রবিবার ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

পেঁয়াজের গুণাবলী ও পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া

নভেম্বর ১৫, ২০১৯ | ৬:২০ অপরাহ্ণ

এমন কোন বাঙালি বাড়ি নাই, যার রান্নাঘরে পেঁয়াজ খুঁজে পাওয়া যাবে না। খাবারের স্বাদ বাড়াতে মসলা হিসেবে আবার কখনো সালাদ হিসেবে কাঁচা পেঁয়াজ খেয়ে থাকি আমরা। পেঁয়াজের গুণাবলী যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে নানা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া।  আসুন দেখে নেই পেঁয়াজের পুষ্টিগুণ থেকে শুরু করে এর নানা ব্যবহার।

বিজ্ঞাপন

একজন শেফ হিসেবে আমি পেঁয়াজ দিয়ে যেমন নানারকম রান্না করি তেমনি পেঁয়াজ ছাড়াও অনেক কিছু রান্না করি। দেশি রান্নায় ঝোল ঘন করতে পেয়াজের ব্যবহার বেশি যেমন- মাছের ঝোল, মুরগীর ঝোল ও নানারকম ভুনা ইত্যাদি।

বিদেশি কিছু রান্তেনায় পেঁয়াজ লাগলেও সব রান্নায় পেঁয়াজের প্রয়োজন হয় না। যেমন স্টেক, কাবাব, সালাদ, চিকেন ফ্রাই, চিকেনের অনেক রকম রেসেপি, ফিস ফ্রাই, স্যুপ, নানারকম খাবার রয়েছে যাতে পেঁয়াজের ব্যবহার নেই।

একটি বড় পেঁয়াজে ৮৬.৮ শতাংশ পানি, ১.২ শতাংশ প্রোটিন, ১১.৬ শতাংশ শর্করা, ০.১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম, ০.০৪ শতাংশ ফসফরাস ও ০.৭ শতাংশ লোহা থাকে। রয়েছে খাদ্য আঁশ, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন,  ভিটামিন এ, বি ও সি।  অল্প পরিমাণে ক্যালসিয়াম, লোহা, ফোটা, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস কোরাসিটিন এবং সালফারও রয়েছে পেঁয়াজে। তাই প্রতিদিন ১০০ গ্রাম থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত পেঁয়াজ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

বিজ্ঞাপন

রান্না ছাড়াও নানাভেব পেঁয়াজ ব্যবহার করতে পারি আমরা। রইলো কিছু নমুনা-

ডায়াবেটিস রোধে
পেঁয়াজ শরীরের ইনসুলিন উৎপাদন বাড়িয়ে ডায়াবেটিস রোধ করতে সাহায্য করে। তাছাড়া রক্তে চিনির পরিমাণ ঠিক রাখতেও সাহায্য করে।

জ্বর, সর্দি- কাশি দূর করতে
জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি, গলা ব্যথা, এলার্জি ইত্যাদি খুব দ্রুত পেঁয়াজের দ্বারা দূর  করা সম্ভব। পেঁয়াজের রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে তাৎক্ষণিকভাবেই রোগ নিরাময় হয়।

রক্তপাত বন্ধ করতে
নাক দিয়ে রক্ত পড়লে, এক টুকরা পেঁয়াজ নাকের সামনে নিয়ে নিঃশ্বাস নিলে, রক্তপাত ধীরে ধীরে কমে যাবে।

হজম সমস্যায়
পেঁয়াজ পাচনতন্ত্রের উন্নয়নে কাজ করে। যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে তারা পেঁয়াজ খেলে ফলে হজম রস বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সমস্যা নিরাময় হয়।

ক্ষত সারতে
পোড়া ত্বকে, পোকা-মাকড় বা মৌমাছি কামড় দিলে সেই জায়গায় পেঁয়াজের রস লাগালে তা ক্ষত সারতে সাহায্য করে। যদিও কিছুটা জ্বলতে পারে।

ক্যান্সার রোধে
ক্যান্সার রোধ করতেও পেঁয়াজ সাহায্য করে। এটি মাথা, ঘাড় ও কোলন ক্যান্সার দূর করতে সাহায্য করে।

রোগ-প্রতিরোগে
পেঁয়াজে রয়েছে অ্যান্টি-বায়োটিক, অ্যান্টি-সেপ্টিক, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান। তাই রোগের সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে এটি।

ব্যাথা নিরাময়ে
শরীরের যেকোনো ব্যথা দূর করতে পেঁয়াজ ব্যাবহার করা যায়। এর জন্য তিলের তেল অথবা রেড়ীর তেলের সাথে পেঁয়াজ ভেজে নিতে হবে। তারপর ব্যথার জায়গায় লাগিয়ে রাখুন।

ত্বকের কাল দাগ দূর করতে
ত্বকের কাল দাগ দূর করার জন্য পেঁয়াজ ও হলুদের রস একসাথে মিশিয়ে লাগিয়ে রাখুন। অনেক উপকার পাবেন।

চুল পড়া রোধ করতে
চুল পড়া রোধ করার জন্য মাথায় পেঁয়াজের রস ব্যাবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।

গ্যাসের সমস্যায়
পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে পানি রয়েছে। তাই কাহাবার হজমের মাধ্যমে গ্যাসের সমস্যা দূর করতে এটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

গাছকে পোকা থেকে রক্ষা করতে
৪ টি পেঁয়াজ বাঁটা, ২ টেবিল চামচ লাল মরিচ গুঁড়ো, ২ কোয়া রসুন আর পানি ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার দুই গ্যালন পানিতে দুই টেবিল চামচ সাবান মিশিয়ে নিন। এই সাবান পানির মধ্যে মসলা মেশান। একটি স্প্রে বোতলে এই মিশ্রণটি ঢুকিয়ে গাছে স্প্রে করুন। এটি আপনার গাছকে বিভিন্ন পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে।

রঙের গন্ধ দূর করে
ঘরে নতুন রং করালে এক ধরণের গন্ধ থাকে। এক টুকরা পেঁয়াজ কেটে পানিতে ডুবিয়ে নতুন রং করা ঘরের এক কোণায় রেখে দিন। পেঁয়াজ রঙের গন্ধ সম্পূর্ণ শুষে নেবে।

মরিচা দূর করতে
ছুরিতে প্রায় সময় মরিচা ধরে থাকে। একটি বড় পেঁয়াজ কাটুন মরিচা ধরা ছুরি দিয়ে। একবারে সম্পূর্ণ মরিচা দূর না হলে আবারও পেঁয়াজ কাটুন।

হাঁড়ি পাতিলের পোড়া দাগ দূর করতে
অনেক সময় তরকারি পুড়ে হাড়ি-পাতিলে পোড়া দাগ হয়। এই দাগ দূর করতে পেঁয়াজ অনেক কার্যকরী। পেঁয়াজের রস দিয়ে পোড়া হাঁড়ি-পাতিল পরিষ্কার করুন। দেখবেন পোড়া দাগ একদম দূর হয়ে গেছে।

চুলা পরিষ্কার করতে
তেল, চর্বিতে চুলা তেল চিটচিটে হয়ে যায়। এই তেল চিটচিটে ভাব দূর করে চুলা পরিষ্কার করতে পেঁয়াজের জুড়ি নেই। পেঁয়াজের রস এবং সমপরিমাণে লবণ মিশিয়ে নিন। এটি দিয়ে চুলার দাগের ওপর ঘষুন। কিছুক্ষণ পর দেখবেন সব দাগ দূর হয়ে গেছে।

পেঁয়াজ খাওয়ার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
রান্না করে খেলে পেঁয়াজের তেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি নাই বললেই চলে। টানা ছয় সপ্তাহ ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পেঁয়াজ খেলে তেমন একটা ক্ষতির সম্ভাবনা নাই। অতিরিক্ত পেঁয়াজ খেলে ত্বকে হালকা একজিমা বা জ্বালাপোড়া ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেট খারাপ বা পেটেব্যাথার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেকের হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি নিয়মিত হজমে সমস্যা দেখা দেয় তবে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে পেঁয়াজ খাওয়ার পরিমাণ জেনে নেবেন।

অনেকসময় অনেক ওষুধ চলার সময় পেঁয়াজ খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। রক্ত জমাট বাঁধতে দেরী করাতে পারে। তেমন ঝুঁকি থাকলে আপনার চিকিৎসকই সেটা বলে দেবেন।

অনেকের পেঁয়াজ খেলে এলার্জি দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শই শেষ কথা।

পেঁয়াজ রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে বলে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে পেঁয়াজ খাওয়ার মাত্রার ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেননা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন