শনিবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সকালে বিস্ফোরণ, সন্ধ্যার মধ্যে কেজিডিসিএল’র তদন্ত শেষ

নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটায় পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্যাস লাইনে কোনো লিকেজ প্রাথমিক তদন্তে পায়নি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিল)। গ্যাস লাইনে কোনো সমস্যা থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে কেজিডিসিএল’র গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৭ নভেম্বর) বিস্ফোরণের পরই কেজিডিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক চার সদস্যের এই প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করেন। মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিসেস) প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেনকে প্রধান করে করা কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন- উপ-মহা ব্যবস্থাপক (কোয়ালিটি কন্ট্রোল) প্রকৌশলী আহসান হাবিব, উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী আবু জাহের এবং উপ- মহাব্যবস্থাপক (প্লানিং) প্রকৌশলী শফিউল আলম।

দুপুরে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কমিটির প্রধান সারোয়ার হোসেন সারাবাংলাকে জানান, প্রাথমিক তদন্ত শেষে আজ (রোববার) সন্ধ্যায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, পরিচালক (অপারেশন) এবং কেজিডিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তদন্ত কমিটির কার্যক্রমও সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিস্ফোরণের কারণ জানতে চাইলে সারোয়ার হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের তদন্তে গ্যাসের লাইনে কোনো লিকেজ পাইনি। গ্যাসের লাইন এবং রাইজার অক্ষত পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসার রান্নাঘরে চুলার সঙ্গে সংযোগ লাইনও অক্ষত পাওয়া গেছে। রান্নাঘরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হলে রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হত। কিন্তু সেটা অক্ষত আছে। রান্নাঘরের পাশে আরেকটি কক্ষে বিস্ফোরণ হয়েছে, যার নিচে সেফটি ট্যাংক আছে। এতে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, গ্যাসের লাইন থেকে বিস্ফোরণ হয়নি।’

এদিকে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকেও একটি কমিটি করা হয়েছে। এ নিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে ২টি কমিটি গঠিত হয়েছে।

সিএমপি’র পক্ষ থেকে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন বিশেষ শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পুলিশ সুপার পদমর্যাদা) মঞ্জুর মোরশেদ এবং কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা।

নোবেল চাকমা সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান।

এর আগে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম শরীফ হোসেনকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসমাইল হোসেন বালি, কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও ফায়ার সার্ভিসের দুজন প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে আছেন। দুর্ঘটনা এবং ব্যাপক হতাহতের কারণ অনুসন্ধান করে কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

রোববার (১৭ নভেম্বর) সকালে নগরীর কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা ব্রিক ফিল্ড রোডে বড়ুয়া ভবন নামে একটি পাঁচতলা বাড়ির নিচতলায় বিস্ফোরণে দেওয়াল বিধ্বস্ত হয়। আশপাশের আরও কয়েকটি বাসা এবং দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণে নারী ও কিশোরসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন।

গ্যাসের লাইন ফুটো হয়ে অথবা বদ্ধ ঘরে গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন