফান্ড আছে। স্পেশাল ফান্ড আছে। তার কল্যাণ তহবিল আছে। স্বেচ্ছাধীন তহবিল আছে। কাজেই এখান থেকে টাকা দিতে কোনো অসুবিধা নাই। আমি সাথে সাথে সেখান থেকে তাদেরকে টাকা দিচ্ছি এবং এখন একটার পর একটা জেলা আমাদের ভিক্ষুকমুক্ত হচ্ছে। কারণ মানুষ কেন ভিক্ষা নিয়ে চলবে।’

এছাড়া গৃহহীণদের আবাসন সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও উদ্যোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গৃহায়ণ তহবিল হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি তহবিল করেছিলাম। সেখানে আমরা এনজিওদের মাত্র এক পার্সেন্ট সার্ভিস চার্জে (এখন ২ পাসেন্ট চার্জে নেওয়া হয়) টাকা দিতাম। যে তারা ঘর তৈরি করে দেবে আর সেই সাথে একটা স্যানিটারি ল্যাট্টিন তৈরি করে দেবে। কিন্তু যাদেরকে তারা টাকাটা দেবে সেখানে তারা পাঁচ পার্সেন্টেজের বেশি তারা নিতে পারবে না। কারণ আপনারা জানেন যে, এনজিওরা যখন ঋণ দেয়, সেই ঋণের সুদ চক্রবৃদ্ধি হারে এমনভাবে বাড়তে থাকে, কখনো কখনো তাদের ৪০ থেকে ৪৭ ভাগ সুদ দিতে হয় এবং মানুষ আর দিতে পারে না তখন। মানুষ তখন একেবারে নিঃস্ব হয়ে যায়। সেই জিনিসটা যাতে না হয় তার জন্য গৃহায়ণ তহবিল থেকে আমরা দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্তকরণ না। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে। সম্মানের সাথে চলবে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হিসাবে মাথা উঁচু করে চলবো। এটাই হচ্ছে লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যাতে আমরা সত্যিকারভাবে সারাবিশ্বের কাছে একটা মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসাবে দেশ হিসাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি।’

‘আমাদের সমস্যা আছে, প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়। কিন্তু সেই দুর্যোগ মোকাবেলা করে মানুষের জানমাল রক্ষা করা, এ ব্যাপারেও আমরা যথেষ্ট পারদর্শী’ বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের একটা কথাই বলব আমাদের দেশের মানুষগুলিকে যদি একটু সুন্দরভাবে বোঝানো যায়, তাদের মাঝে একটা উদ্যোম সৃষ্টি করা যায়, তারা কিন্তু সত্যি খুব ভালো ফলাফল দিতে পারে এবং তারা ভাল কাজ করতে পারে। এখন আর কেউ বাংলাদেশকে অবহেলার চোখে দেখে না। ইনশাল্লাহ, ভবিষ্যতেও দেখবে না। আমাদের এটাই লক্ষ্য, আমরা যা কিছু করি না কেন, আমার তৃণমূলের মানুষগুলি যেন পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের কাজগুলি করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের যে বহুমুখী কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। তার মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাবে। ইনশাল্লাহ, এই বাংলাদেশকে আর কখনো কেউ পিছনে টানতে পারবে না।’

পিকেএসএফ-এর সভাপতি ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও পিকেএসএফ-এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন