সোমবার ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

মোবাইলে কল এলে এখনো ‘বাবা’ বলে ডেকে ওঠে কান্তাশ্রীরী

নভেম্বর ১৫, ২০১৯ | ১:৫৫ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বরগুনার বামনা থানার মা ব্রিকসের ম্যানেজার ছিলেন কমল কান্তি। তার ১১ মাসের মেয়ে কান্তাশ্রীরীর মুখে আধো আধো বোল। কমল কান্তি বাড়িতে ফোন করে কথা বলেন মেয়ের সঙ্গে, মেয়ে মোবাইল কানে নিয়ে বলে ওঠে ‘বাবা’। সেই কমল কান্তি ব্যবসার কাজে গত ২১ সেপ্টেম্বর রওনা হন ঢাকার পথে। রওনা দেওয়ার আগে আদর করে ভাত মেখে খাওয়ান ১১ মাসের মেয়ে কান্তাশ্রীরীকে। তারপর আর বাড়ি ফিরতে পারেননি তিনি। বাড়ির মোবাইলে কোনো কলও আসেনি কমলের। কিন্তু কত মানুষই তো কল করে ওই মোবাইলে। আর কল এলেই মোবাইল ধরে ‘বাবা বাবা’ বলে ডেকে ওঠে কান্তাশ্রীরী। ঘরের দরজায় কেউ দাঁড়ালেও মেয়ে ডেকে ওঠে ‘বাবা’। অবুঝ শিশুকে মা কোনোভাবেই বোঝাতে পারেন না, তার বাবা কমল কান্তির কোনো খোঁজ তাদের জানা নেই। কমল কান্তি কোথায় আছেন, কেমন আছেন, আদৌ বেঁচে আছেন কি না— এর কিছুই যে জানেন না তারা!

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে মেয়ে কান্তাশ্রীরীকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কমল কান্তির স্ত্রী অনিতা রানী। তার দাবি একটাই, স্বামী কোথায় আছে— তার সন্ধান যেন পান।

অনিতা রানী সারাবাংলাকে বলেন, ছোট মেয়েকে সে অনেক ভালোবাসত। মেয়ে অন্তঃপ্রাণ ছিল। কাজে বেরিয়ে যেত সকালে, সারাদিন বাইরে থাকত। একটু পরপরই ফোন করে মেয়ের সঙ্গে কথা বলত। মেয়েটাও খুব বাবা ভক্ত ছিল। দুই মাস হতে চলল, আমার স্বাশী নিখোঁজ। কিন্তু মোবাইলে কল এলেই মেয়েটা মনে করে, ওর বাবা ফোন দিয়েছে। সবসময় বাবা বাবা বলে কান্না করে। রাতে বিছানায় বাবাকে খোঁজে। ওইটুকু অবুঝ শিশুর কান্না দেখে মনকে মানাতে পারি না। স্বামীকে হারানোর কষ্ট দ্বিগুণ হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

আনিতা রানী বলেন, কমল কান্তি ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার পথে রওনা হওয়ার পর আর তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। এর কয়েকদিন পর মাওয়া ঘাটে পাওয়া একটি লাশ আমাদের দেখিয়ে বলে, ওইটা আমার স্বামীর লাশ। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস, ওইটা ওর লাশ হতে পারে না। তাকে গুম করা হয়েছে। আমার স্বামীর শত্রুরা ওই লাশ দেখিয়ে নাটক করেছে। আমি আমার স্বামীর সন্ধান চাই। সেইসঙ্গে ওকে গুম করার পেছনে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাই।

থানা-পুলিশ ঘুরেও স্বামীর কোনো সন্ধান পাননি বলে জানান আনিতা। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান। বলেন, কয়েকদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চাচ্ছি। কিন্তু কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিচারের দাবি জানাতে প্রেস ক্লাবে এসেছি।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কমল কান্তির বাবা। তিনি বলেন, শত্রুতার জের ধরে আমার ছেলেকে গুম করা হয়েছে। পরে অন্য একটা লাশ দেখিয়ে তারা বলে, ঢাকা যাওয়ার পথে মাওয়া ঘাটে ডুবে মারা গেছে কমল। ওরা যে ছবি দেখিয়েছে, সেটার সঙ্গে আমার ছেলের কোনো মিল নেই। আমার ছেলের সন্ধান চাই।

মানববন্ধনে কমল কান্তিকে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন, একটি মহল সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। সনাতন সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে তারা। এ বিষয়ে সনাতন সম্প্রদায়কে সজাগ থাকতে হবে।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র বলেন, বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও যেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা নিরাপদে বসবাস করতে পারে, সেদিকে সরকারকে দৃষ্টি রাখতে হবে। এসময় তিনি সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান।

পরিষদের সভাপতি দিপঙ্কর শিকদার দিপুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সহসভাপতি ড. বিপ্লব ভট্টাচার্য, অসীম দেবনাথসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এআই/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন