বিজ্ঞাপন

‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি করতেই প্রধানমন্ত্রী বরাবর বিএনপির চিঠি’

November 18, 2019 | 2:12 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি করতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর চিঠি দিয়েছে বিএনপি। দলটি ভারতবিরোধী রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি, তা বোঝাতে চেয়েছে ওই চিঠিতে। সোমবার (১৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

গত ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর পূর্ণ বিবরণ জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি'র পক্ষ থেকে রোববার (১৭ নভেম্বর) একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন- ভারতের সঙ্গে কী চুক্তি? প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে চায় বিএনপি

বিজ্ঞাপন

এ চিঠির সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর দলের নেতাকর্মীরা এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর কোনো চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু সে চিঠিতে কোনো জায়গায় খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় উল্লেখ নেই। এতে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে, আসলে বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চান কি না?'

তথ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, 'তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে কথা বলে, অসুস্থতা নিয়ে কথা বলে, আসলে তা জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই এমন বক্তব্য দিয়ে থাকেন।'

তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'সত্যি বলতে, ওই সফরে কোনো চুক্তিই হয়নি। যা হয়েছে তা এমওইউ স্বাক্ষর ( সমঝোতা স্মারক) এবং এসওপি। শুধুমাত্র লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ভারত সরকার বাংলাদেশকে যা দিয়েছে, সে চুক্তির আলোকে এক্সিম ব্যাংক ঢাকায় একটা অফিস করবে সেজন্য একটি চুক্তি হয়েছে। অন্য কোনো চুক্তি হয়নি। অথচ বিএনপি চিঠিতে লিখেছে চুক্তি। বিএনপির মতো একটি দল তারা চুক্তি ও এমএইউর মধ্যে পার্থক্য বোঝেন না।'

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো সফর শেষে ফিরে প্রধানমন্ত্রী তা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করবেন। বরাবরের মতো ভারত সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তা করেছেন। এমনকি তিনি সংবাদ সম্মেলন ও সংসদে ব্যাখ্যা দিয়ে ভারত সফরের বিস্তারিত দেশবাসীকে জানিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি যে চিঠি দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে এসব কাজ প্রধানমন্ত্রী করেননি। আসলে তারা যে চিঠি দিয়েছে তা একটি অন্তঃসারশূন্য চিঠি।'

তিনি বলেন, 'আসলে বিএনপি সব বিষয় জেনে বুঝেই রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি করতে এ চিঠি দিয়েছে। তারা চিঠিতে ফেনী নদীর পানি নিয়ে এমওইউ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের জানা উচিত ফেনী নদীতে পানির পরিমাণ ৮০০ কিউসেক, যার ৪০০ ভাগের একভাগ ভারত খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করবে।'

তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'এলপিজি গ্যাস দেশে উৎপাদন হয়না, বিদেশ থেকে আনা হয়।  চট্টগ্রাম, মোংলা বন্দর ব্যবহারে চুক্তি নতুন নয়, এবার এসওপি হয়েছে। এ দুটি বন্দর ব্যবহার করলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।'

'বঙ্গোপসাগরে ভারতের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে রাডার স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ তা পরিচালনা করবে, তাতে কোস্টগার্ড সমৃদ্ধ হবে। এতে বাংলাদেশের লাভ হবে। যা বিএনপি নেতাদের বোধগম্য হয়নি।' মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

এসময় বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন খালেদা জিয়ার ভারত সফরের বেশ কিছু চুক্তির উদাহরণ তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'খালেদা জিয়া সাত চুক্তি করে এসেও তৎকালীন রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেননি। সংসদে বলেননি, এমনকি গণমাধ্যমকেও জানাননি।' তারা কীভাবে এনিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন প্রশ্ন রাখেন তথ্যমন্ত্রী।

সারাবাংলা/জেআর/আইই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন