রবিবার ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

রাবি শিক্ষার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে

নভেম্বর ১৬, ২০১৯ | ১:১৪ অপরাহ্ণ

রাবি করেসপন্ডেন্ট

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সোহরাব নামে এক শিক্ষার্থীকে কাঠের টুকরো দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার সোহরাব মিয়া ফাইন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে এ  ঘটনা ঘটে।

আহত অবস্থায় সোহরাবকে প্রথমে রাবি মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছে। এখন তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। তার মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানান সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা।

মারধরে অভিযুক্তরা হলেন শামছোজ্জোহা হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী আসিফ লাক ও হুমায়ুন কবির নাহিদ। এরা দুইজনেই রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ল্যাপটপ চুরির সন্দেহে ছাত্রলীগ কর্মী আসিফ লাকের নেতৃত্বে সোহরাবসহ ফ্যাইনান্স বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হলের ছাদ থেকে তৃতীয় ব্লকের ২৫৪ নম্বর কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে সোহরাবকে নানা রকম কথা জিজ্ঞাসাবাদ করে আসিফ লাক ও হুমায়ুন কবির নাহিদ। এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তারা দুজন সোহরাবকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে সোহরাব রক্তাক্ত হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

হাসপাতালে সোহরাবের সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা জানান, সোহরাবের বাম হাতের কনুইয়ের ওপর ও নিচে দুই জায়গায় ভেঙে গেছে। ডাক্তার বলেছেন, মাথার তিন জায়গায় সেলাই দেওয়া হয়েছে । তার রক্তক্ষরণ হওয়ায় আপাতত এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে সিটিস্ক্যান করানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোহরাবের এক সহপাঠী বলেন, ‘গত দুদিন আগে ল্যাপটপ চুরি ঘটনায় সন্দেহের জের থেকেই সোহরাবসহ আরো কয়েকজনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন আসিফ লাক। একপর্যায়ে সোহরাবকে মারধর করা হয়।’

এদিকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত আসিফ বলেন, ‘আমার রুম থেকে গত দুদিন আগে চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক ও বন্ধুর একটি ল্যাপটপ চুরি হয়েছে। গত রাতে সোহরাব বহিরাগতের নিয়ে হলের ছাদে বসে গাঁজা সেবন করছিলো। আমরা তাদের সন্দেহের বশে জিজ্ঞেস করি কিন্তু এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে।’

জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘গতরাতে ঘটনার পরেপরেই সোহরাবকে নিয়ে আসে আমাদের কাছে। আমি ও সেক্রেটারি রুনু অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দিই। রাতে মেডিকেল গিয়ে তার সার্বিক খোঁজখবর রাখি। আর এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেবো।’

শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জুলকারনাইন সকাল ৯টা পর্যন্ত এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি বলেও জানান নি। তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

 

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন