শনিবার ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত করা হবে’

নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ১২:৩০ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তের ফাইল তৈরির কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী চাইলে এ পরীক্ষা তুলে দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ম শ্রেনি পর্যন্ত করা হবে। তবে এরইমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ দানের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৭ নভেম্বর) রাজধানীর ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এসব তথ্য জানান।

জাকির হোসেন বলেন, শিক্ষা নীতিমালা-২০১০ অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ৮ম শ্রেনিতে উন্নীত করা হচ্ছে। পরীক্ষা থাকবে কি থাকবে না সে সংক্রান্ত ফাইল তৈরির কাজ চলছে।

তবে এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা কমাতে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা তুলে দিয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা হবে। এর মাধ্যমে ছোট ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা কমে যাবে। তবে এ কার্যক্রম ২০২০ সাল থেকে চালু করার চিন্তাভাবনা থাকলেও এ বছর থেকে ১০০ টি বিদ্যালয়ে তা পাইলটিং করা হবে। এতে সফলতা আসলে ২০২১ সাল থেকে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তা চালু করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সারাদেশে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ১৭ নভেম্বর (রোববার) শুরু হওয়া এই পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ২৪ নভেম্বর।

এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা সুন্দরভাবে শেষ করতে মনিটরিং সেলের সঙ্গে জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনোভাবে যেন প্রশ্নফাঁস না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি করছে। পরীক্ষার আগে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানো কয়েকটি লিংক সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় একটি মামলা দায়েরও করা হয়েছে।

এ বছর খাতা মূল্যায়ন বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, পঞ্চম শ্রেনির খাতা মূল্যায়ন নিয়ে প্রতিবছর নানা ধরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ কারণে এবছর এক উপজেলার খাতা অন্য উপজেলায় মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতি বছর ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকে, তাই এ জন্য একটি আলাদা বোর্ড তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। সমাপনী-ইবতেদায়ী পরীক্ষা আয়োজনে একটি বোর্ড তৈরি করাটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে আক্রান্ত জেলাগুলোর সকল কেন্দ্রে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, বুলবুলে আক্রান্ত বিভিন্ন জেলায় নানা ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেসব স্থানে পরীক্ষা কেন্দ্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ কারণে সেসব জেলায় নির্ধারিত সকল বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এবার সারাদেশে মোট সাত হাজার ৪৭০টি কেন্দ্রে মোট ২৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৬৭ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ১১ লাখ ৮১ হাজার ৩০০ জন ও ছাত্রী সংখ্যা ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৯৬৭ জন।

ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় তিন লাখ ৫০ হাজার ৩৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। যার মধ্যে ছাত্র সংখ্যা এক লাখ ৮৭ হাজার ৮২ এবং ছাত্রী সংখ্যা এক লাখ ৬৩ হাজার ২৮৯ জন। দেশের বাইরে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬১৫ জন।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়িতে গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে দুই লাখ ২৩ হাজার ৬১৫ জন। সমাপনীতে ছয়টি বিষয়ের প্রতিটিতে ১০০ করে মোট ৬০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৩ হাজার ৩৪৭ জন এবং ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ২৩৬ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

পরীক্ষার সূচি:

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা: ১৭ নভেম্বর ইংরেজি, ১৮ নভেম্বর বাংলা, ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২০ নভেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২১ নভেম্বর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং ২৪ নভেম্বর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা: ১৭ নভেম্বর ইংরেজি, ১৮ নভেম্বর বাংলা, ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং বিজ্ঞান, ২০ নভেম্বর আরবি, ২১ নভেম্বর কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং ২৪ নভেম্বর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিএস/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন