শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ভারতের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হার বাংলাদেশের

নভেম্বর ১৬, ২০১৯ | ৪:১৫ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

ইন্দোরে প্রথম টেস্টে ভারতের কাছে ইনিংস এবং ১৩০ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের বিপক্ষে ৩৪৩ রানের পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নামে মুমিনুল হকের দল। আর চা বিরতির পর মাত্র ২১৩ রান তুলতেই ইনিংস গুটিয়ে যায় সফরকারি বাংলাদেশের।

বিজ্ঞাপন

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ১৫০ রানের বিপরতিতে ভারতীয় ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ২৪৩ রানে ভর করে ৪৯৩ রান তুলে ইনিং ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ১০ রানে ওপেনার ইমরুল কায়েস ৬ রান করে ফিরে যান সাজঘরে। ভারতের হয়ে দিনের প্রথম আঘাত হানেন উমেষ যাদব।

ইমরুলের ফেরাটা যেন মেনে নিতে পারলেন না সাদমান। আর তাই তো ইমরুলের দেখানো পথেই  ইশান্ত শর্মার শিকার হয়ে ফিরে যান এই ওপেনারও। এরপর বাকি ব্যাটসম্যানরা যেন আসা যাওয়ার মিছিলে নেমে পড়েন টাইগার ব্যাটসম্যানরা। আর তারই ধারাবাহিকতায় উইকেটে নেমে থিতু হতে না হতেই বিদায় নেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। ব্যক্তিগত মাত্র ৭ রানে তাকে এলবি'র ফাঁদে ফেলেন মোহাম্মদ সামি। বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৩৭ রান হতে না হতেই টাইগারদের তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান পাড়ি জমান প্যাভিলিয়নে।

এরপর স্কোরবোর্ডে ৭ রান যোগ করতে আবারও আঘাত হানেন মোহাম্মদ সামি। দলীয় ৪৪ রানে ১৮ রান করা মোহাম্মদ মিঠুন আগারওয়ালের তালুবন্দি হয়ে ফিরলে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ। তবে তিনিও প্রথম ইনিংসের ন্যয় দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ ব্যাট হাতে। ১৫ রান করা রিয়াদকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন সামি।

বিজ্ঞাপন

রিয়াদের বিদায়ের পর মুশফিককে সঙ্গ দিতে উইকেটে আসেন লিটন দাস। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাটিং করতে থাকেন তিনি। মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা বিপর্যয় সামাল দেন তিনি। গড়েন বাংলাদেশের দুই ইনিংস মিলিয়ে প্রথম অর্ধশতকের রানের জুটিও। তবে বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি লিটন। আশ্বিনের শিকার হয়ে ৩৫ রানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

লিটন ফিরলেও উইকেটের এক প্রান্ত আঁকড়ে থাকেন মুশি। এরপর মিরাজকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন মুশফিক। ৫০ রানের জুটি গড়ার পাশাপাশি তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২০তম হাফ সেঞ্চুরি। তবে খুব বেশিদূর যেতে পারেননি মিরাজকে নিয়ে। চা বিরতির পরপরই উমেষ যাদবের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর গড়েই ফেরেন প্যাভিলিয়নে। তিনি করেন ৩৮ রান। এরপর উইকেটে আসা তাইজুলও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি উইকেটে। ৬ রান করে মোহাম্মদ সামির চতুর্থ শিকার হয়ে ফেরেন সাজঘরে। ঠিক তাঁর পরপরই আশ্বিনের বল ডাউন দ্য উইকেটে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে পূজারার তালুবন্দি হন মুশফিকুর রহিম।

মুশফিকের আউটে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়টা এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। সবশেষে এবাদাত হোসেনের উইকেট নিয়ে সেই শঙ্কা পূর্ণ করেন আশ্বিন। দ্বিতীয় ইনিংসে সবক'টি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২১৩ রান। আর ইনিংসসহ ১৩০ রানের লজ্জাকর হার বরণ করতে হয়ে টাইগারদের। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন মোহাম্মদ সামি, ৩টি উইকেট নেন রবিচন্দ্রন আশ্বিন, দুটি উইকেট নেন উমেষ যাদব আর একটি উইকেট নেন ১টি উইকেট।

এর আগে ১ম ইনিংসে সবক'টি উইকেট হারিয়ে মুমিনুলের দল সংগ্রহ করে ১৫০ রান। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিকুর রহিম। ভারতের পক্ষে ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন ইশান্ত শর্মা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিন শেষে ভারত ৬ উইকেটের বিনিময়ে ৪৯৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ভারতের হয়ে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলেন ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়াল। ব্যক্তিগত ২৪৩ রানে আবু জায়েদ রাহীর শিকার হয়ে ফিরে যান তিনি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট তুলে নেন আবু জায়েদ রাহী। আর বাকি দুই উইকেটের মধ্যে পেসার এবাদত এবং মেহেদী হাসান মিরাজ নেন একটি করে উইকেট।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন