শুক্রবার ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

ভারতের সঙ্গে কী চুক্তি? প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে চায় বিএনপি

নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ২:২৮ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গত ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর পূর্ণ বিবরণ জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে এ লক্ষ্যে একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৭ নভেম্বর) সকালে চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছে দেন বিএনপির দুই যুগ্ম সচিব খায়রুল কবির খোকন ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে থাকায় তার পক্ষে চিঠিটি গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতটি চুক্তি-সমঝোতাই সই করেন। পাশাপাশি তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

বিজ্ঞাপন

যেসব বিষয়ে সমঝোতা ও চুক্তি

- সমঝোতা স্মারকের আওতায় ফেনী নদীর ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করতে পারবে ভারত। ওই পানি তারা ত্রিপুরা সাবরুম শহরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ব্যবহার করবে।

- উপকূলে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থার বিষয়ে সই হয়েছে একটি সমঝোতা স্মারক।

- চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্র বন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের বিষয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর- এসওপি সই হয়েছে।

- বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতের ঋণ প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি হয়েছে।

- সহযোগিতা বিনিময়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব হায়েদ্রাবাদের মধ্যে।

- সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিনিময় নবায়ন এবং যুব উন্নয়নে সহযোগিতা নিয়ে সই হয়েছে দুটি সমঝোতা স্মারক।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব' দেয়ার কথা জানিয়েছেন।

এছাড়া চুক্তি সইয়ের পর যৌথভাবে তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন দুই সরকারপ্রধান।

প্রকল্প তিনটি হলো- খুলনায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বাংলাদেশ-ভারত প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে বিবেকানন্দ ভবন ও বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এলপিজি আমদানি প্রকল্প।

যা আছে বিএনপির চিঠিতে

প্রধানমন্ত্রীর দফতরে দেওয়া চিঠিতে বিএনপির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে,  জাতীয়-আন্তর্জাতিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সব চুক্তিতে জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি তথা বাংলাদেশ বিরোধী চুক্তি হিসেবে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কিন্তু সরকার এই বিষয়ে নির্বিকার।

বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বিএনপি চিঠিতে জানান, চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

‘ভারত দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি সংক্রান্ত চুক্তি ঝুলিয়ে রেখেছে। অথচ ফেনী নদী থেকে ভারতকে পানি উত্তোলনের চুক্তি, বাংলাদেশের উপকূলে ভারতের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে সহযোগিতা বিনিময়ের নামে ভারত আমাদের উপকূলে রাডার স্থাপনে চুক্তি এবং মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের মতো স্পর্শকাতর জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট চুক্তি সই করার আগে বিষয়টি নিয়ে কখনও কোনো ধরনের পাবলিক ডিবেট অনুষ্ঠিত হয়নি। কিংবা জনগণের মতামত নেওয়া হয়নি।’

বিএনপির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের আর্টিকেল ১৪৫ (ক) অনুযায়ী ভারতের সঙ্গে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সব চুক্তির পূর্ণ বিবরণী অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদ ও জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

সারাবাংলা/এনআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন