বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

দোষীদের বিচার না হলে র‌্যাবের সফলতা ম্লান হবে: হাইকোর্ট

নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৫:১৭ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও তদন্তের মাধ্যমে সাগর রুনি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটিত না হওয়া এবং অপরাধীদের চিহ্নিত, গ্রেফতার এবং বিচারের সম্মুখীন না করতে পারা- নিঃসন্দেহে দুঃখ ও হত্যাশার বিষয়। প্রযুক্তি নির্ভর, এলিট ও চৌকস বাহিনী  র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র‌্যাব)। জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক, বেআইনী অস্ত্র উদ্ধার, ভেজাল প্রতিরোধ সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় অনন্য সফলতা পেয়েছে বিশেষায়িত এই বাহিনী। কিন্তু কিছুটা হলেও তাদের সফলতা ম্লান হবে, যদি এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করতে না পারে।’

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সাগর-রুনি হত্যা মামলার আসামী তানভীরের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া লিখিত আদেশে  এমন মন্তব্য করেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

‘আদালত প্রত্যাশা করছে যে, র‌্যাব অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করে হত্যা রহস্য উন্মোচন করবে। তারা প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারের সোপর্দ করতে সক্ষম হবে। বিশেষায়িত এই বাহিনী ব্যর্থতার দায়ভার বহন করুক, এটা কারও কাম্য নয়।’

এদিন এ মামলায় সন্দেহভাজন আসামী তানভিরের আবেদনের শুনানিতে দীর্ঘ আট বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ জানান হাইকোর্ট। বলেন, আদালত প্রত্যাশা করে র‌্যাব অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত কাজ শেষ করে হত্যার রহস্য উন্মোচন ও প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারে সোপর্দ করতে সক্ষম হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি সম্পন্ন করতে না পারলে র‌্যাবের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে বলেও মনে করেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া এ মামলায় তানভিরের সম্পৃক্ততা আছে কিনা সেটি তদন্ত করে আগামী ৪ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য দিন ঠিক করে দেন আদালত। একই সঙ্গে ওই দিন পর্যন্ত তানভিরের আদালতের হাজির থেকে অব্যাহতি দেন।

আদালত বলেন, ‘আদালত প্রত্যাশা করছে যে, র‌্যাব অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে হত্যা রহস্য উন্মোচন, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারে সোপর্দ করতে সক্ষম হবে। বিশেষায়িত এই বাহিনী ব্যর্থতার দায়ভার বহন করুক, এটা কারও কাম্য নয়।’

গত ২০ অক্টোবর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন হাইকোর্ট। ১১ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে হাজির হলে দীর্ঘ দিনেও তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে আজকে আদেশের জন্য দিন ঠিক করে দেন।

আদালতে তানভিরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন।

আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, এ মামলার সন্দেহভাজন আসামি তানভীর রহমান ২০১৪ সালে নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান। এরপর থেকে তিনি জামিনে থাকলেও প্রতি শুনানির তারিখে তাকে আদালতে হাজির হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ অবস্থার মধ্যে কোন মানুষ চলতে পারে না। দীর্ঘ দিন মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় অনিশ্চয়তা জীবন যাপন করছেন তিনি। এ কারনে তার বিরুদ্ধে মামলা বাতিল চেয়ে আবেদন করা হয়।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরের দিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও তদন্ত শেষ হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ এজেডকে/জেডএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন