বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘ইচ্ছে থাকলেই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব’

নভেম্বর ১৫, ২০১৯ | ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গণসচেতনতা সৃষ্টির ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিস প্রতিরোধ্যোগ্য রোগ। ইচ্ছে থাকলেই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। আক্রান্ত হওয়ার আগেই এই রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার। আর তাই ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর বারডেম হাসপাতাল মিলনায়তনে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি কর্তৃক ‘বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ডায়াবেটিস এমন এক রোগ, স্বাস্থ্যশিক্ষাই যার প্রধান চিকিৎসা। যথাযথ স্বাস্থ্যশিক্ষা পেলে একজন ডায়াবেটিক রোগী চিকিৎসকের ওপর নির্ভর না হয়ে এ রোগ ভালভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের সচেতন করে তুলতে হবে, যাতে তারা ডায়াবেটিসকে সুনিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মঠ জীবন নিশ্চিত করতে পারেন।

অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে জীবন-যাপন পদ্ধতি ও খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে ডায়াবেটিস মহামারী আকার ধারণ করছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিস যে হারে বাড়ছে তাতে আমাদের এখনই এ রোগ প্রতিরোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠফান কার্যক্রমে এ রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধে বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় তিনি ডেঙ্গু পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ডেঙ্গু যখন বেড়ে যায় আমরা যখন কীটনাশক ছিটানোর চেয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছি। আর তখন ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসে।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি এ কে আজাদ খান। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে তিনিও গণসচেতনতার বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, মুটিয়ে যাওয়া, ফাস্টফুড জাতীয় খাদ্যের অভ্যাস ইত্যাদি কারণে দেশে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে যেসব রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তার মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার।

ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডায়াবেটিসের কারণগুলো মানুষকে জানাতে হবে, সচেতন করতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস ও শ্রম অভ্যাস সম্পর্কে ব্যাপক সচেতন থাকতে হবে। নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ডায়াবেটিস একটি ভয়াবহ রোগ।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফউদ্দিন পাঠ্যপুস্তকে ডায়াবেটিস সম্পর্কে একটি অধ্যায় সংযোজনের পরামর্শ দেন।

এছাড়া বারডেমের মহাপরিচালক নাজমুন নাহার ডায়াবেটিস সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার প্রক্রিয়ায় তরুণদের সম্পৃক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন।

আলোচনা সভা থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই এক বা একাধিক ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে।বর্তমানে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ, যা ২০৪০ সাল নাগাদ ১ কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রতিষ্ঠিত বারডেম ৫০ হাজার রোগীর কথা চিন্তা করে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে সেখানে রেজিস্টার্ড ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ।

এছাড়াও বক্তারা জাতীয় ডায়াবেটিস প্রতিরোধ নীতি ২০১৩ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন।

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ২০১৯ উপলক্ষে পালিত কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ছিল র‌্যালি, সচেতনতামূলক পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ ও বিনামূল্যে ডায়াবেটিস নির্ণয়। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিস মুক্ত রাখি’।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসবি/এসএমএন

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন