শনিবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখানের জবাবে ছুরিকাঘাত

নভেম্বর ১৫, ২০১৯ | ১০:০৮ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ভাড়া করা অপরাধী দিয়ে এক মেধাবী ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করা হয়েছে। মেয়েটিকে হত্যাচেষ্টার পরদিন বিয়ের প্রস্তাবকারী ওই যুবক বিদেশে চলে গেছে। পুলিশ হামলায় জড়িত একজনকে গ্রেফতারের পর সে আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্বজনেরা জানিয়েছেন, মেয়েটি এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছেন। হামলায় আহত মেয়েটি এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় দিন পার করছেন। একইসঙ্গে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকালে নগরীর কোতোয়ালী থানার সার্সন রোডে ‘চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুলের’ সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার শিক্ষার্থীর বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়।

এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আবু নেওয়াজ শরীফ (২৪) নোয়াপাড়া গ্রামের মাস্টার আবু জাফরের ছেলে। সে চট্টগ্রাম নগরীর ওমরগণি এমইএস কলেজ থেকে এবার এইসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হামলার শিকার শিক্ষার্থীর ভাই সারাবাংলাকে জানান, তার বোন ২০১৭ সালে তাদের গ্রামের একটি স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। এবছর চট্টগ্রামের সরকারী হাজী মুহম্মদ মহসীন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। স্কুলে তার সহপাঠী ছিল একই গ্রামের আব্দুল জব্বর সিকদার পাড়ার মো. জাফরের ছেলে নুরুল কাদের।

তার ভাই বলেন, ‘স্কুলে পড়ার সময় থেকেই নুরুল কাদের আমার বোনকে উত্ত্যক্ত করত। এসএসসি পরীক্ষার পর সে ওমান চলে যায়। তিনমাস আগে দেশে ফিরে সে আমাদের বাসায় বোনকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমার আব্বা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে সে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বোনকে হত্যার চেষ্টা করেছে। নুরুল কাদের কৌশলে আমার বোনের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে চট্টেশ্বরী মোড়ে আসে। আমার বোন সরল বিশ্বাসে দেখা করার জন্য গেলে তিনজন মিলে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে ছুরিকাঘাত করেছে। স্থানীয় লোকজন আমার বোনকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

এদিকে এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) ভোরে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে আবু নেওয়াজ শরীফকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় শরীফ ঘটনার দায় স্বীকার করে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সরওয়ার জাহানের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে শরীফ জানিয়েছে- চারজন মিলে হামলা করেছে। শরীফ, তারেক, মেহেদী ও তার এক বন্ধু হামলায় অংশ নেয়। নুরুল কাদের, শরীফ ও তারেক একই গ্রামের বাসিন্দা এবং বন্ধু। মেহেদী নুরুল কাদেরের পরিচিত। হামলার জন্য মেহেদীকে নুরুল কাদের ৫ হাজার টাকা দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী নুরুল কাদের ইয়াছমীনকে তাদের সামনে নিয়ে আসে এবং তারা হামলা করে। পরদিন নুরুল কাদের ওমানে চলে যায়।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন সারাবাংলাকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা গ্রেফতার অভিযানে নামি। যতটুকু জানতে পেরেছি, মূল পরিকল্পনাকারী নুরুল কাদের দেশে নেই। একজনকে গ্রেফতার করতে পেরেছি। বাকিদেরও গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।’

ওই শিক্ষার্থীর ভাই বলেন, ‘আমার বোন হাসপাতালে যন্ত্রণায় ছটফট করছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। মানসিকভাবেও সে ভেঙে পড়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিল। যতটুকু শুনেছি, সে চারুকলায় টিকেছে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন