বুধবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

যমুনা ব্যাংক ঢাকা প্লাটুনস: অভিজ্ঞতাই হবে ট্রাম্পকার্ড

নভেম্বর ১৮, ২০১৯ | ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

মহিবুর রহমান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

বঙ্গব্ন্ধু বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফটে যমুনা ব্যাংক ঢাকা প্লাটুনস ডেকে নিয়েছে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে। মাশরাফি বিন মুর্ত্তজা, তামিম ইকবাল, শহীদ আফ্রিদী, থিসারা পেরেরা, ওয়াহাব রিয়াজ এই নামগুলো সে কথাই বলবে। যাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএল-২০১৯ আসরের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে দলটি।

বিজ্ঞাপন

কেন বলছি? ক্রিকেট বোদ্ধারা নিশ্চয়ই জানেন, এই নামগুলোর সাথে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খুব যায়। এরা ক্রিকেটের এই ফরম্যাটটিতে এতবেশি অভিজ্ঞ যে একটি ম্যাচের রং কত রকমের হতে পারে তা তাদের জানা। যে কোনো অবস্থা থেকে ম্যাচ বের করে আনার সামর্থ্য রাখেন এদের একেকজন খেলোয়াড়। তার প্রমাণ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে তারা দিয়েছেনও। কাজেই তাদের কাঁধে ঢাকা প্লাটুনস ভরসা রাখতেই পারে।

মাশরাফির কথাই ধরুন না। বিপিএলের প্রথম আসরে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই যাকে কেনার আগ্রহ দেখায়নি। অথচ সেই তিনিই বিপিএল ৬ আসরের ৪টিতে শিরোপা জিতে দেখিয়ে দিয়েছেন! সেই মাশরাফিকে এবার ডেকে নিয়েছে যমুনা ব্যাংকা ঢাকা প্লাটুনস।

বিজ্ঞাপন

রাজনীতির কারণে ক্রিকেটে কিছুটা অনিয়মিত হয়ে পড়া মাশরাফিকে নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন বটে, তবে মাশরাফি সম্পর্কে আসলে শেষ কথাটি তিনি নিজেই বলেন। ফলে অন্য কারো অনুমান করার সুযোগটা কম। শত ইনজুরির পরেও ক্রিকেটে সদর্প অবস্থান দিয়ে যার প্রমাণ তিনি রেখেছেন বারবার। তিনি এমনই একজন ক্রিকেটার যার মনোবল সবসময়ই দৃষ্টান্তস্থাপনকারী। হাঁটুতে একবার দু’বার নয়, ৮ বার অস্ত্রোপচার হয়েছে। এতে করে অনেকে সেখানেই তার ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন। অথচ সেই মাশরাফিই সেখান থেকে প্রবল বিক্রমে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেকে তো বটেই এদেশের ক্রিকেটকেও নিয়ে গেলেন অনন্য এক উচ্চতায়। যা ক্রিকেটপ্রেমি বাঙালি মনে রাখবে।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে টাইগারদের বর্তমান ওয়ানডে দলপতি তার প্রকৃত রূপটি নিয়েই হাজির থাকবেন সে প্রত্যাশা ভক্তদের। তারা মনে করেন, মাশরাফির হাতেই উঠবে এবারের বিপিএল চ্যাম্পিয়নের ট্রফি।

আরেকজন তামিম ইকবাল। যার একার ব্যাটে গেল মৌসুমে শিরোপা জয়ের বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। ফাইনাল ম্যাচে তার শতরানের ইনিংসটি নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। কেবল সেটি কেনো, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তামিমকে ঝলসে উঠতে দেখা গেছে অসংখ্যবার।

ক্রিকেট যারা দেখেন বা খোঁজ রাখেন তাদের সামনে পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদী আর শ্রিলংকান অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরার কথা আশা করি বিস্তারিত বলতে হবে না। পাকিস্তানি অপর পেসার ওহাব রিয়াজের বোলিংও কাউকে মনে করিয়ে দিতে হবে না। মুহুর্তেই এদের যে কেউ বদলে দিতে পারেন যেকোনও ম্যাচের ভাগ্য।

এই নামগুলো আছে বলেই এবারের বিপিএল হয়ে উঠবে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। দারুণ বিষয় হচ্ছে- নামগুলো জড়িয়ে আছে  যমুনা ব্যাংক  ঢাকা প্লাটুনসের সঙ্গে।

সে কথাই বলছিলেন প্লাটুনসের হেড কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। সারাবাংলার সঙ্গে একান্তে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টি অভিজ্ঞতার খেলা। সেভাবেই আমরা দলটা সাজাতে চেষ্টা করেছি। আশা করবো দলটা ভাল ফলাফল করবে।’

তিনি বলেন, এখানে অভিজ্ঞরা যেমন রয়েছেন, তরুণদেরও ডেকে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এরই মধ্যে নেওয়া ১৪ জনের মধ্যে ৫ জন বিদেশি খেলোয়াড়ও রয়েছে। সব মিলিয়ে দলটি দেখতে মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ মনে হচ্ছে,’ বলেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

কেমন ফল প্রত্যাশা করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনই মূল্যায়ন করার সময় ও সুযোগ হয়নি। আরো দু’জন খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেখে শুনে কোথাও ঘাটতে থাকলে সে অনুয়ায়ী খেলোয়াড় নেওয়ার চেষ্টা করবো। তবে সার্বিকভাবে আমি মনে করি, দলটা ভালো এবং ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে।

তবে ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা সে কথাও একবার স্মরণ করিয়ে দিলেন এই হেডকোচ। তিনি বলেন, ‘আপনি ভালো দল করলেই যে ভাল ফলাফল করবেন সেটা বলা যায় না। টি-টোয়েন্টি খেলাটা দলের ভারসাম্যতার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের মোমেন্টামের ওপরও নির্ভর করে। ফলে এখনই শেষ কথা বলার সুযোগ কম। তবে প্রত্যাশা আমরা করতেই পারি।

রোববার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু বিপিএল-২০১৯ আসরের প্লেয়ার্স ড্রাফট। সেখান থেকে যমুনা ব্যাংক ঢাকা প্লাটুনস দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ১৪ জন ক্রিকেটারকে ডেকে নিয়েছে। আরও ২ জন ক্রিকেটার নিতে পারবে দলটি।

যমুনা ব্যাংক ঢাকা প্লাটুনস: মাশরাফি বিন মুত্তর্জা, তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, হাসান মাহমুদ, মেহেদি হাসান, থিসারা পেরারা, লরি ইভানস, আরিফুল হক, মুমিনুল হক, শুভাগত হোম,  ওয়াহাব রিয়াজ, আসিফ আলী, রকিবুল হাসান, জাকির আলী অনীক, লুইস রিস এবং শহীদ আফ্রিদী।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমআরএফ/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন