শনিবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

নেতিবাচক সংবাদে ফের সমালোচিত বিবিসি বাংলা

নভেম্বর ১৫, ২০১৯ | ১০:২১ অপরাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

ঢাকা: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করে ফের সমালোচনার মুখে পড়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিবিসি বাংলার নিজস্ব পাতায় শেয়ার দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাত সোয়া ৯টা পর্যন্ত দেখা যায়— পোস্টটিতে সাড়ে ৭ হাজার পাঠক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মন্তব্য করেছেন ৬৭৯ জন। এর আগে গত ১৩ নভেম্বর ‘ইসলামিক স্টেটের আনুগত্য স্বীকারকারী এই দশজন কি বাংলাদেশি’ শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশ করে বিবিসি বাংলা।

ভিজ্যুয়াল স্টোরিতে আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও সাংবাদিক তাসনীম খলিল। বিবিসি বাংলার পক্ষে প্রশ্ন করেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

ফেসবুকে বিবিসি বাংলার টপ ফ্যানদের মন্তব্যে দেখা যায়, সংবাদটি পাঠকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। বরং বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তারা মনে করছেন, সংবাদটি উস্কানিমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিজ্ঞাপন

শেখ আবদুল্লা নামে এক পাঠক মন্তব্য করেছেন, ‘কনফার্ম না হয়ে এ রকম একটি স্পর্শকাতর (বিভ্রান্তিকর) তথ্য প্রচার করাটা আমার দেশের জন্য কতটা নিরাপদ তা আমার বোধগম্য নয়। যেন মনে হচ্ছে তথ্য দাতা খুবই উদগ্রীব এটা প্রমাণ করার জন্য যে এটা বাংলাদেশের!!!’

প্রতীক বিশ্বাস মন্তব্য করেছেন, ‘একটা জিনিস খুব গভীর ভাবে লক্ষ্য করছি গত কয়েকদিনের বিবিসি বাংলার খবরের আইটেমগুলো দেখে। অধিকাংশ খবর উস্কানিমূলক এবং সাম্প্রদায়িক বিভ্রান্তিমূলক বাংলাদেশের জনগণের জন্য। উদ্দেশ্য যদি খারাপ হয় এর ফল আমাদেরই ভোগ করতে হবে।’

ফেসবুক ব্যবহারকারী কেউ কেউ এতে আতঙ্কিত বোধ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন।

এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ সারাবাংলাকে বলেন, ইসলামিক স্টেটে (আইসিস) দু’চারজন বাংলাদেশি থাকাটা খুব অস্বাভাবিক না। বরং সে ঘটনা আছে। তবে তার সংখ্যা খুব বেশি না। আইসিস যখন হুজুক তুলেছিল তখন সারাবিশ্ব থেকেই যুবকরা সিরিয়াতে গিয়েছিল। কোনো দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করা গেলে বৈদেশি পরাশক্তির হস্তক্ষেপ করা সহজ হয়। বৈদেশিক ভূ-রাজনীতির অংশ এটি। জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করা গেলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় যেমন, অন্যদিকে বৈদেশিক পরাশক্তির সেই স্বার্থ হাসিল হয়। বিবিসি বাংলা’র এই সংবাদ সেই পথ বের করার একটা চেষ্টা বলে আমি মনে করি।

আব্দুর রশিদ আরও বলেন, আমরা দেখেছি, জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো পরাশক্তির সহায়তা ছাড়াই বাংলাদেশ শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করেছে। বাংলাদেশে যখন জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব প্রায় শূন্যের কাছাকাছি, তখন এই ধরনের প্রচারণা বাস্তবসম্মত বলে আমি মনে করি না। হলি আর্টিজানের পরপরই হলেও সাধারণ জনগণের কাছে বিষয়টি গ্রহণযোগ্যতা পেত। এত দিন পরে এই সংবাদ সাধারণ জনগণের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। যেখানে বাংলাদেশের পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস হলো— বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের জঙ্গি সংগঠনকেও জায়গা দেয় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মফিজুর রহমান বলেন, আমরা দেখেছি দেশে যে ক’বার জঙ্গিবাদের উত্থানের চেষ্টা হয়েছে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেগুলো সাকসেসফুলি প্রতিরোধ করেছে। বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্রিফিং থেকে এই বিষয়টা স্পষ্ট পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। বিবিসি’র মতো সংবাদ মাধ্যমের কাছে আমরা আসলে দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক শিবলী নোমান সারাবাংলাকে বলেন, বিবিসি বাংলার এই ধরনের সংবাদ মস্তিষ্কে প্রশ্ন তৈরি করে। এটা নিয়ে ভাবার রয়েছে। তাসনীম খলিলের তথ্যেও কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। ভয়েস অব আমেরিকাসহ আরও কিছু সাইট দেখলে এই অসঙ্গতিগুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এর আগে ‘বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পর বাংলাদেশে উত্তেজনার দিনগুলো’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে সমালোচিত হয় বিবিসি বাংলা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এটি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন