শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বছরে ছয় লাখের বেশি প্রিম্যাচিউর শিশুর জন্ম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ৬:৩১ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে প্রতিবছর ছয় লাখের বেশি শিশুর নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম (প্রিটার্ম/প্রিম্যাচিউর বার্থ) হয়। মায়ের সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা গেলে প্রিম্যাচিউর বার্থ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্ক্যানো ইউনিট বাড়িয়ে শিশুদের ক্যাঙ্গারু কেয়ার দেওয়া গেলে প্রিম্যাচিউর শিশু মৃত্যুর হার কমবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ফলে মায়েরা প্রয়োজনীয় যত্নটুকু পায় না। সুষম খাদ্য পায় না। আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হলো, এখনো ১৯টি জেলায় স্ক্যানো ইউনিটের সুবিধা নেই। এসব জায়গায় আমরা দ্রুত এই সেবা চালু করব।

রোববার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় নবজাতক স্বাস্থ্য সম্মেলন এবং বিশ্ব প্রিম্যাচিউরিটি দিবস ২০১৯ উপলক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ যৌথভাবে এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখনো গ্রামে প্রায় ৫০ শতাংশ শিশুর জন্ম বাড়িতে হয়। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানো গেলে মাতৃ মৃত্যুর হারও কমানো যাবে। আমরা চাই, একজন মাও বিনা চিকিৎসায় মারা যাবেন না।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে জনবল সংকটই স্বাস্থ্য খাতে আমাদের এক নম্বর সমস্যা। সেই সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও এই খাতে বাংলাদেশের অর্জন অনেক। আমরা বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে আছি। শিশু মৃত্যুর হার, মাতৃ মৃত্যুর হার আমরা অনেক কমিয়ে আনতে পেরেছি। দেশের সব জায়গায় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবাকে আরও এগিয়ে নিতে আমরা নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ ও ইনস্টিটিউট চালু করছি। হাসপাতালগুলোতে আমরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের জনবল নেই। আমাদের সবচেয়ে বড় চাহিদা হলো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনবল বাড়ানো। আমাদের দেশে অনেক ক্লিনিক, হাসপাতাল হয়েছে। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেক যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। এখন যদি সঠিক জায়গায়, সঠিক সংখ্যায় আমরা জনবল দিতে পারি, তাহলেই স্বাস্থ্যখাত সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। এটাই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ— বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রিম্যাচিউর বার্থ ১২ জনে নামিয়ে আনতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা খাতের সবাই সঠিকভাবে কাজ করলে আগামী দুই বছরে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। আমরা দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা প্রসুতি সেবা চালু করার চেষ্টা করছি।

বক্তারা বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর দেড় কোটি শিশুর নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম (প্রিটার্ম/প্রিম্যাচিউর বার্থ) হয়। ফলে অপরিণত বয়সেই অনেক শিশুর মৃত্যু হয়। আমাদের দেশেও অপরিণত বয়সে ৩১ শতাংশ শিশুর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে ক্যাঙ্গারু সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের ডিরেক্টর জেনারেল কাজী একেএম মহিদুল ইসলাম, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের পরিচালক আলম আরা বেগমসহ অনেকে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসবি/এটি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন