বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

৩০ বছর পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন

নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় ১৯৮৯ সালে রিকশাযোগে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিকে যাওয়ার সময়  গুলিতে নিহত হয়েছিলেন বিআইডিএস'র গবেষক সগিরা মোর্শেদ। সে সময় ঘটনাটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা বলে থানায় মামলাও হয়েছিল। তবে ৩০ বছর পর সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে ৩০ বছর আগে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে বিষয়টি ফের আদালতের নজরে আসে। সেইসঙ্গে ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়। এরপর পিবিআই তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পিবিআই এর হেডকোয়ার্টারে এক সংবাদ সম্মেলন করেন পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

পিবিআইয়ের প্রধান বলেন, ‘আমরা জানতে পারি, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছিল এ হত্যাকাণ্ড। কিন্তু এটিকে সুপরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবুও বিষয়টি আরও অধিকতর তদন্তের জন্য আমরা আদালতের কাছে দুই মাস সময় চেয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই বিকেল পাঁচটার দিকে সগিরা মোর্শেদ সালাম (৩৪) বাসা থেকে বের হয়ে স্কুলের দিকে যাচ্ছিলেন। তার দ্বিতীয় শ্রেণীতে অধ্যায়নরত বড় মেয়ে সারাহাত সালমাকে (৮) বাসায় আনতে। স্কুলের সামনে পৌঁছামাত্রই অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা তার হাতের বালা ধরে টান দেয়। চূড়ি দিতে অস্বীকার করায় সগিরাকে গুলি করা হয়। খুনিদের ছোড়া গুলি তার ডান হাতে ও বুকে লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরী রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।’

তিনি বলেন, মামলা হওয়ার পর এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক সুলতান আহমেদকে। পরবর্তীতে দায়িত্ব দেওয়া হয় অপর কর্মকর্তা জলিল শেখকে। তিনি পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য-প্রমাণাদি এবং পারিপার্শ্বিক তদন্তে ছিনতাইকারী মিন্টু ওরফে মন্টুর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করে। ভিসার কাজ চলাকালে ৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে সন্দেহাতীতভাবে আসামি মারুফ রেজার নাম আসায় মামলাটির অধিক তদন্তের জন্য আবেদন করে এপিপি। কিন্তু সন্দেহাতীত আসামি মারুফ রেজা হাইকোর্টে ক্রিমিনাল রিভিশন মামলা দায়ের করে। এরপর মামলাটি তদন্তের জন্য গত ৩০ বছরে ২৬ বার তদন্ত হয়। কিন্তু মূল রহস্য উদঘাটন হয়নি।

এরপর চলতি বছরে মাঝামাঝিতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রচার হয়। সংবাদটি আদালতের নজরে আসলে হাইকোর্টে দায়েরকৃত ক্রিমিনাল মিস মামলাটি খারিজ করে দেয়। পরে জুলাইয়ের ১১ তারিখে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর পিবিআই তদন্ত কাজ শুরু করে।

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডে আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান (৫৯), ডাক্তার হাসান আলী চৌধুরী (৭০) ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদ ওরফে শাহীন (৬৪) এবং মারুফ রেজাসহ চারজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদেরকে আমরা গ্রেফতার করেছি। তারা আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। তবে তদন্তকাজ শেষে করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে আরও দু'মাস সময় শাহ হয়েছে বলে জানান তিনি।

কেন এই হত্যাকাণ্ড এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বনজ কুমার বলেন, নিহত সগিরা ও গ্রেফতার সায়েদাতুল মাহমুদা শাহীন সম্পর্কে জা। সগিরার স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরীরা তিন ভাই। আব্দুস সালাম সবার ছোট। কিন্তু তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই সবার চেয়ে বেশি উচ্চশিক্ষিত। এটি নিয়ে তাদের পারিবারিক দ্বদ্ব শুরু হয়েছিল মেজ ভাই বারডেম হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হাসান আলী চৌধুরী ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীনের সঙ্গে। তারা স্বামী-স্ত্রী ছোট ভাইয়ের এমন উন্নতি সহ্য করতে পারেনি। তাই সগিরাকে শায়েস্তা করার জন্য মারুফ রেজাকে কন্টাক্ট করে ডাক্তার হাসান আলী। এ কাজে সহযোগিতা করে তার রোগী প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা আনাস মাহমুদ রেজওয়ান। আর আনাস মাহমুদের মাধ্যমে হত্যার কাজটি পায় মারুফ রেজা। সে অনুযায়ী মারুফ রেজা প্রথমে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। বাধা দেওয়ার পর সগিরা মোর্শেদকে গুলি করেন। এতেই তিনি মারা যান।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএইচ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন