বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

অ্যাপের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে জঙ্গিরা: র‌্যাব

নভেম্বর ১৬, ২০১৯ | ৬:৩২ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘তারা ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়। তারা চায় না কেউ তাদের মতের বিরুদ্ধে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করুক। কেউ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তাদেরকে টার্গেট করে তারা। তবে চূড়ান্ত পরিকল্পনার আগে তারা কারও ওপর হামলা করে না। আর হামলা করলেও দলবদ্ধ হয়ে নয়, এককভাবে হামলা করে থাকে। এমনকি তারা কখনও দলবদ্ধ হয় না। তাদের যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য যোগাযোগ রক্ষা করে ইন্টারসেফ অ্যাপ।’

বিজ্ঞাপন

আনসার আল ইসলামের কার্যক্রম সম্পর্কে বলছিলেন র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক। শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

এর আগে গতকাল রাতে রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুর ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পৃথক অভিযান চালিয়ে আনসার আল ইসলামের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী বই, মোবাইল, ল্যাপটপ ও জঙ্গিবাদের ট্রেনিংসহ বিভিন্ন ধরনের নথি উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শফিকুল ইসলাম ওরফে সাগর ওরফে সালমান মুক্তাদির (২১), ইলিয়াস হাওলদার ওরফে খাত্তাব (৩২), ইকরামুল ইসলাম ওরফে আমীর হামজা (২১), আমীর হোসাইন ওরফে তাওহীদি জনতার আর্তনাদ (২৬), শিপন মীর ওরফে আব্দুর রব (৩৩) এবং ওয়ালিউল্লাহ ওরফে আব্দুর রহমান (২৫)।

বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত সবাই ২ থেকে ৫ বছর ধরে আনসার ইসলামের সঙ্গে জড়িত। তারা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপক্ষে। তাদের উদ্দেশ্য যেকোনো মূল্যে কথিত ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা। আর যারা ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাদেরকে প্রতিহত করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আনসার আল ইসলাম বর্তমানে মূলত দুই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রথমত, মোটিভেশনাল কার্যক্রমের মাধ্যমে সদস্য বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তারা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দ্বিতীয়ত, তারা মনে করে সবাইকে হত্যা করে ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তবে যারা সরাসরি ইসলামি রাজনীতির বিরোধিতা করেন, যারা নাস্তিক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় সংগঠনের সদস্যরা।’

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এইজন্য সংগঠনের সদস্যরা অনলাইনে ইন্টারসেফ অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। বড় কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া তারা সাধরণত এক সঙ্গে জড়ো হয় না। নিজেদের মধ্যে পরিচিত না হয়েই তারা কাটআউট পদ্ধতিতে চলাচল করে সংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। যখনই তারা মনে করে, কাউকে প্রতিহত করতে হবে তখনই এককভাবে ওই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পর আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা নেয়।’

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অতীতের ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আনসার আল ইসলামের সদস্যরা টার্গেটকৃত ব্যক্তির ওপর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় না। তারা এক্ষেত্রে সাধারণত চাপাতি ব্যবহার করে থাকে। অতীতের কোনো কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে এসব ঘটনাকে তারা জায়েজ বলে মনে করে। সুনির্দিষ্ট কোথায় হামলা করা হতো, এ বিষয়ে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সালমান মুক্তাদির দেশব্যপী অনলাইনে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। আব্দুর রহমান ঢাকা এবং আমির হামজা খুলনা বিভাগের সংগঠন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএইচ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন