রবিবার ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

আসছে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ, সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নভেম্বর ১৫, ২০১৯ | ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

আর কিছুদিনের মধ্যেই মিশর ও তুরস্ক থেকে ৫০ হাজার মেট্রিকটন পেঁয়াজ দেশে চলে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ জেলায় জেলায় পাঠানো হবে। টিসিবি ট্রাকে করে তা বিক্রি করবে। এতে পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৪ নভেম্বর) রাতে একাদশ সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘ভারতের মাত্র একটি রাজ্যে ছাড়া গোটা ভারতে পেঁয়াজ ১০০ রূপি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ভারতও পেঁয়াজ আমদানি করছে। এক্ষেতেও আমরাও বসে নেই। মিশর, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা পেঁয়াজ আমদানি করছি।’

পেঁয়াজের বাজার

বিজ্ঞাপন

দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা বিশ্বের দরবারে একটা মর্যাদার আসনে নিয়ে এসেছি। আমি জানি দেশের কিছু লোকের এটা পছন্দ হয় না। একটি চক্র আছে যারা নানাভাবে একটা ঘটনা ঘটিয়ে দেশের বিরুদ্ধে একটা বদনাম করতে পারলেই বেশি খুশি হয়। পদ্মা সেতুর মতো একটি বড় প্রকল্প বন্ধ করার জন্য যারা বিদেশে তদবির করে বিশ্বব্যাংকের টাকা বন্ধ করে দেয়, তারা দেশের কতবড় শত্রু সেটা সবাইকে বিবেচনা করতে হবে। এরা কখনো জনগণের স্বার্থ দেখে না, নিজের স্বার্থ দেখে। কিন্তু সকল চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ভেদ করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করবো ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে। বাংলাদেশ বিজয়ের পতাকা নিয়েই বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান:

নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘মাদক-সন্ত্রাস নামক দুষ্টচক্র থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হবে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করেছে, তার কারণ সামরিক স্বৈরাচাররা অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করতে দুর্নীতিকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল, দুর্নীতির সুযোগ করে দিতে একটা এলিট শ্রেণি তৈরি করেছিল। দেশে গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থা ছিল না। তখন দেশের মানুষ থেকেছে অবহেলিত, বঞ্চিত। যার কুফলটা আমাদের দেশ ও সমাজ ভোগ করে। অতীত সরকারের সময় (বিএনপি) পুরস্কার না পেয়ে বারবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের তিরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ। তার পরেও দুর্নীতির বিষাক্ত জিনিষ সবার মাঝে, প্রতি স্তরে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু করেছি, তা অব্যাহত থাকবে। আমাদের উন্নয়নের কর্মসূচি যথাযথভাবে কার্যকর হয় সেই ব্যবস্থা করে যাব।’

খাদ্যে ভেজাল:

খাদ্য ভেজাল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মানুষের চরিত্র বদলায় না। সরকার অভিযান চালাচ্ছে বলেই মানুষ জানতে পারছে খাদ্যে ভেজাল রয়েছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে, চালিয়ে যাব। তবে ভেজাল খেয়ে খেয়ে আমরা মনে হয় অভ্যস্ত হয়ে গেছি, কারণ গড় আয়ু বেড়ে গেছে। গড় আয়ু এখন ৭২ বছরে উন্নীত হয়েছে।’

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র:

সমাপনী বক্তব্যে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রসঙ্গেও কথা বলেন সংসদ নেতা। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বহু দেশে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতেও তিন-চারটি পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র রাশিয়া নির্মাণ করছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, সকল বর্জ্য রাশিয়াই নিয়ে যাবে। এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তিনস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের ট্রেনিং দিয়ে নিয়ে আসছি। এক্সপার্ট আমরা তৈরি করছি। রূপপুরের পর দক্ষিণে একটি দ্বীপ খুঁজছি, সেখানেও আরেকটি পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করবো। আর রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র হচ্ছে, এটা সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন। এর চিমনি এতো ফুট উঁচুতে, কোন বাতাস সুন্দরবনে যাবে না। আর বিদ্যুত কেন্দ্রের ছাই সিমেন্ট ব্যবহারে লাগে। লাইন লেগেছে এই ছাইগুলো নিতে। এতে কোনভাবেই পরিবেশ নষ্ট হবে না, বরং পাঁচ লাখ গাছ লাগানো হচ্ছে।’

প্রসঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়:

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একজন ভিসি নিয়োগ দিলেই তার বিরদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। শিক্ষকরা তাদের স্বার্থের জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করবে কেন? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা বন্ধ করে ছাত্রদের লেখাপড়া নষ্ট করা হচ্ছে। অনেক কষ্ট করে আমরা সেশনজট বন্ধ করেছি। কিন্তু চক্রান্ত করে সেটা আবার সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। মুষ্টিমেয় কয়েকজনের জন্য শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে দিতে পারি না, আমরা দেব না। আইনেই রয়েছে, কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তা প্রমাণ হবে, প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদেরও শাস্তির বিধান আছে। এক্ষেত্রেও আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এএইচএইচ/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন